Home icon
Login

অনুসরণ করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store


নতুন ‘ছাত্রী উইং’ খোলার পথে ইসলামী আন্দোলন

বিএনএন ডেস্ক

আপডেট: ১ ঘণ্টা আগে

Facebook
Twitter

Article Image

জাতীয় নির্বাচনে সাংগঠনিক ভিত্তি ও নারী ভোটারদের ওপর প্রভাব বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নতুন এক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে এবার আলাদা ‘ছাত্রী উইং’ চালুর প্রস্তুতি চলছে। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, কোরবানির ঈদের পরেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন শাখার ঘোষণা দেওয়া হবে।

দলটির ভাষ্যমতে, নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক বিস্তার, ইসলামী রাজনীতির আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে দক্ষ নারী নেতৃত্ব তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান জানান, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্বতন্ত্র ও কার্যকর প্ল্যাটফর্ম এখন সময়ের দাবি।

নির্বাচনী পর্যালোচনা থেকে নতুন পরিকল্পনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী তাদের মহিলা বিভাগ ও ছাত্রী সংস্থাকে যেভাবে কাজে লাগিয়েছিল, তা কিছুটা ফলপ্রসূ হয়েছিল বলে মনে করেন রাজনীতির বিশ্লেষকরা। তরুণী ও নারী ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে তাদের এই কৌশল কাজে দেয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ইসলামী আন্দোলন নতুন এই পথ বেছে নিয়েছে।

দলটির নেতাদের মতে, নারী শিক্ষার্থীদের মাঝে সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধি, ইসলামী মূল্যবোধের প্রসার এবং ভবিষ্যৎ নারী নেত্রী তৈরির লক্ষ্যেই এই নতুন সংগঠনটি গড়া হচ্ছে।

ইসলামী আন্দোলনের নীতিনির্ধারণী মহলে এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি হাতপাখা প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে লড়াই করেছিল। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বেরিয়ে এসে নির্বাচন করলেও তারা মোট ভোটের ২.৭০ শতাংশ অর্জন করে এবং একটি আসনে জয়ী হয়।

কেন প্রয়োজন পৃথক ছাত্রী সংগঠন?

১৯৮৭ সালে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় দলটির কোনো নারী শাখা ছিল না। তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে গত বছরের ৮ মার্চ তারা ৩৪ সদস্যের কেন্দ্রীয় মহিলা ইউনিট গঠন করে।

আগে নারীদের জন্য আলাদা কোনো ছাত্র সংগঠন তৈরির পরিকল্পনা ছিল না। তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় নারী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পৃথক প্ল্যাটফর্ম গড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গাজী আতাউর রহমান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

সাংগঠনিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, সাধারণ নারী ইউনিটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রত্যাশিত সাংগঠনিক প্রসার ঘটানো যাচ্ছে না। বয়সের ব্যবধান ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতাই এর প্রধান কারণ। নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণেও নারী ভোটার ও কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে, যেখান থেকেই মূলত স্বতন্ত্র ছাত্রী সংগঠন গড়ার চিন্তা শুরু হয়।

দলীয় সূত্র জানায়, নতুন এই সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও নেতৃত্বের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসিক কেন্দ্রীয় সভায় বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক মতবিনিময় হয়েছে এবং আগামী ১৮ মে’র বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। ঈদুল আজহার পরপরই সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

মাঠের রাজনীতি নাকি আদর্শ প্রচার?

সূত্র বলছে, এই সংগঠনটি কী ধরনের ভূমিকা পালন করবে তা নিয়ে দলের ভেতর ভিন্ন ভিন্ন মত ছিল। সংগঠনটি কি সরাসরি মাঠের রাজনীতিতে যুক্ত হবে, নাকি কেবল দাওয়াহ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকবে—তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের মতোই এই ছাত্রী উইং মূল দলের একটি স্বতন্ত্র ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের নেতৃত্বে বিভাগীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে এর কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

পরিশেষে দলের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সম্মতিতে শীর্ষ নেতারা এই উদ্যোগে একমত হয়েছেন।

দলটির নেতাদের বিশ্বাস, ইসলামপন্থী রাজনীতি নিয়ে নারীদের মধ্যে যে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে তা দূর করা সম্ভব হবে এবং নারী শিক্ষার্থীদের মাঝে সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে।

নেতৃত্বে কারা আসছেন?

দলীয় কাঠামো অনুযায়ী, ছাত্রী উইং মূল দলের নিয়ন্ত্রণে একটি স্বতন্ত্র শাখা হিসেবে পরিচালিত হবে। এতে আহ্বায়কসহ বিভাগীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্বশীলদের নিয়োগ দেওয়া হবে।

সূত্র বলছে, চিকিৎসক, শিক্ষিকা ও আলেম পর্যায়ের নারীদের নেতৃত্বের সারিতে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন পেশাজীবী ও শিক্ষর্থীদের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ নেতৃত্ব কাঠামো গঠনের লক্ষ্য রয়েছে দলটির।

প্রতিষ্ঠার পর বহু বছর দলটির কোনো নারী ইউনিট না থাকলেও, পরিস্থিতির প্রয়োজনে গত বছরের ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে তারা ৩৪ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় নারী ইউনিট গঠনের মাধ্যমে নতুন ধারার সূচনা করে।

নেতারা বলছেন, নারী শিক্ষার্থীদের কেবল ‘রাজনৈতিক কর্মী’ হিসেবে ব্যবহার না করে বরং জ্ঞান, দক্ষতা, সমাজসেবা ও নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে গড়ে তোলাই লক্ষ্য। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংগঠনিক বিস্তার ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

দলীয় নীতিনির্ধারকদের মতে, অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের মতো এই ছাত্রী সংগঠনটিও ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে এবং নির্বাচনী কার্যক্রমে বড় ভূমিকা পালন করবে।

মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান জানান, ছাত্রী উইংয়ের নিজস্ব নীতিমালা ও গঠনতন্ত্র থাকবে, তবে তা মূল দলের অধীনস্থ থাকবে। এটি কেবল নির্বাচনমুখী সংগঠন নয়, বরং নারীদের নৈতিক ও সামাজিকভাবে দক্ষ করে তোলাই মূল উদ্দেশ্য।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তরুণীদের মাঝে প্রভাব বিস্তারের জন্য এটি একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। তবে মাঠপর্যায়ে কতটা সক্রিয় হওয়া যায়, তার ওপরই নির্ভর করবে এই নতুন সংগঠনের সফলতা।



অনুসরণ করুন

logologologologologo

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store

খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com

সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।

স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)

ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।