বিএনএন ডেস্ক

প্রচণ্ড গরমে খাবার সতেজ রাখতে রেফ্রিজারেটর অপরিহার্য। তবে ঘন ঘন লোডশেডিং বা বিদ্যুৎ বিভ্রাট আপনার শখের ফ্রিজটির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার ফলে ফ্রিজের কমপ্রেসরের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে, যা যন্ত্রটিকে নষ্ট করে দিতে পারে। তাই ফ্রিজের স্থায়িত্ব বাড়াতে ও একে সুরক্ষিত রাখতে কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
বিদ্যুতের ভোল্টেজ ঘনঘন উঠানামা করলে ফ্রিজের ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আধুনিক অনেক ফ্রিজে বিল্ট-ইন স্ট্যাবিলাইজার থাকলেও, আমাদের দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে একটি ভালো মানের এক্সটার্নাল ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করা অনেক বেশি নিরাপদ। এটি উচ্চ বা নিম্ন ভোল্টেজ থেকে ফ্রিজের মাদারবোর্ড এবং কমপ্রেসরকে সুরক্ষা দেয়।
বিদ্যুৎ আসার সঙ্গে সঙ্গেই ফ্রিজ চালু করা একদম ঠিক নয়, একে বলে ‘শর্ট সাইক্লিং’। লোডশেডিংয়ের সময় ফ্রিজের প্লাগ খুলে রাখুন এবং বিদ্যুৎ ফিরে আসার অন্তত ৩ থেকে ৫ মিনিট পর প্লাগ লাগান। এতে কমপ্রেসরের ভেতরের গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হওয়ার পর্যাপ্ত সময় পায়, যা যন্ত্রের দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।
ফ্রিজের ভেতর বেশি খাবার বা ঠান্ডা জিনিস থাকলে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পরও দীর্ঘক্ষণ তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে। খালি ফ্রিজ খুব দ্রুত গরম হয়ে যায়। ফ্রিজ ফাঁকা থাকলে ভেতরে কয়েক বোতল পানি ভরে রাখুন, যা থার্মাল মাস হিসেবে কাজ করে তাপমাত্রা ধরে রাখতে সাহায্য করবে। তবে বাতাস চলাচল যেন ব্যাহত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
সাধারণ আইপিএস ফ্রিজের জন্য ব্যবহার না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। যদি আইপিএস ব্যবহারের প্রয়োজন হয়, তবে সেটি অবশ্যই ‘পিওর সাইন ওয়েভ’ প্রযুক্তির এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন হতে হবে। ফ্রিজের জন্য সবচেয়ে ভালো ও কার্যকর বিকল্প হতে পারে ডেডিকেটেড সোলার হাইব্রিড ইনভার্টার।
যখন ঘন ঘন লোডশেডিং হয়, তখন থার্মোস্ট্যাটের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কমিয়ে রাখা ভালো। এতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় ফ্রিজের ভেতরের খাবার দীর্ঘক্ষণ ভালো থাকে এবং কমপ্রেসরকে বারবার সর্বোচ্চ শক্তিতে চলতে হয় না, ফলে বিদ্যুৎ খরচও কিছুটা কমে।
ফ্রিজের দরজার চারপাশের রাবার ঢিলা হয়ে গেলে বাইরের গরম বাতাস ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে ফ্রিজ দ্রুত গরম হয়ে যায় এবং কমপ্রেসরকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। দরজার ফাঁক দিয়ে একটি কাগজ আটকে দেখুন, সেটি যদি সহজে টেনে বের করা যায়, তবে বুঝতে হবে রাবার সিলটি পাল্টানোর সময় হয়েছে।
ফ্রিজের পেছনে বা নিচে অবস্থিত কনডেনসার কয়েলে ধুলোবালি জমলে তাপ নির্গমন বাধাগ্রস্ত হয়, ফলে কম বিদ্যুৎ খরচেও যন্ত্রটি বেশি গরম হয়ে যায়। বছরে অন্তত দুবার ব্রাশ বা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে কয়েল পরিষ্কার রাখুন। এতে লোডশেডিংয়ের সময়ও ফ্রিজের কর্মক্ষমতা স্বাভাবিক থাকে।
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন









খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।