খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
বিএনএন ডেস্ক

প্রযুক্তির দ্রুত উৎকর্ষ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যাপক বিস্তারে কর্মক্ষেত্রের চিত্রপট বদলে যাচ্ছে। বিভিন্ন পেশায় যান্ত্রিক স্বয়ংক্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় একদিকে যেমন নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে, অন্যদিকে চাকরি হারানোর আতঙ্কও বাড়ছে। তবে 'গোহিউম্যানাইজ' নামক একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক গবেষণায় আশার কথা শুনিয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, নেতৃত্বদান, আবেগ অনুধাবন, কর্মী পরিচালনা এবং আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্কের মতো দক্ষতাগুলো আগামী দশকেও এআই সহজে দখল করতে পারবে না।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, আগামী এক দশকে বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ কর্মক্ষেত্র স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে। যদিও এআই এখন কোডিং, তথ্য বিশ্লেষণ কিংবা কন্টেন্ট তৈরিতে দক্ষ, তবুও মানুষের বিচারবুদ্ধি, সহানুভূতি এবং সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার জায়গায় সে এখনও অপূর্ণ। নিয়োগদাতাদের চাহিদা ও দক্ষতার গুরুত্ব বিশ্লেষণের ভিত্তিতে গবেষণায় প্রতিটি পেশাগত দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়েছে।
গবেষণার ফলাফল বলছে, নেতৃত্ব, আবেগ বোঝার সক্ষমতা এবং জটিল সামাজিক সমস্যা সমাধানের দক্ষতাগুলোই ভবিষ্যতে সবচেয়ে নিরাপদ। তথ্য বিশ্লেষণের মতো বর্তমানে জনপ্রিয় দক্ষতাগুলো এআই দ্রুত আয়ত্ত করতে পারলেও নেতৃত্বের মতো মানবিক গুণাবলি যন্ত্রের জন্য অনুকরণ করা প্রায় অসম্ভব। গবেষণায় নেতৃত্বকে ১০০-এর মধ্যে ৯৩ মানবনির্ভর স্কোর দেওয়া হয়েছে। সিইও কিংবা জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপকের মতো পদে কাজের চেয়ে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং কর্মীদের মাঝে আস্থা তৈরি করাই বড় চ্যালেঞ্জ।
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে দলগত কাজ বা টিমওয়ার্ক। প্রায় ৪০ লাখ চাকরির বিজ্ঞাপনে এর গুরুত্ব উঠে এসেছে। গবেষকরা বলছেন, কার্যকর টিমওয়ার্ক কেবল কাজ ভাগাভাগি নয়, বরং সহকর্মীদের মানসিক অবস্থা ও ব্যক্তিত্বের সমন্বয় ঘটানো এবং দীর্ঘস্থায়ী আস্থা বজায় রাখার নামান্তর। এই সামাজিক জটিলতার কারণেই টিমওয়ার্কের মানবনির্ভর স্কোর দাঁড়িয়েছে ৭৯।
তালিকার তৃতীয় স্থানে থাকা আলোচনা বা নেগোসিয়েশন দক্ষতার স্কোর ৮৯। প্রায় ২৮ লাখ চাকরির বিজ্ঞাপনে এই দক্ষতার চাহিদা রয়েছে। এআই তথ্য ও বিশ্লেষণের জোগান দিতে পারলেও আলোচনার টেবিলে শরীরী ভাষা, কণ্ঠের সুর এবং আবেগীয় পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা একমাত্র মানুষেরই আছে।
এছাড়া কোচিং ও মেন্টরিং পেশার ক্ষেত্রেও মানুষের গুরুত্ব অপরিসীম। তথ্য বিশ্লেষণের বাইরে গিয়ে একজন মানুষের ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতা বা আত্মবিশ্বাসের অভাব অনুধাবন করা যন্ত্রের জন্য দুঃসাধ্য। বিশেষ করে শিক্ষা ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় এই মানবিক ছোঁয়া অপরিহার্য।
শীর্ষ পাঁচ দক্ষতার মধ্যে রয়েছে মানুষের সামনে কথা বলার সক্ষমতা। ব্যক্তিত্ব, বিশ্বাসযোগ্যতা ও আত্মবিশ্বাসের সংমিশ্রণকে যন্ত্র পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে অক্ষম। এছাড়া সাংগঠনিক নেতৃত্ব, পিপল ম্যানেজমেন্ট, ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বা আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা, আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং পরিবর্তন ব্যবস্থাপনাকেও ভবিষ্যৎ কর্মবাজারে অপরিহার্য বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গোহিউম্যানাইজের প্রতিষ্ঠাতার মতে, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা মূলত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে প্রাধান্য দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে নিজেই স্বয়ংক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদী পেশাগত নিরাপত্তার জন্য মানবিক দক্ষতার দিকে আরও বেশি নজর দেওয়ার সময় এসেছে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন








