খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
বিএনএন ডেস্ক

জাপানের ওসাকার সেনরি মিনামি পার্কে গত ২৬ এপ্রিল প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে আয়োজিত হলো নববর্ষ উদ্যাপন ও বৈশাখী মেলা। ‘কানসাই বৈশাখী মেলা কমিটি’র উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়, যেখানে বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতির ছোঁয়া খুঁজে পেয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা।
প্রবাসের ব্যস্ততা ভুলে বাঙালিরা এদিন মেতে উঠেছিলেন দেশীয় আমেজে। গান, নাচ আর ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমাহারে পার্ক প্রাঙ্গণটি হয়ে উঠেছিল উৎসবমুখর। ছোট-বড় সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দূর পরবাসে এক টুকরো বাংলাদেশ যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছিল।
জাপানের ওসাকা ও এর পার্শ্ববর্তী প্রিফেকচারগুলো নিয়ে গঠিত ‘কানসাই’ অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি সর্বজনীন বৈশাখী উৎসবের। টোকিও বা ফুকুওকার মতো শহরগুলোর তুলনায় ভৌগোলিকভাবে কিছুটা দূরে হওয়ায় এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।
ওসাকায় বসবাসরত শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, গবেষক ও চাকরিজীবীদের পাশাপাশি তাদের নতুন প্রজন্মের সন্তানদের কাছে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। প্রবাস জীবনে শেকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংযোগ ঘটাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এ অঞ্চলে বাংলাদেশিদের এত বড় মিলনমেলা আগে কখনো দেখা যায়নি। মিনামি সেনরি পার্কের উৎসবমুখর পরিবেশ মুহূর্তের জন্য যেন ঢাকার রমনার বটমূলের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জাপানি নাগরিকদের সরব উপস্থিতি আয়োজনের জৌলুস বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ।
বর্ষবরণের ঐতিহ্য অনুযায়ী অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয় পান্তা-ইলিশ, শুটকি ও বিভিন্ন ধরনের ভর্তা দিয়ে। খাবারের স্বাদ আর সাউন্ড সিস্টেমে বাজানো ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের সুর উপস্থিত সবার মনে এক গভীর আবেগ আর প্রশান্তি ছড়িয়ে দেয়।
দূর প্রবাসের জীবনের নানা গল্প, অনুষ্ঠান, ছবি বা অভিজ্ঞতার কথা আমাদের কাছে পাঠাতে পারেন। ই-মেইল করুন এই ঠিকানায়: dp@editorial.com
নতুন বছরের প্রত্যুষে আয়োজিত এই মেলা সবার মনে নতুন উদ্যমে পথচলার সাহস ও আশার আলো জাগিয়েছে।
জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক পর্বের সূচনা হয়। এরপর শিল্পী রুমি খন্দকারের সুরের মূর্ছনায় মুগ্ধ হন দর্শকরা। নাচ ও গানের ছন্দময় পরিবেশনা অনুষ্ঠানটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। দুপুরের খাবারে ছিল সুস্বাদু মাটন বিরিয়ানি। রফিক আজিজ ও সাজ্জাদ হোসেনসহ কমিটির সদস্যদের আপ্যায়ন ও আতিথিয়েতা ছিল প্রশংসনীয়।

জাপানি অতিথিরা প্রথমবারের মতো বাঙালির এমন সংস্কৃতি ও খাবারের স্বাদ পেয়ে অভিভূত হয়েছেন। দুপুরের পর ছিল র্যাফল ড্র ও পুরস্কার বিতরণী পর্ব, যা দর্শকদের মধ্যে বাড়তি আনন্দ যোগ করে। আয়োজনের সফলতায় নিপুণ, সাজ্জাদ হোসেন, রুমি খন্দকার, রফিক আজিজ, মিরাজ হোসেন, মিরাজ হাওলাদার এবং জাহিদুর রায়হানসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কঠোর পরিশ্রম প্রশংসার দাবি রাখে।
ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই মেলা আয়োজনের মাধ্যমে প্রবাসে বাংলার সংস্কৃতি ও ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে বদ্ধপরিকর আয়োজক কমিটি। দূর পরবাসে এভাবেই যেন চিরকাল বেজে ওঠে বাঙালির বসন্তের সুর।
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন




