খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
বিএনএন ডেস্ক

খাগড়াছড়ির রামগড়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি দল আক্রমণের শিকার হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে ফাঁকা গুলি এবং আনসার বাহিনীকে রাবার বুলেট ব্যবহার করতে হয়েছে। এই ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) কমপক্ষে ১৫ জন ব্যক্তি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। আক্রমণের মুখে একপর্যায়ে অভিযান বন্ধ করে সংশ্লিষ্টদের ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে হয়।
এই ঘটনাটি মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে রামগড় ইউনিয়নের পূর্ব বলিপাড়া ও দক্ষিণ লামকপাড়া অঞ্চলে ঘটেছে।
আহতদের তালিকায় রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম, রামগড় থানার ওসি মো. নাজির আলম এবং ইউএনওর নিরাপত্তায় নিযুক্ত চার আনসার সদস্য মো. সালাহ উদ্দিন (৩৮), নুর মোহাম্মদ (২৫), নুর মোহাম্মদ (৩৩), খোরশেদ আলম (৩৭) অন্তর্ভুক্ত আছেন। এছাড়াও আহত হয়েছেন ইউএনও কার্যালয়ের কর্মী আবদুল ওহাব জুয়েল (৩০), গাড়িচালক কামাল উদ্দিন (৪০), উপজেলা পরিষদের কর্মচারী মো. হারুন (৪৫), প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মী জয়নাল আবেদীন (৪২), পৌরসভার কর্মচারী সিহাব উদ্দিন (২৬) এবং স্থানীয় বাসিন্দা নুর হোসেন (১৯), সুমন ত্রিপুরা (২২), আজাদ (২৫), আবুল হাসান (৩০)।
চারজন আহত গ্রামবাসী নিশ্চিত করেছেন যে তাদের জখম রাবার বুলেটের আঘাতে হয়েছে। সকল আহত ব্যক্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম জানান যে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দুপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছিল। কিছু ব্যক্তি এই কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করে এবং পরবর্তীতে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন লোক ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আক্রমণ চালায়। এতে তিনি নিজে সহ মোট ১১ জন আঘাত পান।
কাজী শামীম আরও যোগ করেন যে, উক্ত এলাকায় প্রায় দশটি স্থানে পাম্প ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল।
রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাজির আলম বিবৃত করেছেন যে, শতাধিক নারী-পুরুষ একসাথে হয়ে আক্রমণ করলে পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশকে পাঁচটি ফাঁকা গুলি ও আনসার সদস্যদেরকে পাঁচটি রাবার বুলেট নিক্ষেপ করতে হয়।
অন্যদিকে, আহত স্থানীয় বাসিন্দা মো. দেলোয়ার, সুমন এবং নুর হোসেন দাবি করেছেন যে, প্রশাসনিক কর্মীরা কৃষকদের সেচকার্যে ব্যবহৃত খালের পাড়ে রাখা চারটি পাম্প মেশিন ধ্বংস করেছেন। গ্রামবাসীরা এতে প্রতিবাদ করলে তাদের উপর গুলি চালানো হয়েছিল।
স্থানীয় কৃষক মো. ফারুক অভিযোগ করেছেন যে, অভিযানের সময় তার একটি সেচপাম্প নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। একই অভিযোগ করেছেন কিবরিয়া ও বশর নামের আরও দুই কৃষক, যাদের সেচপাম্পও ভাঙা হয়েছে।
তবে, কৃষকদের সেচপাম্প ভাঙচুর করার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন ইউএনও কাজী শামীম।
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন




