খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
বিএনএন ডেস্ক

শতবর্ষ পূর্ণ করার উপ an the উপলক্ষে ডেভিড অ্যাটেনবরো পেলেন এক অভাবনীয় উপহার – একটি ক্ষুদ্র পরজীবী বোলতা। যেখানে সাধারণত জন্মদিনে ফুল বা কেক দেওয়া হয়, সেখানে পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত প্রকৃতিবিদ পেলেন এই বিশেষ সম্মান।
মাত্র সাড়ে তিন মিলিমিটার লম্বা এই বাদামী রঙের বোলতার বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে Attenboroughnculus tau। নামটি কিছুটা জটিল হলেও এর পেছনের কারণটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যকে নতুনভাবে দেখতে শেখানোর ক্ষেত্রে ডেভিড অ্যাটেনবরোর অবদান অনস্বীকার্য। তাই তাঁর শততম জন্মবার্ষিকীতে এই নতুন প্রজাতির বোলতাটি তাঁকেই উৎসর্গ করা হয়েছে।
ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের গবেষকরা এই বোলতাটি আবিষ্কার করেছেন। আশ্চর্যজনকভাবে, এটি নতুন করে কোনো জঙ্গলে আবিষ্কৃত হয়নি, বরং বহু বছর ধরে এই জাদুঘরের সংগ্রহশালাতেই ছিল। ১৯৮৩ সালে দক্ষিণ আমেরিকার চিলির ভালদিভিয়া অঞ্চল থেকে এটি সংগ্রহ করা হয়েছিল। এরপর প্রায় চার দশক ধরে অন্যান্য অসংখ্য নমুনার ভিড়ে এটি নীরবে পড়ে ছিল।

একদিন গবেষকরা পুরোনো সংগ্রহশালা ঘাঁটতে গিয়ে লক্ষ্য করেন যে, এই ক্ষুদ্র বোলতাটি অন্যান্যদের থেকে ভিন্ন। এর শারীরিক গঠনে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য দেখা যায় যা আগে কখনো দেখা যায়নি। এরপর শুরু হয় বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা। অবশেষে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রজাতি। শুধু তাই নয়, এটি এতটাই স্বতন্ত্র যে এর জন্য একটি নতুন গণ (genus) তৈরি করতে হয়েছে।
১৯৮৩ সালে দক্ষিণ আমেরিকার চিলির ভালদিভিয়া অঞ্চল থেকে অ্যাটেনবরোঙ্কুলাস টাউ বোলতাটি সংগ্রহ করা হয়েছিল।
বিজ্ঞানীরা এর নামের শেষে 'tau' যোগ করেছেন গ্রিক বর্ণ 'টাউ' থেকে। এর কারণ হলো, বোলতার পেটের উপর ইংরেজি 'T' অক্ষরের মতো দুটি চিহ্ন পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, এত ক্ষুদ্র একটি পতঙ্গ নিয়ে এত আগ্রহের কারণ কী?
এর উত্তর হলো, এটি কোনো সাধারণ বোলতা নয়। এটি এক প্রকার পরজীবী বোলতা (parasitic wasp)। শুনতে হয়তো ভয়ংকর লাগতে পারে, কিন্তু প্রকৃতির বাস্তুতন্ত্রে এদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বোলতারা সাধারণত অন্য কোনো প্রাণীর শরীর বা ডিমের ভেতর নিজেদের ডিম পাড়ে। পরবর্তীতে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হলে তারা সেই প্রাণীটিকেই ধীরে ধীরে খেতে শুরু করে। প্রকৃতির দৃষ্টিতে এটি নিষ্ঠুর মনে হলেও, বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় এদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এরা অনেক ক্ষতিকর পোকামাকড়ের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

গবেষকরা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নন যে এই নতুন বোলতাটি ঠিক কোন প্রাণীকে শিকার হিসেবে বেছে নেয়। তবে তাদের ধারণা, এটি সম্ভবত মাকড়সার ডিমের থলির ভেতরে ডিম পাড়ে। পরবর্তীতে বাচ্চাগুলো সেই ডিম খেয়ে বড় হয়।
প্রকৃতির এই রহস্যময় আচরণ বহু বছর ধরে মানুষকে বিস্মিত করে আসছে। ডেভিড অ্যাটেনবরো নিজেও তাঁর বিখ্যাত তথ্যচিত্রগুলোতে বহুবার এমন পরজীবী বোলতার জীবনচক্র তুলে ধরেছেন। তাঁর সাবলীল বর্ণনায় ভয়ংকর দৃশ্যও এক রহস্যময় সৌন্দর্যে মণ্ডিত হত। ছোটবেলায় টেলিভিশনে এসব দেখে অসংখ্য শিশু প্রথমবারের মতো প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছে।
এই অ্যাটেনবরোঙ্কুলাস টাউ বোলতারা সাধারণত অন্য কোনো প্রাণীর শরীর বা ডিমের ভেতরে নিজেদের ডিম পাড়ে। পরে বাচ্চারা ফুটে বের হলে সেই প্রাণীকেই ধীরে ধীরে খেতে থাকে।
এই নতুন প্রজাতির গবেষণার সাথে যুক্ত বিজ্ঞানী গ্যাভিন ব্রড বলেছেন যে, তিনি ছোটবেলায় অ্যাটেনবরোর অনুষ্ঠান দেখে ট্যাক্সোনমিস্ট (নতুন প্রাণী ও উদ্ভিদের পরিচয় নির্ধারণকারী বিজ্ঞানী) হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। পৃথিবীতে এখনও লক্ষ লক্ষ প্রাণী অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, পৃথিবীর বিপুল সংখ্যক পোকামাকড়ের এখনও নামকরণই হয়নি। শুধু ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের সংগ্রহেই কোটি কোটি নমুনা রয়েছে, যার অধিকাংশই এখনও পুরোপুরি শনাক্ত করা হয়নি।
এই কারণে জাদুঘরের সংগ্রহশালা এত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সাধারণত মনে করি, নতুন প্রাণী আবিষ্কারের জন্য গভীর জঙ্গলে যেতে হয়। কিন্তু অনেক সময় নতুন আবিষ্কার পুরনো বাক্সবন্দী নমুনার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই গবেষণায় একজন স্বেচ্ছাসেবকেরও অবদান রয়েছে। তিনিই প্রথম সন্দেহ করেছিলেন যে এই বোলতাটি বিশেষ কিছু হতে পারে। বিজ্ঞান শুধু বড় বড় গবেষণাগারেই সীমাবদ্ধ নয়, কৌতূহলী সাধারণ মানুষও এতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অনেক তরুণ-তরুণী মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পোকামাকড়, পাখি বা গাছের ছবি তুলে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে আপলোড করছেন। এগুলোর মাধ্যমেই অনেক সময় নতুন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আপনার আশেপাশের পার্ক, বাগান বা বাড়ির দেয়ালেও এমন অনেক প্রাণী থাকতে পারে, যাদের সম্পর্কে বিজ্ঞান এখনও খুব বেশি অবগত নয়।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, পৃথিবীর বিপুল সংখ্যক পোকামাকড়ের এখনও নামকরণই হয়নি। শুধু ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের সংগ্রহেই কোটি কোটি নমুনা রয়েছে, যার অধিকাংশই এখনও পুরোপুরি শনাক্ত করা হয়নি।
এই কারণেই ডেভিড অ্যাটেনবরোর গল্প আজও এত অনুপ্রেরণাদায়ক। এক শ বছর বয়সেও তিনি মানুষকে প্রকৃতির দিকে মনোনিবেশ করতে শেখাচ্ছেন। তাঁর কণ্ঠস্বর শুনে আজও নতুন প্রজন্ম বিস্ময়ের সাথে পিঁপড়া, মাকড়সা, ব্যাঙ বা বোলতার গোপন জীবন আবিষ্কার করছে।

সম্ভবত পৃথিবীর কোনো প্রান্তে, কোনো পাতার আড়ালে আজও লুকিয়ে আছে আরেকটি অচেনা প্রাণী। এখনও কেউ তার নাম দেয়নি, কেউ জানে না তার গল্প। কিন্তু কোনো এক কৌতূহলী চোখ একদিন তাকে খুঁজে পাবে। তখন সেই ক্ষুদ্র প্রাণীটিও পৃথিবীর এক বিশাল বিস্ময়ে পরিণত হবে।
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন








