খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
বিএনএন ডেস্ক

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি প্রকল্প রয়েছে, যার মধ্যে কিছু প্রকল্পের উপযোগিতা ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, এখন থেকে অর্থের সঠিক ব্যবহার, বিনিয়োগের মুনাফা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত প্রভাব—এই চারটি শর্ত পূরণ করলেই কোনো প্রকল্প অনুমোদন পাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণের করের টাকার প্রতিটি পয়সার হিসাব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। প্রকল্পের পরিকল্পনা ও এর সুফল সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জানার অধিকার রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ভবনে আয়োজিত ‘রেইজ-২’ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের আঞ্চলিক পরিচালক গেইল এইচ মার্টিন সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান এবং মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের।
অর্থনীতিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি
মন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বিগত দিনে গুটিকয়েক গোষ্ঠীর হাতে অর্থনীতি কুক্ষিগত থাকায় সাধারণ মানুষ উন্নয়নের সুফল পায়নি। সরকার এখন বড় অবকাঠামো প্রকল্পের চেয়ে সামাজিক সুরক্ষা এবং ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মতো কর্মসূচিতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। তিনি আরও জানান, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার এবং আগামী বাজেটে এর প্রতিফলন দেখা যাবে। জিডিপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেবল শিল্প উৎপাদন নয়, বরং সংস্কৃতি, গান এবং খেলাধুলার মতো সৃজনশীল খাতগুলোও অর্থনীতির চালিকাশক্তি হতে পারে এবং এই জায়গাগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।
রেইজ-২ প্রকল্পের মূল লক্ষ্যসমূহ
অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধে জানানো হয়, রেইজ-২ প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য হলো উপযুক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা বৃদ্ধি। প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে ২ লাখ তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া উপকূলীয় ও হাওর অঞ্চলের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার তরুণরা এই প্রকল্পে অগ্রাধিকার পাবেন। ইতিপূর্বে এই প্রকল্পের মাধ্যমে বহু তরুণ প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছেন। পিকেএসএফ ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্প দেশের অনানুষ্ঠানিক খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।
কর্মসংস্থানে অনানুষ্ঠানিক খাতের ভূমিকা
পিকেএসএফ চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান জানান, দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ কর্মসংস্থান এবং জিডিপির ৩০ শতাংশের বেশি আসে অনানুষ্ঠানিক খাত থেকে। এই খাতের কর্মীদের দক্ষ করে তোলাই রেইজ প্রকল্পের লক্ষ্য। বিশ্বব্যাংকের আঞ্চলিক পরিচালক গেইল এইচ মার্টিন বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনের প্রধান হাতিয়ার হলো কর্মসংস্থান। বাংলাদেশে বছরে ২০ লাখ চাকরির চাহিদা থাকলেও সৃষ্টি হচ্ছে মাত্র ৯ লাখের মতো, তাই কর্মসংস্থানের এই গতি আরও বাড়ানো জরুরি বলে তিনি মত দেন।
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন








