বিএনএন ডেস্ক

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকার নারী-নেতৃত্বাধীন ৪১ লাখ পরিবারের জন্য 'ফ্যামিলি কার্ড' চালু করতে যাচ্ছে, যার পেছনে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১২ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা। তবে শর্ত অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড গ্রহণকারী কোনো পরিবার অন্য কোনো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা উপভোগ করতে পারবে না।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
উল্লেখ্য যে, গত ২০ এপ্রিল ১৪ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত কমিটির প্রথম সভা ২৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং আজ দ্বিতীয় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু হয়েছে। গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারীপ্রধান পরিবারের সহায়তায় এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা পাবে। পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ও বাজেট বৃদ্ধি করা হবে। আগামী পাঁচ বছরে এই প্রকল্পের মোট বাজেট ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে; যার মধ্যে ১ লাখ ২১ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে এবং বাকি ১২ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা জরিপসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় হবে।
সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৮১ লাখ, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ১ কোটি ২১ লাখ এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের ওপর জরিপ চালানো হবে।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি কমিটির বৈঠক থেকে জানা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪২ লাখ কৃষককে 'কৃষক কার্ড' দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেখানে ১ হাজার ৬২ কোটি টাকা ব্যয় হবে। পাশাপাশি, বয়স্ক ভাতার সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৬১ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৬২ লাখ করা হচ্ছে। বর্তমানে বয়স্ক ব্যক্তিরা মাসে ৬৫০ টাকা ভাতা পান।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা প্রস্তাব করেছিলেন, যার মধ্যে পেনশন ব্যতীত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর জন্য ৮১ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল।
বর্তমানে বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা খাতের ব্যয় জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ৮৭ শতাংশ। অথচ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পরামর্শ অনুযায়ী, এই খাতে জিডিপির কমপক্ষে ৫ শতাংশ ব্যয় হওয়া বাঞ্ছনীয়।
মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতার হার বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের ভাতা ৩৫ হাজার থেকে বেড়ে ৪০ হাজার, বীর উত্তমদের ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার এবং বীর বিক্রম ও বীর প্রতীকদের ভাতা ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।
তবে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের বিদ্যমান ভাতার হার অপরিবর্তিত থাকছে। বর্তমানে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ৩০ হাজার, যুদ্ধাহতরা ২৭ হাজার থেকে ৪৫ হাজার এবং সাধারণ বীর মুক্তিযোদ্ধারা ২০ হাজার টাকা মাসিক ভাতা পাচ্ছেন।
এছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির পরিধি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। উপকারভোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৭৮৪ থেকে বাড়িয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৬৬৬ জনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর আওতায় ইমাম, পুরোহিত, বিহার অধ্যক্ষ, মুয়াজ্জিন, সেবাইত ও খাদেমদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ খাতের বাজেট ২৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৮১ কোটি টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
খাল খনন কর্মসূচিতেও উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরের ২৬ লাখ ৬৭ হাজার থেকে বাড়িয়ে আগামী অর্থবছরে তা ৩৪ লাখে উন্নীত করা হবে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও বরাদ্দ ও জনবল প্রায় দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে ৪৩ হাজার ২৪০ জন উপকারভোগী থাকলেও, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা ৮০ হাজারে উন্নীত করা হবে।
পাশাপাশি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য মাসিক ভাতার আওতা বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে ১৪ হাজার ৬৫৬ জন এই সুবিধার আওতায় রয়েছেন। যার মধ্যে ৮৪৪টি শহীদ পরিবার, ১ হাজার ৬০৭ জন 'এ' শ্রেণির গুরুতর আহত, ১ হাজার ১শ ২১ জন 'বি' শ্রেণির এবং ১১ হাজার ৮৪ জন 'সি' শ্রেণির আহত ব্যক্তি রয়েছেন। এই খাতে বর্তমানে ২১২ কোটি ১ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও, আগামী অর্থবছরে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৫১৩ জনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন









খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।