খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
বিএনএন ডেস্ক

গত দুই মৌসুমে সৌরভ দেওয়ানের জন্য মাঠের চেয়ে ডাগআউটের প্লাস্টিক চেয়ারই যেন বেশি চেনা হয়ে উঠেছিল। গ্যালারিতে যখন সমর্থকরা গোলের জন্য উল্লাস করতেন, ডাগআউটে বসে থাকা সৌরভের দুচোখে তখন কেবলই মাঠে নামার তীব্র আকাঙ্ক্ষা আর নীরব প্রতীক্ষা খেলা করত।
২০২৩-২৪ মৌসুমে এক বুক আশা নিয়ে মোহামেডানে নাম লিখিয়েছিলেন সৌরভ। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। প্রথম ও দ্বিতীয় মৌসুমে খুব সামান্য সময়ের জন্য মাঠে নামার সুযোগ পান তিনি। একজন স্ট্রাইকার হয়েও সতীর্থদের গোল করা যখন সাইড বেঞ্চ থেকে দেখতে হতো, তখন তা ছিল ভীষণ যন্ত্রণার। সেই দুঃসহ দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে সৌরভ বলেন, ‘মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম যে ফুটবল ক্যারিয়ার নিয়েই সন্দিহান হয়ে পড়েছিলাম। ভালো খেললেও গেম টাইম না পাওয়ায় মোহামেডান ছেড়ে দেওয়ার কথা ভেবেছিলাম।’

অবশেষে অন্ধকারের অবসান ঘটে মোহামেডানের কোচ বদলের মাধ্যমে। নতুন কোচ আব্দুল কাইয়ুম এসেই সৌরভের ভেতরের প্রতিভাকে চিনতে পারেন। বেঞ্চে পড়ে থাকা এই ফুটবলারকে তিনি মূল লড়াইয়ে নামিয়ে দেন। টাঙ্গাইলের এই তরুণও কোচের আস্থার প্রতিদান দিতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি।
যে খেলোয়াড়টি একসময় ক্লাব ছাড়ার উপক্রম হয়েছিলেন, তিনিই এখন ৩ ম্যাচে ৬ গোল করে ফেডারেশন কাপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। শুধু গোল করাই নয়, ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমারের স্টাইলে তার গোল উদ্যাপন এখন সাদা-কালো শিবিরের দর্শকদের অন্যতম বিনোদনের খোরাক।

সৌরভের ফুটবলার হওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল তার বাবার। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবার হাত ধরেই তার মাঠে যাওয়ার শুরু। আজ বাবার সেই স্বপ্ন আর নিজের অদম্য পরিশ্রমই তাকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। আগামী ১৯ মে কিংসের বিপক্ষে ফাইনালে নামবে মোহামেডান, যেখানে ৯ গোল করা দরিয়েলতনকে টপকে যাওয়ার হাতছানি রয়েছে সৌরভের সামনে। ধৈর্য আর আত্মবিশ্বাসের জোরে এক সময়ের উপেক্ষিত সৌরভ আজ মোহামেডানের জয়ের নায়ক।
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন








