খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
বিএনএন ডেস্ক

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নীতি ও বাস্তবায়ন বিভাগ পৃথক করার যে চেষ্টা হয়েছিল, তা প্রকৃতপক্ষে কোনো সংস্কার ছিল না। তিনি একে 'অসম্পূর্ণ উদ্যোগ' হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, কোনো সংস্কার না থাকার চেয়ে অসম্পূর্ণ সংস্কার অধিক সমস্যার সৃষ্টি করে।
সোমবার রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত ‘সোনার বাংলা নীতি আলোচনা ২০২৬’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী জানান, এনবিআরকে দুটি আলাদা ভাগে বিভক্ত করা এখন সময়ের দাবি। তবে করনীতি কে বা কারা তৈরি করবেন, সেটাই প্রধান প্রশ্ন। সরকার চায় না করনীতি আমলাদের প্রভাবাধীন থাকুক। কারণ, কেবল আমলারা নীতি নির্ধারণ করলে গুরুত্বপূর্ণ কোনো সংস্কারের উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। তিনি আরও জানান, অসম্পূর্ণ সংস্কারসংক্রান্ত বিষয়টি বর্তমানে সংসদে বিল হিসেবে আটকে আছে এবং এটি আরও উন্নত করতে একটি কমিটি কাজ করছে।
বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকিসহ দেশের বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা ও অর্থনীতিবিদেরা বক্তব্য দেন।
সরকারি প্রকল্প নিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে চলমান প্রায় ১,৩০০টি প্রকল্পের উপযোগিতা যাচাই করা হচ্ছে। অনেক প্রকল্প অনিয়ম ও ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য হাতে নেওয়া হয়েছিল, যা জনগণের জন্য উপকারী ছিল না। এখন থেকে শুধু জনহিতকর এবং আর্থিকভাবে লাভজনক প্রকল্পগুলোই অব্যাহত রাখা হবে। নতুন প্রকল্প অনুমোদনের সময় অর্থের যথাযথ মূল্য, বিনিয়োগ থেকে লাভ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশ সংরক্ষণকে প্রধান বিবেচনা হিসেবে গণ্য করা হবে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি, সরকার আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে ১ কোটি মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য পূরণে কাজ করছে।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থার কারণে ঘুষ দিতে হয়। যারা ব্যবসা সহজীকরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন, তাদের অপ্রয়োজনীয় করে দেওয়া হবে। তিনি আরও যোগ করেন, চুরির আশঙ্কায় নীতিনির্ধারণ থামিয়ে রাখা যাবে না। চুরি ঠেকানোর দায়িত্ব সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। উন্নয়ন সহযোগীদের বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করতে হবে।
তিনি আইএমএফের কিছু শর্তের বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেন, উল্লেখ করে যে সব শর্ত দেশের অর্থনীতির জন্য উপযুক্ত নয়। সরকার জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা বজায় রেখেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
পুঁজিবাজার সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) ব্যাপক সংস্কার আনা হবে। সেখানে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বিএসইসি সহ আর্থিক খাতের বিভিন্ন সংস্থায় পেশাদার ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
জ্বালানি খাত নিয়ে আমির খসরু মাহমুদ উল্লেখ করেন যে, পূর্ববর্তী সরকারের প্রায় ৪০-৫০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের দায়িত্ব বর্তমান সরকার বহন করছে। ইতোমধ্যে জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণের জন্য নেপাল থেকে ভারতের গ্রিড ব্যবহার করে ৪-৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া, রাশিয়ার সহায়তায় নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি প্রায় ২,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রাপ্তির প্রত্যাশা করছে সরকার। তিনি আরও বলেন, মহেশখালীতে বৃহৎ আকারের গ্যাস মজুত কেন্দ্র তৈরি এবং আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, যার লক্ষ্য অন্তত তিন মাসের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করা।
রপ্তানি শিল্প সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের মতো ইলেকট্রনিক্স, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং স্বর্ণালঙ্কার শিল্পের মতো সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলিকেও একই বন্ড ও শুল্ক সুবিধা প্রদান করা হবে। হীরা কাটিং বা স্বর্ণালঙ্কার রপ্তানির জন্য শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুযোগ তৈরি করা হবে।
ওই অনুষ্ঠানে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী অভিমত প্রকাশ করেন যে, বর্তমানে কর ও শুল্ক বৃদ্ধি করা হলে পণ্যের মূল্য সাধারণ জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। তিনি ব্যবসা-বান্ধব নীতিমালা প্রণয়নের জন্য আহ্বান জানান।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য উল্লেখ করেন, নীতিনির্ধারকদের ভাবনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন হয় না। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ২০-২৫ শতাংশ খরচ করা বা আয় করা সম্ভব হয় না এবং সংস্কার প্রক্রিয়াও একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে এসে থমকে যায়।
মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, ব্যবসা পরিচালনা সহজ করার পরিবর্তে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।
ইউসিবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান শরিফ জহির মন্তব্য করেন যে, নতুন শিল্পগুলোর জন্য গ্যাসের উচ্চমূল্য তাদের প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা হ্রাস করছে।
বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার উল আলম বলেন, শিল্প খাতের জন্য জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা দূর করা বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এহতেশামুল হক উল্লেখ করেন যে, বর্তমান অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাজেট ও করকাঠামো প্রণয়নের সময় ব্যবসায়ীদের সামর্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
এই আয়োজনে আরও আলোচনা করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক অধ্যাপক এ কে এনামুল হক, কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান, বাংলাদেশ সিমেন্ট প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি আমিরুল হক, কোকাকোলা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাদাব আহমেদ খান, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মাহবুব উর রহমান, আইপিডিসির এমডি রিজওয়ান দাউদ সামস, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রীতি চক্রবর্তী এবং শ্রমিক নেত্রী তাসলিমা আখতার।
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন








