বিএনএন ডেস্ক

টিটন, নাজমুল ও আলমগীর—পেশাদার কৃষক নয়, তারা মূলত শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি ধান কাটার এই মৌসুমে যখন শ্রমিক পাওয়া দুষ্কর, তখন তারা নেমেছে মাঠে। ধান কাটার মাধ্যমে একদিকে যেমন কৃষকের বড় একটি সমস্যার সমাধান করছে, অন্যদিকে অবসর সময়ে আয় করছে বাড়তি কিছু টাকা।
ঝিনাইদহের ছয়টি উপজেলায় এখনো প্রায় অর্ধেক ধান মাঠে পড়ে আছে। বৃষ্টি ও শ্রমিকের অভাব কৃষকদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঠিক এই সময়ে হরিণাকুণ্ডু উপজেলার কিছু শিক্ষার্থী কৃষকদের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে, যা শিক্ষার্থী ও কৃষক—উভয়ের জন্যই কল্যাণকর হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক রবিউল ইসলামের দেড় বিঘা জমির ধান পেকে গেলেও শ্রমিকের অভাবে কাটতে পারছিলেন না। বৃষ্টির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন রবিউল শেষ পর্যন্ত স্থানীয় শিক্ষার্থীদের সহায়তা নেন। পাঁচ হাজার টাকার চুক্তিতে চারজন শিক্ষার্থী বিকেলের মধ্যেই তার ধান কাটা ও স্তূপ করার কাজ শেষ করে দেয়।
আরেক কৃষক খয়বর আলী জানান, ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি এখন আকাশচুম্বী, এরপরও তাদের পাওয়া যাচ্ছে না। দৈনিক এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা ও তিন বেলা খাবার দেওয়ার পরেও শ্রমিক মিলছে না। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসা কৃষকদের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে এনেছে।
শিক্ষার্থী টিটন হাসান জানায়, সে কৃষক পরিবারের সন্তান। বন্ধুদের সাথে আড্ডায় সময় নষ্ট না করে ফসলের মৌসুমে তারা কৃষকদের কাজে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেয়।
শিক্ষার্থী নাজমুল হক জানায়, কৃষি পরিবারে বেড়ে ওঠায় ছোট থেকেই এ কাজে তারা অভ্যস্ত। ফলে বন্ধুদের সাথে মিলে হাসিখুশিতেই তারা এই শ্রমসাধ্য কাজটি করতে পারছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ঝিনাইদহের তথ্যমতে, জেলায় এ বছর ৯০ হাজার ২৯১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ফলন ভালো হয়েছে।
উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, বৃষ্টির কারণে ধান কাটা কিছুটা পিছিয়ে গেছে। এখন একসাথে সব ধান পেকে যাওয়ায় শ্রমিকের তীব্র সংকট ও মজুরি নিয়ে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন









খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।