খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
বিএনএন ডেস্ক

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দেওয়ার মাধ্যমে বিগত সাত বছরের তুলনায় সর্বনিম্ন আয়ের পথে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। সংস্থাটি তিনটি হাটের জন্য দরপত্র আহ্বান করলেও সাড়া পাওয়া গেছে মাত্র দুটির ক্ষেত্রে। সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ দর উঠেছে ২ কোটি ১৪ লাখ ১০ হাজার টাকা, আর একটি হাটে কোনো দরপত্রই জমা পড়েনি।
মঙ্গলবার ছিল দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। গত বছর দরপত্র ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটায় এবার সিটি করপোরেশন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল।
আগামী বুধবার দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভায় ইজারাদার চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। উল্লেখ্য, গত বছর পাঁচটি হাট থেকে সিটি করপোরেশনের আয় ছিল ৩ কোটি ৪৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। বিগত সরকারের আমলে পশুর হাটগুলোর নিয়ন্ত্রণ থাকতো মূলত দলীয় প্রভাবশালী নেতাদের হাতে।
ইজারাদারদের দাবি, হাটের বিজ্ঞপ্তিতে সীমাবদ্ধতা, নগরজুড়ে ব্যক্তিগত খামারে গরু বিক্রি এবং যত্রতত্র অবৈধ হাট বসার কারণে মূল পশুর হাটগুলোতে প্রতিযোগিতার পরিবেশ কমে গেছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে সিটি করপোরেশনের আয়ের ওপর।
সাত বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম আয়
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, দুটি হাটের জন্য ২ কোটি ১৪ লাখ ১০ হাজার টাকার দর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বাকলিয়ার কর্ণফুলী পশুর হাটের জন্য সর্বোচ্চ ২ কোটি ১২ লাখ টাকা দর জমা পড়েছে, যেখানে সিটি করপোরেশনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ কোটি ৪ লাখ টাকা। এই হাটের বিপরীতে চারটি দরপত্র জমা পড়ে।
অন্যদিকে, উত্তর পতেঙ্গার মুসলিমাবাদ মাঠের জন্য ১ লাখ ৯৬ হাজার টাকার বিপরীতে ২ লাখ ১০ হাজার টাকার একটিমাত্র দরপত্র জমা পড়ে। এছাড়া পাঁচলাইশের ওয়াজেদিয়া পশুর হাটে কোনো দরপত্রই জমা পড়েনি।
২০২৪ সালে অস্থায়ী পশুর হাট থেকে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আয় হয়েছিল। সেসময় ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন উপদলের মধ্যে হাট দখলের রেষারেষিতে প্রতিযোগিতামূলক দর বৃদ্ধি পাওয়ায় সিটি করপোরেশনের আয় পৌঁছেছিল ৫ কোটি ৬ লাখ টাকায়।
করোনাকালীন ২০২০ সালের পর থেকে এবারই সর্বনিম্ন দর জমা পড়েছে। সে বছর পরিস্থিতির কারণে তিনটি হাট বসিয়ে ২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা এবং ২০২১ সালে একই সংখ্যক হাট থেকে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা আয় হয়েছিল।
বিপরীতে, ২০২৩ সালে ৭টি হাট ইজারা দিয়ে ৩ কোটি ১৩ লাখ এবং ২০২২ সালে ৩টি হাট থেকে ৪ কোটি ৯৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা আয় করেছিল সংস্থাটি। গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতায় হাটের দর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে ৫ কোটি ৬ লাখ টাকায় পৌঁছায়।
রাজস্ব কমার পেছনে কারণ
সিটি করপোরেশন ১৬টি হাটের পরিকল্পনা করলেও জেলা প্রশাসন মাত্র ছয়টি হাটের অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে আবার অর্ধেক বা তিনটি হাটের ইজারা বিজ্ঞপ্তিই দেয়নি সিটি করপোরেশন।
অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও যে তিনটি হাটের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি, সেগুলো হলো টিএসপি মাঠ, সিডিএ বালুর মাঠ এবং মুনিরনগর আনন্দবাজার সংলগ্ন রিং রোডের পাশের খালি মাঠ।
সাধারণত ঈদের আগের ১০ দিন হাটগুলো কার্যকর থাকে। হাতে সময় কম থাকায় দ্রুত ইজারাদার নিয়োগ না করতে পারলে বড় ধরনের রাজস্ব ক্ষতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কিছু আগ্রহী ইজারাদার অভিযোগ করেছেন, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিশেষ গোষ্ঠীকে হাট পাইয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে কিছু হাটের বিজ্ঞপ্তি আটকে রাখা হয়েছে। প্রতিযোগিতা না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই রাজস্বের পরিমাণ কমে যায়। গত বছর এই তিনটি হাট থেকেই ১ কোটি ৫৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা আয় হয়েছিল বলে তথ্য রয়েছে।
তবে সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামাল পছন্দের কাউকে হাট দেওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, ইজারা ছাড়া হাট দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জমির মালিকানা নিয়ে স্থানীয় বিরোধ ও নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু হাটের বিজ্ঞপ্তি স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, যে হাটগুলোর জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, সেগুলোতে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো সাড়া মিলেছে।
অন্যদিকে, কর্ণফুলী হাটের সাবেক ইজারাদার খোরশেদ আলমের মতে, নগরীর প্রবেশমুখে অবৈধ হাটের দৌরাত্ম্য এবং খামারভিত্তিক সরাসরি গরু কেনায় মানুষের আগ্রহ বাড়ার কারণে অস্থায়ী হাটগুলোতে ইজারাদারদের অংশগ্রহণ ও প্রতিযোগিতা উভয়ই কমে গেছে।
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন








