খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
বিএনএন ডেস্ক

টানা দশদিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর সোমবার রাতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন কিংবদন্তি নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান। আগামী জুনে তিনি ৮৫ বছরে পা রাখার কথা থাকলেও তার আগেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন এই গুণী শিল্পী। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মেয়ে শর্মিষ্ঠা রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ শহীদ মিনারে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পরবর্তীতে বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরেই তাঁকে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১ মে বাসভবনে পড়ে গিয়ে তিনি গুরুতর আহত হন এবং এরপরই তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে প্রথমে গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু সেখানে আইসিইউ সুবিধা না থাকায় পরবর্তীতে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। মাঝে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র খুলে নেওয়া হলেও পুনরায় অবনতি ঘটলে আবারও তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। অবশেষে সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আতাউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের এক পুরোধা ব্যক্তিত্ব। ১৯৪১ সালে নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করা এই বরেণ্য ব্যক্তিত্ব একাধারে অভিনেতা, নির্দেশক ও লেখক হিসেবে সুপরিচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এই নাট্যজন ছিলেন নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। ১৯৭২ সালে 'বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ' নাটকের মাধ্যমে তিনি নির্দেশনা শুরু করেন।
তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে 'গ্যালিলিও', 'রক্তকরবী', 'ঈর্ষা' এবং 'গডোর প্রতীক্ষায়'র মতো কালজয়ী সব নাটকের নির্দেশনা দিয়ে তিনি মঞ্চনাটক আন্দোলনকে সমৃদ্ধ করেছেন।
নাগরিকের হয়ে নিয়মিত নাট্যচর্চার পাশাপাশি তিনি 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' এবং 'বাংলার মাটি বাংলার জল' এর মতো প্রশংসিত নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বইও লিখেছেন। তিনি থিয়েটার ফেডারেশন ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করেছে। তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি।
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন








