খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
বিএনএন ডেস্ক

কানাডায় ঘটে যাওয়া এক কিশোরীর নির্মম মৃত্যু পুরো জাতিকে স্তম্ভিত করেছিল। সমবয়সীদের নিষ্ঠুর নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের সেই বীভৎস সত্য ঘটনাটি হুলুর ক্রাইম সিরিজ ‘আন্ডার দ্য ব্রিজ’-এর কল্যাণে আবারও বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এই সিরিজটি কেবল একটি অপরাধের বিবরণ নয়, বরং কৈশোরের একাকীত্ব, বুলিং ও সামাজিক অবক্ষয়ের এক গভীর দলিল।
১৯৯৭ সালের ১৪ নভেম্বর, ভিক্টোরিয়ার সানিচ এলাকার ১৪ বছর বয়সী কিশোরী রিনা ভির্ক এক পার্টিতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরে তার মরদেহ উদ্ধারের পর জানা যায়, নিজেরই বন্ধুদের হাতে পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হয়ে সে প্রাণ হারিয়েছে।
সাংবাদিক রেবেকা গডফ্রের ২০০৫ সালে লেখা বইয়ের ভিত্তিতে নির্মিত হয়েছে ‘আন্ডার দ্য ব্রিজ’। সিরিজে রেবেকার চরিত্রে দেখা গেছে রেইলি কিও-কে, আর পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন লিলি গ্লাডস্টোন।
একাকিত্বে ভোগা সেই কিশোরী
ভারতীয় বংশোদ্ভূত রিনা ছোটবেলা থেকেই বর্ণবাদী বুলিং ও পারিবারিক কড়াকড়ির কারণে নিজেকে সবার থেকে আলাদা মনে করত। এই সামাজিক ও পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা তাকে মানসিকভাবে কোণঠাসা করে ফেলেছিল।

তদন্তে জানা যায়, রিনা বেশ কয়েকবার বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগও তুলেছিল, যদিও পরে সে তা তুলে নেয়।
মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থায় সে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের পাল্লায় পড়ে। এই চক্রের নেতৃত্বে ছিল নিকোল কুক, যাকে সিরিজে ‘জোসেফিন বেল’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

সেতুর নিচে ঘটে যাওয়া সেই ট্র্যাজেডি
ঘটনার রাতে প্রথমে স্কুলে বড় জমায়েত হলেও পরে তা সরিয়ে নেওয়া হয় ক্রেগফ্লাওয়ার ব্রিজ এলাকায়। সেখানেই রিনার ওপর চলে নারকীয় নির্যাতন।
গুজব ছড়ানোর কথিত অপরাধে তাকে দলবেঁধে মারা হয়। অন্যরা চলে গেলেও কেলি এলার্ড ও ওয়ারেন গ্লোওয়টসকি নামের দুই কিশোর আহত রিনাকে ধাওয়া করে এবং শেষ পর্যন্ত তাকে পানিতে ডুবিয়ে নিশ্চিত মৃত্যু ঘটায়। এক সপ্তাহ পর তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
কানাডায় আলোড়ন তোলা এক মামলা
এই হত্যাকাণ্ড কানাডার সমাজে কিশোর অপরাধ ও বুলিংয়ের ভয়ংকর রূপটি উন্মোচিত করে। হামলাকারী ছয়জন কিশোরী দোষী সাব্যস্ত হয়, আর মূল হত্যার দায়ে বিচারের মুখোমুখি হয় কেলি এলার্ড ও ওয়ারেন গ্লোওয়াটস্কি।
ওয়ারেন অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেও, কেলি এলার্ড দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর দোষী সাব্যস্ত হয়। পরবর্তীতে কেলি নিজের পরিচয় গোপন করতে নাম পরিবর্তন করে কেরি সিম রাখে।

কেন এই সিরিজটি ভিন্ন
বাস্তব অপরাধভিত্তিক সিরিজের ভিড়ে ‘আন্ডার দ্য ব্রিজ’ তার আবেগীয় গভীরতার জন্য আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। এটি কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং কিশোর বয়সের আবেগ, দলগত সহিংসতা ও অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের পরিচয়ের সংকটকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
লেখক রেবেকা গডফ্রের মতে, দুই দশক পরও এই ঘটনাটি মানুষের বিবেককে নাড়িয়ে দেয় এবং অস্বস্তিতে ফেলে।
টাইম অবলম্বনে
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন








