খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
বিএনএন ডেস্ক

নাজমুল হোসেন সংবাদ সম্মেলনকক্ষে এসে প্রায় পাঁচ মিনিট একটি চেয়ারে বসে রইলেন। পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদের তখনো কথা বলা শেষ হয়নি, তাই বাংলাদেশের অধিনায়কের এই অপেক্ষা। চেয়ারে বসেই নাজমুল অনেকগুলো ‘অটোগ্রাফ’ দিলেন, এক পর্যায়ে তিনি খুনসুটি করে বললেন, ‘টাকা দেন…’
একটি স্মরণীয় জয়ের পর সবাই স্মৃতি ধরে রাখতে চাইছেন, নাজমুলও ছিলেন প্রফুল্ল মেজাজে। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এসে সালমান আগা বলেছিলেন, ৭০ ওভারে ২৬০ রান লক্ষ্য পেলে তিনি বাংলাদেশকে হারিয়ে দেবেন।
তাঁর কথা নাজমুল শুনেছিলেন কিনা, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানালেন ‘না’। সালমানের কথা না শোনার দাবি করলেও, বাংলাদেশ যখন ২৬৭ রানের লক্ষ্য পাকিস্তানের সামনে দিয়েছিল, তখনই নাকি তিনি জয়ের আভাস পেয়েছিলেন। নাজমুল বলেন, ‘না, আমাদের একটি লক্ষ্য ছিল ২৭০ রানের বেশি হলে খুব ভালো হতো। এবং যখন আমরা ২৬৭ রানে শেষ করেছি, তখন আমাদের বিশ্বাস ছিল যে এখান থেকে আমরা ম্যাচটা বের করে আনতে পারব।’
শেষ দিনের মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগেই বাংলাদেশ তাদের দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করেছিল। এটি বাংলাদেশের ১৪তম বার দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা। এর মধ্যে ৯ ম্যাচে জয় এবং একবার পরাজয়। তবে আজকার কাজটি ছিল বেশ ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ পাকিস্তানের জয়ের সম্ভাবনাও ছিল বেশ উজ্জ্বল।

পাকিস্তানের বিপক্ষে এই ইনিংস ঘোষণা দেওয়াকেও বড় করে দেখছেন নাজমুল। তিনি বলেন, ‘আমাদের ইনিংস ঘোষণার সিদ্ধান্তটা ছিল গুরুত্বপূর্ণ, যা আমাদের দল সাধারণত এভাবে করে না। এটি ভবিষ্যতে কাজে দেবে এবং আরও আত্মবিশ্বাস যোগাবে যে এখান থেকেও ম্যাচ জেতা সম্ভব।’
ইনিংস ঘোষণার পরও বাংলাদেশের কাজটা সহজ ছিল না। শেষ সেশনেই তাদের আরও ৭টি উইকেট নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। চা-বিরতির সময় দলের উদ্দেশে অধিনায়কের বার্তা কী ছিল? নাজমুল জানান, দিনের শুরু থেকেই তারা জেতার জন্যই খেলেছেন।
বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আজ সকাল থেকে আমাদের একটি বার্তা ছিল যে আমরা খেলাটা জেতার জন্যই খেলব, পরিস্থিতি যাই থাকুক না কেন। বিরতির সময়ও কোচ একই বার্তা দিয়েছিলেন এবং আমরা সবাই এই বিশ্বাস নিয়েই মাঠে নেমেছিলাম যে আমরা এখান থেকে খেলাটা জিতব। যদি না জিততে পারি, তবে যেন তাদের খেলাটা বাঁচানো কঠিন হয়ে যায়।’
ম্যাচ ড্র করার কোনো পরিকল্পনা ছিল না বলেও জানান নাজমুল। তিনি বলেন, ‘একবারের জন্যও আমরা এমন চিন্তা করিনি যে খেলাটা হেরে যেতে পারি বা আমরা খেলাটা ড্র করতে চাই। আমাদের সেই আক্রমণাত্মক মানসিকতা ছিল। আমরা জেতার জন্যই চেষ্টা করেছি।’

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সর্বশেষ চক্রে বাংলাদেশের চারটি জয় ছিল। এর আগের দুই চক্রে জয় ছিল শূন্য ও একটি। এবারের চক্রের তৃতীয় ম্যাচে এসে প্রথম জয় পেল বাংলাদেশ। দলের অধিনায়ক নাজমুল জানিয়েছিলেন, তারা চার-পাঁচে শেষ করতে চান।
এই জয়টি কি বাংলাদেশকে সেই পথে এগিয়ে দিল? উত্তরে নাজমুল বলেন, ‘আমার মনে হয়, যদি আমরা ধীরে ধীরে এভাবে এগোতে থাকি, তবে একসময় সবাই জানবে যে আমরা এখন ভালো টেস্ট ক্রিকেট খেলি। তবে এখনই এতদূর যেতে চাই না। উন্নতির অনেক জায়গা আছে। একটি টেস্ট জিতেছি, অনেক কথা হবে, অনেক ইতিবাচক কথা হবে। কিন্তু দল হিসেবে এখনো উন্নতির জায়গা আছে।’
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন




