খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
বিএনএন ডেস্ক

বন্ধুর সঙ্গে কক্সবাজার ভ্রমণের আনন্দঘন মুহূর্ত শেষ হতে না হতেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ঝিনাইদহের দুই তরুণ। এদের মধ্যে একজন বিজিবি সদস্য নাইমুর ইসলাম জিহাদ (২১)। ছেলের মৃত্যুতে তার মা শয্যাশায়ী এবং বাবা শোকে বাক্রুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। একই চিত্র নাঈম মিয়ার (২১) বাড়িতেও।
গত শনিবার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ার চুনতি এলাকায় মারছা পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হন, যাদের মধ্যে ঝিনাইদহের এই দুই বন্ধু ছিলেন।
নিহত নাইমুর ইসলাম সদর উপজেলার বাজারগোপালপুর গ্রামের চাঁন আলীর এবং নাঈম মিয়া পোতাহাটি গ্রামের আনোয়ার খন্দকারের সন্তান। রোববার বিজিবি সদস্য নাইমুরের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং নাঈম মিয়ার মরদেহ রাতেই দাফন সম্পন্ন করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘনিষ্ঠ বন্ধু নাইমুর ও নাঈম গত ৪ মে কক্সবাজার ভ্রমণে যান। ফেরার পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে এক নারী এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে দুই বন্ধু মৃত্যুবরণ করেন।
নাইমুর ইসলামের মা আমেনা খাতুন ছেলের শোকে শয্যাশায়ী হয়ে এখন চিকিৎসাধীন। বাবা কৃষক চান আলী পাথরের মতো স্তব্ধ। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড়জন মালয়েশিয়ায় প্রবাসী। মেধাবী নাইমুর চলতি বছর এইচএসসি পাস করে বিজিবিতে যোগ দিয়েছিলেন। চাকুরির অল্পদিনের মাথায় ছুটিতে বাড়ি এসে বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে গিয়েই এমন ট্র্যাজেডির শিকার হলেন তিনি।
সোমবার নাইমুরের বাড়িতে দেখা যায়, শোকে কাতর মা আমেনা খাতুন স্যালাইন নিয়ে চৌকিতে শুয়ে আছেন এবং বাবা ছেলের স্মৃতি হাতড়ে বিলাপ করছেন। স্বজনরা তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না।
বিছানায় শুয়ে মা আমেনা খাতুন আক্ষেপ করে বলেন, ‘হাসিখুশি ছেলেকে কত আশা নিয়ে চাকরিতে পাঠিয়েছিলাম, সে ফিরল লাশ হয়ে। আমার কলিজার টুকরাকে কবরে রেখে আমি কীভাবে বাঁচব?’
পিতা চান আলী বলেন, ‘অনেক কষ্টে বড় ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। ছোট ছেলেটা লেখাপড়ায় ভালো ছিল, নিজে চেষ্টায় বিজিবির চাকরি পেয়েছিল। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল।’
অন্যদিকে পোতাহাটি গ্রামে নাঈম মিয়ার বাড়িতেও চলছে শোকের মাতম। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে মা গোলাপী খাতুন বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন।
নাঈমের চাচা সাইফুল ইসলাম জানান, তাঁর ভাই আনোয়ার খন্দকার চায়ের দোকান চালিয়ে নাঈমকে বড় করেছিলেন। নাঈমই ছিল পরিবারের একমাত্র আশা। তিনি আরও জানান, লোহাগাড়া থানায় ঘাতক বাসের চালক ও হেলপারের বিরুদ্ধে তিনি নিজেই বাদী হয়ে মামলা করেছেন। রোববার রাতে পারিবারিক কবরস্থানে নাঈমকে সমাহিত করা হয়েছে।
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন








