খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
বিএনএন ডেস্ক

একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরীর অন্যতম প্রধান শর্ত হলো পর্যাপ্ত উন্মুক্ত স্থান এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ খেলার জায়গা। কিন্তু ঢাকা মহানগরীর বর্তমান বাস্তবতায় এই শর্ত যেন এক নির্মম পরিহাসে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার শিশুপার্ক ও খেলার মাঠের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা নাগরিক হিসেবে আমাদের লজ্জিত করে।
পুরান ঢাকার লালবাগ থেকে শুরু করে মোহাম্মদপুর—সবখানেই একই হতাশাজনক চিত্র। লালবাগে শিশুদের খেলার দোলনাগুলো তালাবদ্ধ করে রাখার মতো অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়ছে। প্রশ্ন জাগে, পার্ক যদি শিশুদের জন্য উন্মুক্তই না থাকে, তবে এই অবকাঠামো তৈরিতে জনগণের করের অর্থ ব্যয়ের সার্থকতা কোথায়? নবাবগঞ্জ ও হাজারীবাগের শিশুরা ভাঙা দোলনায় টায়ার বা দড়ি বেঁধে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেলছে। এটি কেবল একচিলতে বিনোদনের জন্য তাদের আকুতি নয়, বরং আমাদের নগর কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার এক জ্বলন্ত প্রমাণ। লালমাটিয়া ত্রিকোণ পার্কের স্কেটিং গ্রাউন্ডটি এখন ডোবায় পরিণত হয়েছে, যা মশার প্রজননকেন্দ্রে রূপ নিয়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বারবার উল্লেখ করছেন, খেলার মাঠের অভাবে শিশুরা ক্রমেই চার দেয়ালের মাঝে বন্দী হয়ে পড়ছে। এর ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একদিকে বাড়ছে স্থূলতা ও চোখের সমস্যার মতো শারীরিক জটিলতা, অন্যদিকে স্মার্টফোনের প্রতি আসক্তি তাদের সামাজিক দক্ষতা কমিয়ে দিচ্ছে। পার্কগুলোতে যখন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও ভাঙা সরঞ্জামের ছড়াছড়ি থাকে, তখন অভিভাবকেরাও সন্তানদের সেখানে নিতে ভয় পান। ফলে আমাদের অজান্তেই আমরা এক বিষণ্ন ও অন্তর্মুখী প্রজন্ম তৈরি করছি।
এসব পার্ক রক্ষণাবেক্ষণে সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর চরম উদাসীনতা দৃশ্যমান। নির্মাণের পর যথাযথ তদারকি না থাকায় কোটি কোটি টাকার সরঞ্জাম অকেজো হয়ে যাচ্ছে। পার্কের ভেতর ময়লার স্তূপ বা নর্দমার পানি জমে থাকা প্রমাণ করে যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো কার্যকর নজরদারি নেই। এটি খুবই হতাশাজনক ও দুঃখজনক।
প্রত্যেক মাঠ ও পার্কে আগামী সাত দিনের মধ্যে সংস্কারকাজ শুরু করতে হবে। ভাঙা সরঞ্জাম সরিয়ে আধুনিক ও নিরাপদ সামগ্রী স্থাপন করতে হবে। মাঠ ও পার্ক তালাবদ্ধ রাখা যাবে না। পার্ক ও মাঠগুলোকে দখলমুক্ত ও আধুনিকায়ন করে শিশুদের জন্য উন্মুক্ত করে দিন। আধুনিকায়ন করতে গিয়ে প্রকল্পের নামে যেন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি না হয়, সেদিকেও কঠোর লক্ষ রাখতে হবে। প্রতিটি পার্কের জন্য স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের নিয়ে একটি তদারকি কমিটি গঠন করা যেতে পারে, যারা নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করবে।
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন




