খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
বিএনএন ডেস্ক

শাহিওয়াল জাতের লাল রঙের সুঠাম দেহের ‘মোস্তাক’ গরুটির ওজন ১ হাজার ৩০০ কেজি। এর অদূরেই কালো-লাল রঙের আরও একটি বিশাল গরু রয়েছে, যার নাম ‘কামিনী’; ওজন ১ হাজার ২০০ কেজি। প্রায় তিন বছর সন্তানের মতো পরম মমতায় লালন-পালন করার পর হোসনা বেগম গরু দুটিকে বিক্রির জন্য হাটে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আকর্ষণীয় নামের গরু দুটি একনজর দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতা ও উৎসুক মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। হোসনা বেগম গরু দুটির দাম চাচ্ছেন ২০ লাখ টাকা।
হোসনার নিবাস কিশোরগঞ্জের হাওরঘেরা নিকলী উপজেলার কারপাশা উজানহাটি এলাকায়। স্বামীহারা এই নারী ভাইয়ের আশ্রয়ে থেকে নিজের সন্তানদের পড়াশোনা করানোর পাশাপাশি গরুগুলো বড় করেছেন।
হোসনা বেগম জানান, বিগত তিন বছর ধরে পরম যত্নে গরু দুটি বড় করেছেন। এ ছাড়া আরও একটি বড় গরু রয়েছে তার। গরু পালনে ভাই সাইদুর রহমান তাকে সাহায্য করেন। ১ হাজার ৩০০ কেজির মোস্তাক ও ১ হাজার ২০০ কেজির দেশি জাতের কামিনীকে এবারের ঈদে কোরবানির হাটে বিক্রির পরিকল্পনা করেছেন তিনি। নামগুলো তার খুব পছন্দের বলেই তিনি এমন নাম রেখেছেন। গরু দুটি বিক্রি করে তিনি ২০ লাখ টাকা পাওয়ার আশা রাখছেন।
গত রবিবার তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ঈদ ঘনিয়ে আসায় গরু দুটি দেখতে উৎসুক জনতার ঢল নেমেছে। অনেক ক্রেতাও গরুগুলো কিনতে আসছেন।
হোসনার ভাই সাইদুর রহমান জানান, শাহিওয়াল জাতের লাল গরুটি বেশ শান্তশিষ্ট, তবে অন্যটি কিছুটা চঞ্চল। নিজের ব্যবসার পাশাপাশি বড় বোন হোসনা সারাক্ষণ গরুগুলোর দেখভাল করেন। সাড়ে চার বছর বয়সী এই গরুগুলোকে তিন বছর আগে সাড়ে তিন লাখ টাকায় কেনা হয়েছিল। সুষম খাবার ও নিয়মিত পরিচর্যায় এগুলো এখন বিশাল আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন গরু দুটির পেছনে ভুট্টা, ছোলা, খড় ও ভুসি বাবদ প্রায় দুই হাজার টাকা খরচ হয়।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের সহায়তায় ফিতা দিয়ে মেপে নিশ্চিত হওয়া গেছে, গরু দুটির সম্মিলিত ওজন প্রায় আড়াই হাজার কেজি।

স্থানীয় বাসিন্দা হানিফ মিয়া জানান, হোসনা ও তার ভাই গরু দুটিকে অত্যন্ত যত্নে রেখেছেন। প্রতিদিন সাবান-শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করানোসহ বৈদ্যুতিক পাখার নিচে রাখাসহ সব ধরনের আরামের ব্যবস্থা করা হয়। পশুখাদ্যের দাম চড়া হওয়ায় খামারিরা কষ্টে থাকলেও হোসনার গরু দুটি যেন উপযুক্ত দাম পায়, সেটাই এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে, এবার কিশোরগঞ্জে চাহিদার তুলনায় ৪০ হাজার পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ১ লাখ ৫২ হাজার ১৮৫টি হলেও স্থানীয় খামারে প্রস্তুত আছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৪০৬টি পশু।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নান জানান, তিনি নিকলীর হোসনা বেগমের গরু দুটির সৌন্দর্যের কথা শুনেছেন। কোনো ধরনের ক্ষতিকর হরমোন ছাড়াই দীর্ঘ পরিচর্যায় তিনি গরুগুলো বড় করেছেন। আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে জেলায় প্রচুর গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে খামারিদের সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন








