খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
বিএনএন ডেস্ক

স্কোরকার্ড:
বাংলাদেশ: ৪১৩ ও ২৪০/৯ (ডিক্লেয়ার)
পাকিস্তান: ৩৮৬ ও ১৬৩
ফলাফল: বাংলাদেশ ১০৪ রানে জয়ী।
নাহিদ রানার ১৪৭ কিলোমিটার গতির একটি অদম্য ডেলিভারি অফ স্টাম্পের বাইরে থেকে ভেতরে ঢুকে যখন মোহাম্মদ রিজওয়ানের স্টাম্প উপড়ে দিল, মিরপুরের গ্যালারি তখন উল্লাসে ফেটে পড়ে। রিজওয়ান বলের লাইন বুঝতে না পেরে শুধু তাকিয়েই থাকলেন। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ এমন অনেক মুহূর্তেরই সাক্ষী হলো ক্রিকেটপ্রেমীরা।
মূলত বাংলাদেশের বোলারদের সাঁড়াশি আক্রমণের সামনে পাকিস্তানি ব্যাটাররা দাঁড়াতেই পারেননি। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে নাহিদ রানা গতির ঝড় তুলেছেন, সাথে তাসকিনের গতি আর মিরাজ-তাইজুলের স্পিন বিষে নীল হয়ে প্রথম টেস্টে পাকিস্তান ১০৪ রানে হার মানল।
রাওয়ালপিন্ডিতে জয়ের ধারা বজায় রেখে মিরপুর টেস্টেও ছক কষা জয় তুলে নিল বাংলাদেশ। শেষ দিনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের দুটি প্রধান লক্ষ্য ছিল। প্রথমত, দ্রুত রান তুলে লিড ২৫০ ছাড়িয়ে যাওয়া এবং দ্বিতীয়ত, পাকিস্তানকে অলআউট করার জন্য যথেষ্ট সময় হাতে রাখা। বোলাররা সেই পরিকল্পনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্টের শেষ দিনের চিত্র ছিল অনেকটা পূর্বপরিকল্পিত। প্রথম সেশনে মাত্র ২০ ওভার খেলে বাংলাদেশ দল ২৪০ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে। জয়ের জন্য পাকিস্তানের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮ রান। পর্যাপ্ত আলো থাকা অবস্থায় ম্যাচ শেষ করার যে তাড়া ছিল, স্বাগতিক বোলাররা তা সফলভাবে সম্পন্ন করেন।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর আক্ষেপ থাকতে পারে মাত্র ১৩ রানের জন্য টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি মিস করায়। ব্যক্তিগত ৮৭ রানে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে নোমান আলীর বলে এলবিডব্লিউর শিকার হন তিনি। রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি।

লাঞ্চের আগেই ২৬৭ রানের লিড নিয়ে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে চাপে ফেলে দেয় বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুলের দক্ষ পরিচালনায় বোলাররা দারুণ শুরু করেন। তাসকিন আহমেদের করা ইনিংসের প্রথম ওভারেই ইমাম-উল হক ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।
চা বিরতির আগে পাকিস্তান আরও দুটি উইকেট হারায়। নাহিদ রানার বলে অধিনায়ক শান মাসুদ আউট হলে সফরকারীরা বেশ বিপদে পড়ে। আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আগার জুটি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি।
সেট ব্যাটার আব্দুল্লাহ ফজলকে তাইজুল ইসলাম সাজঘরে ফেরত পাঠানোর পর তাসকিন আহমেদ তুলে নেন সালমান আগাকে। ১২১ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর পাকিস্তান কেবল ড্র করার লক্ষ্য নিয়ে খেলতে থাকে। সৌদ শাকিল ও রিজওয়ান অত্যন্ত রক্ষণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন।

তবে পাকিস্তানের সব লড়াই থামিয়ে দেন নাহিদ রানা। নিজের টানা তিন ওভারে তিনি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের পথ প্রশস্ত করেন। মাঝে তাইজুল ইসলাম হাসান আলীকে এলবিডব্লিউ করলে পাকিস্তানের পতন ত্বরান্বিত হয়।
শেষে শাহিন আফ্রিদিকে আউট করে নিজের ৫ উইকেট পূর্ণ করেন নাহিদ রানা। বাংলাদেশের এই বিশাল জয়ে তিনি গতির জাদুতে এক অনন্য মাত্রা যোগ করেন।
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন




