খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
বিএনএন ডেস্ক

বাংলাদেশে গ্রীষ্মের দাবদাহ ও উচ্চ আর্দ্রতা ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে। অতিরিক্ত গরম শরীরকে পানিশূন্য করে তোলে, রক্তের শর্করার মাত্রায় অস্থিরতা সৃষ্টি করে এবং হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এই সময়ে ডায়াবেটিস রোগীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন এবং জীবনযাপনে সঠিক নিয়ম মেনে চলা অপরিহার্য।
প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন
গ্রীষ্মকালে ঘাম বেশি হওয়ার কারণে শরীর দ্রুত জলশূন্য হয়ে পড়ে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দিনে অন্তত ২ থেকে ৩ লিটার জল পান করা উচিত। যেকোনো ধরনের কোমল পানীয় বা অতিরিক্ত মিষ্টিযুক্ত পানীয় পান করা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।
সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ
গরমকালে সহজপাচ্য ও হালকা খাবার খাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। তেল-মসলাযুক্ত এবং অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার বর্জন করা উচিত। লাল চাল, আটার তৈরি খাবার, ডাল, প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি ও ফলমূল খাদ্য তালিকায় যুক্ত করুন। অল্প অল্প করে ঘন ঘন খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রার হঠাৎ পরিবর্তন এড়ানো যায়।
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা
গরমের সময় শরীরের বিপাক ক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে, যার ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ হঠাৎ করে কম বা বেশি হতে পারে। তাই গ্লুকোমিটার দিয়ে নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ বা ইনসুলিনের ডোজ পরিবর্তন করা জরুরি।
শারীরিক কার্যকলাপ ও ব্যায়াম
অতিরিক্ত গরমে বাইরে strenuous ব্যায়াম করলে শরীর পানিশূন্য হয়ে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। তাই সকালের প্রথম ভাগ বা সন্ধ্যার পর হালকা হাঁটাচলা বা ব্যায়াম করা যেতে পারে। প্রখর রোদে দীর্ঘক্ষণ কাটানো থেকে দূরে থাকুন।
ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা
গরমের আর্দ্রতা ও ঘামের কারণে ত্বকে নানা ধরনের সংক্রমণ ও ফাঙ্গাল ইনফেকশন হতে পারে। প্রতিদিন স্নান করা, পরিষ্কার পোশাক পরা এবং পায়ের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ডায়াবেটিস রোগীদের পায়ে কোনো ক্ষত হলে দ্রুত তার চিকিৎসা করানো আবশ্যক।
কিছু জরুরি সতর্কতা
দীর্ঘক্ষণ সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলুন।
মাদকদ্রব্য এবং ধূমপান থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।
হঠাৎ দুর্বল লাগলে, মাথা ঘুরলে বা অতিরিক্ত ঘাম হলে অবিলম্বে বিশ্রাম নিন এবং প্রয়োজনবোধে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন।
শেষ কথা
গরমকালে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিরাপদ থাকতে হলে সচেতনতা ও জীবনযাত্রায় শৃঙ্খলা মেনে চলা সবচেয়ে জরুরি। পর্যাপ্ত জল পান, স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে অনেক জটিলতা এড়ানো সম্ভব। এই গ্রীষ্মে সুস্থ থাকতে হলে প্রত্যেক রোগীর নিজের শরীরের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে কোনো দ্বিধা করা উচিত নয়।
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন








