
ফার্মগেট কেলেঙ্কারিতে প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দক্ষিণ আফ্রিকার সংসদ একটি অভিশংসন কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত সোমবার সংসদের নিম্নকক্ষ জানিয়েছে, তাদের স্পিকার এই তদন্ত কমিটি গঠন করবেন। গত সপ্তাহে দেশের সর্বোচ্চ আদালত রামাফোসার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া পুনর্বহাল করার নির্দেশ দেওয়ার পরই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংবিধানিক আদালত শুক্রবার রায় দিয়েছে যে, চার বছর আগে এই কেলেঙ্কারি নিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া বন্ধ করার সংসদের সিদ্ধান্ত সংবিধানের পরিপন্থী ছিল।
অভিশংসন কমিটি রামাপোসার বিরুদ্ধে থাকা প্রমাণ খতিয়ে দেখবে। এই কেলেঙ্কারির মূল বিষয় হলো প্রেসিডেন্টের মালিকানাধীন একটি খামারে সোফার মধ্যে লুকানো বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা। প্রমাণ পর্যালোচনার পর কমিটি আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর সুপারিশ করবে কিনা, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
ধারণা করা হচ্ছে, এই কমিটি কয়েক মাস ধরে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবে।

২০২০ সালে রামাফোসার ফালা ফালা গেম ফার্মের একটি সোফায় লুকিয়ে রাখা ৪০ লাখ ডলার বিদেশি নগদ অর্থ চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই কেলেঙ্কারি।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট কীভাবে এই অর্থ পেলেন, তিনি তা ঘোষণা করেছিলেন কিনা এবং কেন তা ব্যাংকে না রেখে আসবাবপত্রে লুকানো ছিল—এমন নানা প্রশ্নের মুখে রামাফোসা কোনো ভুল করার কথা অস্বীকার করেছেন।
গত সপ্তাহে তিনি জানান যে অভিশংসন প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করার আদালতের রায়কে তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করেছেন।
কিন্তু সোমবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না। বরং, তিনি একটি স্বাধীন প্যানেলের সেই রিপোর্টকে আইনিভাবে চ্যালেঞ্জ করার পরিকল্পনা করছেন যেখানে তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক অসদাচরণের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
রামাপোসার দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি) এই কেলেঙ্কারি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা আলোচনা করতে মঙ্গলবার তাদের জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির একটি বৈঠক ডেকেছে, এমনটাই জানিয়েছেন দলের একজন মুখপাত্র।
রামাপোসার বিরুদ্ধে এই মামলাটি দুটি বিরোধী দল – ইকোনমিক ফ্রিডম ফাইটার্স (ইএফএফ) এবং আফ্রিকান ট্রান্সফরমেশন মুভমেন্ট (এটিএম) – দায়ের করেছিল। ইএফএফ ২০১৮ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে।
তবে, অভিশংসন কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন প্রতিকূল হলেও প্রেসিডেন্ট সম্ভবত সংসদের নিম্নকক্ষে একটি আস্থা ভোটে টিকে যাবেন, কারণ তাকে পদ থেকে অপসারণ করতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন।
২০২৪ সালের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পরও এএনসি জাতীয় পরিষদে এক-তৃতীয়াংশের বেশি আসন ধরে রেখেছে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা