খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
বিএনএন ডেস্ক

ইংরেজিতে কোনো বাক্য বা নামের শুরুতে বড় হাতের অক্ষর ব্যবহার একটি প্রচলিত নিয়ম। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, যেমন জেন-জিরা এই নিয়মটি খুব একটা মানছে না। তারা প্রায়শই সংক্ষিপ্ত ও অনানুষ্ঠানিক ভাষায় লিখে থাকে। এই প্রবণতা নিয়ে গবেষণা করেছেন রিডার্স ডাইজেস্টের একজন নিয়মিত লেখক, শার্লট হিলটন অ্যান্ডারসেন। তার ভাষায় বিষয়টি তুলে ধরা হলো:
চার সন্তানের মা হিসেবে আমি জেন-জিদের সাথে মিশে শিখেছি যে তাদের সামনে শুধু মাথা নেড়ে বোঝাতে হয় যে আমি সব বুঝতে পারছি। তাই যখন তারা মেসেজে বড় হাতের অক্ষর বা যতিচিহ্ন ব্যবহার করা বন্ধ করে দিল, আমি ভেবেছিলাম এটা হয়তো তাদের নতুন কোনো ট্রেন্ড। কিন্তু যখন তাদের স্কুলের রচনা সম্পাদনা করতে হলো, তখন আমি প্রায় চিৎকার করে উঠতে চেয়েছিলাম! কেন তারা ব্যাকরণের এই সাধারণ নিয়মগুলো এত উপেক্ষা করে? কেন তারা পরীক্ষার খাতাতেও টেক্সটিংয়ের ভাষা ব্যবহার করবে?
এই বিরক্তি শুধু আমার একার নয়। জেন-জিদের এই ‘সৃজনশীল’ ব্যাকরণ ব্যবহারের ধরন দেখে আমার মতো অনেক এল্ডার মিলেনিয়াল (১৯৮১-১৯৮৮ সালের মধ্যে যাদের জন্ম) বেশ বিভ্রান্ত।
প্রজন্ম বিষয়ক গবেষক এবং সেন্টার ফর জেনারেশনাল কাইনেটিকসের প্রেসিডেন্ট জেসন ডরসির মতে, এটি এখন একটি প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘জেন-জিদের মধ্যে লিখিত যোগাযোগের ক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী ব্যাকরণ এড়িয়ে চলার একটি সুস্পষ্ট প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বড় হাতের অক্ষর ও যতিচিহ্ন বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি বেশি লক্ষণীয়।’
জেসন ডরসির কথা শুনে আমার ১৫ বছর বয়সী মেয়ের সাথে হওয়া একটি মেসেজ আলাপের কথা মনে পড়ল। সে আমাকে খুব ছোট একটি মেসেজ পাঠিয়েছিল, যেখানে কোনো বড় হাতের অক্ষর বা যতিচিহ্ন ছিল না। মেসেজটি দেখে আমার কাছে বেশ রুক্ষ ও আক্রমণাত্মক মনে হয়েছিল। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ‘তোমার মেসেজ এত ছোট কেন? তুমি কি আমার ওপর রেগে আছ?’
তার উত্তর ছিল, ‘তুমি তোমার মেসেজে এতগুলো বিস্ময়সূচক ও প্রশ্নবোধক চিহ্ন দাও কেন? এগুলোর কোনো দরকার নেই। বিশেষ করে যখন তুমি পরপর তিনটা চিহ্ন দাও, তখন দেখতে খুব অদ্ভুত লাগে।’
প্রথমত, তার এত বড় সাহস! দ্বিতীয়ত, একজন বয়স্ক মিলেনিয়াল হিসেবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে একাধিক বিস্ময়সূচক চিহ্ন মানুষের প্রবল উৎসাহ প্রকাশ করে!!! কিন্তু ডরসি আমাকে আশ্বস্ত করে বললেন, এটি একদম স্বাভাবিক। ভাষা সবসময় পরিবর্তনশীল, আর সমাজের নিয়মকানুন বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে ভাষার ব্যবহারও বদলে যায়।

জেন-জিদের কেন বড় হাতের অক্ষরে এত আপত্তি
ডরসির মতে, জেন-জিদের এই বড় হাতের অক্ষর এড়িয়ে চলার পেছনে প্রধানত দুটি কারণ রয়েছে: অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের বৃদ্ধি এবং স্কুলে প্রথাগত লেখার দক্ষতার ওপর জোর কমে যাওয়া।
তবে এ বিষয়ে সরাসরি জেন-জিদের মতামত জানতেই আমি আমার সন্তানদের এবং তাদের বন্ধুদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তাদের উত্তরগুলো ছিল বেশ মজার।
স্যাম (২৩): ‘আমি নাম, জায়গা বা কোনো কিছুর প্রথম অক্ষর বড় হাতের করার ঝামেলায় যাই না। বড় হাতের হোক বা ছোট হাতের, শব্দের অর্থ তো আর বদলে যায় না। তাহলে এত কষ্ট করার কী দরকার?’
মিকা (১৮): ‘এর মধ্যে গভীর কিছু নেই। এটা করা অনেক সহজ, তাই করি।’
সামার (১৭): ‘বড় হাতের অক্ষর দেখলে মনে হয় যেন কেউ খুব ফরমাল বা নকল কিছু সাজার চেষ্টা করছে। মনে হয় যেন কেউ নিজের কথা নিয়ে খুব বেশি ভাবছে। এটা মোটেও স্বাভাবিক মনে হয় না।’
বিউক্স (২০): ‘আমি বড় হাতের অক্ষর টাইপ করি না। তবে আমার ফোন যদি নিজে থেকেই সেটা ঠিক করে দেয় (অটো কারেক্ট), তবে সেটা আবার ছোট হাতের করার এত সময় আমার নেই। কিন্তু ফোন যদি ঠিক না করে, তবে আমি নিজে কি-বোর্ডের “আপ অ্যারো” চেপে সেটা ঠিক করব না।’
ব্র্যান্ডিং বিশেষজ্ঞ স্কট বারাদেলের কাছে জেন-জিদের এই উত্তরগুলো মোটেও আশ্চর্যজনক মনে হয়নি। তিনি বলেন, ‘টিকটক বা ইনস্টাগ্রামের মতো মাধ্যমগুলোতে জেন-জিরা যেভাবে যোগাযোগ করে, তার সঙ্গে এই ছোট হাতের অক্ষরের ব্যবহার খুব ভালোভাবে মিলে যায়। তাদের কাছে ছোট হাতের অক্ষর মানেই অনানুষ্ঠানিক, ক্যাজুয়াল এবং খাঁটি অনুভূতি।’
স্কট বারাদেল বলেন, নিজেদের আরও বেশি বন্ধুবৎসল ও সহজলভ্য হিসেবে তুলে ধরতে ব্র্যান্ডগুলোর ছোট হাতের লোগো ব্যবহারের এই প্রবণতা নতুন কিছু নয়। উদাহরণস্বরূপ, ২০০০ সালে এনার্জি জায়ান্ট বিপি তাদের লোগো ছোট হাতের অক্ষরে পরিবর্তন করেছিল, যাতে তাদের পরিবেশবান্ধব ও সহজে মেশা যায়—এমন একটি ব্র্যান্ড হিসেবে মনে হয়।
তবে গত কয়েক বছরে জেন-জিদের আকৃষ্ট করতে এই ছোট হাতের অক্ষরের ব্যবহার বহুগুণ বেড়ে গেছে। জেনারেল মোটরস বা ডকুসাইনের মতো বড় কোম্পানিগুলোও নিজেদের লোগো রিব্র্যান্ডিং করার সময় ছোট হাতের অক্ষর বেছে নিয়েছে। স্কট বারাদেল বলেন, ‘ছোট হাতের লেখার স্টাইলটা দেখতে খুব একটা যান্ত্রিক মনে হয় না। এটি বর্তমান প্রজন্মের খুব পছন্দের।’
হেয়ার-কেয়ার কোম্পানি অ্যামিকা তাদের প্যাকেজিংয়ে ছোট হাতের অক্ষর ব্যবহার করে, যাতে তাদের পণ্যগুলো দেখতে খুব চিল বা রিলাক্সড মনে হয়। আবার স্পটিফাই তাদের প্লেলিস্টের নামগুলোও খুব ক্যাজুয়ালভাবে ছোট হাতের অক্ষরে রাখে। ব্র্যান্ডগুলো প্রতিটি ছোট হাতের অক্ষরের মাধ্যমে যেন জেন-জিদের বলছে, ‘আরে ভাই, আমরাও তোমাদের মতোই কুল!’
কখন এই ট্রেন্ড এড়িয়ে চলা উচিত
লাইফস্টাইল, বিউটি বা টেক ব্র্যান্ডগুলোর জন্য এটি দারুণ কাজ করলেও স্কট বারাদেল মনে করেন, ব্যাংকিং বা স্বাস্থ্যসেবা খাতে এটি মোটেও উপযুক্ত নয়। আপনার টার্গেট অডিয়েন্স বা গ্রাহক কারা, তার ওপর ভিত্তি করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
ছোট হাতের অক্ষরের মেসেজ পেলে কী করা উচিত
ডরসি বলেন, এটি নির্ভর করে আপনি কার সঙ্গে এবং কোথায় কথা বলছেন তার ওপর। মেসেঞ্জারে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় এটি কোনো বড় সমস্যা নয়। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে, যেখানে পেশাদারি যোগাযোগ আশা করা হয়, সেখানে এটি অবশ্যই একটি সমস্যা।
কর্মক্ষেত্রে পুরোনো প্রজন্মের অনেকেই জেন-জিদের এই ছোট হাতের অক্ষরের ব্যবহার দেখে তাদের অলস, অগোছালো বা নির্বোধ মনে করেন। তবে ডরসির মতে, এই স্টেরিওটাইপগুলো মোটেও সত্যি নয়; এটি মূলত সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া নিয়মেরই প্রতিফলন।
তাই ছোট হাতের অক্ষরে লেখা কোনো মেসেজ পেলে আপনি এই বিষয়গুলো মাথায় রাখতে পারেন:
তাল মিলিয়ে চলা: যদি কেউ সব ছোট হাতের অক্ষরে লেখে, তবে আপনিও তাদের মতো করেই লিখতে পারেন। এতে কথোপকথন খুব স্বাভাবিক মনে হয়।

নিজের স্টাইল ধরে রাখা: আপনি যদি ছোট হাতের লেখা পছন্দ না করেন, তবে আপনাকে সেটা জোর করে করতে হবে না। আপনি আপনার নিয়ম মেনেই সঠিক ব্যাকরণ ব্যবহার করতে পারেন।
সংশয় থাকলে জিজ্ঞাসা করা: বড় হাতের অক্ষর বা যতিচিহ্নের অভাবে যদি মেসেজের অর্থ অস্পষ্ট হয়ে যায়, তবে ওভারথিংক না করে সরাসরি জিজ্ঞাসা করে নেওয়া ভালো।
জেন-জিরা বড়দের ব্যাকরণগত ভুল ধরিয়ে দিলে কি তাদের শুধরে দেওয়া উচিত? ডরসির মতে, আপনি যদি তাদের মা-বাবা বা শিক্ষক হন এবং তাদের বয়স কম হয়, তবে কোথায় ফরমাল আর কোথায় ইনফরমাল ভাষা ব্যবহার করতে হবে, তা তাদের বুঝিয়ে বলা উচিত। কিন্তু অন্য কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ভুল ধরাটা বেশ অভদ্রতা। তবে হ্যাঁ, আপনি যদি কর্মক্ষেত্রে কোনো জেন-জি কর্মীর ম্যানেজার হন, তবে ক্লায়েন্ট ও সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের সময় পেশাদারি ব্যাকরণ ব্যবহারের নির্দেশ আপনি দিতেই পারেন।
জেন-জিরা যেভাবে যোগাযোগের নিয়ম বদলে দিচ্ছে
বড় হাতের ও ছোট হাতের অক্ষরের বিতর্ক একেবারে এড়িয়ে যাওয়ার একটি মোক্ষম উপায় বের করেছে জেন-জি ও জেন-আলফা প্রজন্ম। ডরসি জানান, তারা এখন মেসেজ টাইপ করা বা ই-মেইল পাঠানোর বদলে ভয়েস মেমো বা ছোট ভিডিওর দিকে ঝুঁকে পড়ছে। মানে সেখানে কোনো বড় হাতের অক্ষর বা যতিচিহ্নের ঝামেলাই নেই!
তবে এর মানে এই নয় যে তারা কথা বলতে খুব ভালোবাসে। জেন-জিদের অনেকেই ফোনে সরাসরি কথা বলতে প্রচণ্ড ঘৃণা করে। তারা ফোন কলের উত্তর না দিয়ে মেসেজ পাঠাতে বেশি পছন্দ করে। ভয়েস মেমো বা ভিডিও পাঠানোর মাধ্যমে তারা ভেবেচিন্তে উত্তর দেওয়ার জন্য কিছুটা সময় পায়, যা ফোন কলে পাওয়া যায় না।
ডরসির মতে, এই পরিবর্তন যোগাযোগের মাধ্যমকে ভবিষ্যতে আরও বেশি বদলে দেবে। আগামী দিনে হয়তো সর্বত্রই ক্যাজুয়াল কথা বলার স্টাইলটি স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হবে। তবে আপাতত, আমরা আমাদের বড় হাতের অক্ষরগুলোকে পুরোপুরি হারাচ্ছি না!
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন




