খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
বিএনএন ডেস্ক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক অভিযান চালালে তেহরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতে হামলা শুরু করে। সেই তালিকায় সৌদি আরবও ছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় সৌদি আরবও গোপনে ইরানের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি হামলা পরিচালনা করে।
রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুজন পশ্চিমা কর্মকর্তা ও ইরানের দুজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রয়টার্সের ভাষ্যমতে, সৌদি আরবের এমন সরাসরি সামরিক অভিযানের কথা আগে কখনো প্রকাশ পায়নি। এটি প্রমাণ করে যে, নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় সৌদি আরব তার প্রধান আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পশ্চিমা কর্মকর্তারা জানান, মার্চের শেষ দিকে সৌদি বিমানবাহিনী এই অভিযান চালিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁদের একজন জানান, সৌদি ভূখণ্ড আক্রান্ত হওয়ার পর পাল্টা জবাব দিতেই এই হামলার পথ বেছে নেয় রিয়াদ।
তবে এই অভিযানের লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এসব হামলার বিষয়টি এখনো স্বীকার বা অস্বীকার করেনি।
গত সোমবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানে পাল্টা সামরিক অভিযান চালিয়েছিল। এরপর রয়টার্সের প্রতিবেদনে সৌদি আরবের গোপন হামলার খবর সামনে এল। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতায় ইরানি হামলার শিকার হওয়ার পর উপসাগরীয় দেশগুলোর পাল্টা আঘাতের বিষয়টি এতদিন আড়ালেই ছিল।
ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে জানতে রয়টার্সের পক্ষ থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হলে কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সামরিক সুরক্ষার ওপর নির্ভরশীল সৌদি আরব এবারের ইরান যুদ্ধের সময় কিছুটা অরক্ষিত হয়ে পড়ে। এমনকি মার্কিন প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করেও ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি ভূখণ্ডে আঘাত হানে।

প্রতিবেশীদের ওপর ইরানের পাল্টা আঘাত
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান দ্রুত উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থার (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়। এর ফলে পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
ইরানি হামলার লক্ষ্য ছিল কেবল মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নয়, বরং বেসামরিক স্থাপনা, বিমানবন্দর ও তেল শোধনাগারও। হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাণিজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে এবং এর প্রভাব পড়ে সৌদি আরবসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান-বিষয়ক পরিচালক আলী ভায়েজ বলেন, ইরানের ভূখণ্ডে সৌদি আরবের প্রতিশোধমূলক হামলা এবং পরবর্তীতে উত্তেজনা কমানোর যে বোঝাপড়া, তা থেকে উভয় পক্ষই বুঝতে পেরেছে যে, অনিয়ন্ত্রিত সংঘাতের চড়া মূল্য কাউকে দিতে হবে না।
গত সোমবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে জানা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানে পাল্টা সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিল। এরপরই রয়টার্সের মাধ্যমে সৌদি আরবের গোপন হামলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর এই পাল্টা হামলার বিষয়টি এত দিন জনসমক্ষে খুব একটা আলোচিত হয়নি।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কৌশল ছিল ভিন্ন। আমিরাত বেশ आक्रामक অবস্থান নিলেও সৌদি আরব সংঘাত বৃদ্ধির পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজেছে। রিয়াদে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে উভয় পক্ষের নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।
এ বিষয়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা সরাসরি কিছু না বললেও জানান, তারা এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা হ্রাসের পক্ষে কাজ করছেন।
হামলা ও উত্তেজনা নিরসন

ইরান ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, হামলার বিষয়টি সৌদি আরব সরাসরি তেহরানকে জানিয়েছিল এবং সতর্ক করেছিল যে, পরবর্তীতে হামলা হলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। এর ফলেই দুই দেশ আলোচনার টেবিলে আসে।
আলী ভায়েজ মনে করেন, সংঘাতের ভয়াবহতা উপলব্ধি করেই দুই দেশ উত্তেজনা কমানোর পথ বেছে নেয়। ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগেই সৌদি-ইরান উত্তেজনা প্রশমনের প্রক্রিয়াটি অনেকটাই দৃশ্যমান হয়। তেহরান ও রিয়াদ শত্রুতা কমিয়ে পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে একমত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইরান ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, সৌদি আরব তাদের হামলার খবর তেহরানকে অবহিত করে এবং কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশ কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনে সম্মত হয়।
দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান ও সৌদি আরব ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় স্থাপন করে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় অঞ্চলটি জ্বালানি সংকটে পড়লেও লোহিত সাগরের বিকল্প পথে সৌদি আরব তাদের তেল রপ্তানি সচল রাখতে সক্ষম হয়, যা তাদের কিছুটা অর্থনৈতিক সুরক্ষা দেয়।
কূটনৈতিক তৎপরতা
গত ১৯ মার্চ রিয়াদে এক সংবাদ সম্মেলনে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান মন্তব্য করেছিলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ অধিকার সৌদি আরবের রয়েছে।

এর তিন দিন পর রিয়াদ ইরান দূতাবাসের চার কর্মকর্তা ও এক সামরিক কর্মকর্তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। তবে মার্চের শেষের দিকে এসে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমে আসে। কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সৌদি আরবের কঠোর অবস্থানের কারণেই দুই পক্ষ শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২৫ থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে তাদের ভূখণ্ডে ১০৫টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছিল। যদিও এপ্রিলের প্রথম দিকে সেই আক্রমণের হার অনেকটা কমে আসে।
এক পর্যায়ে ইরান ও ইরাকের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে সৌদি আরব কঠোর হওয়ার কথা ভাবলে পাকিস্তান সেখানে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে ও মধ্যস্থতার চেষ্টা চালায়। শেষ পর্যন্ত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির ফলে পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত হয়ে আসে।
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন








