খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
বিএনএন ডেস্ক

সন্তান ধারণের ইচ্ছা প্রকাশের পর কিছু দম্পতি অল্প সময়ের মধ্যেই সফল হন, আবার কারো কারো দীর্ঘ সময় লাগে। যারা এক বছর ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণ ছাড়াই চেষ্টা করার পরও সন্তান ধারণে ব্যর্থ হন, তাদের বন্ধ্যাত্বের কারণ নির্ণয়ের জন্য কিছু পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা পরীক্ষার মাধ্যমে বন্ধ্যাত্বের কারণ শনাক্ত করতে পারেন এবং সে অনুযায়ী দম্পতিদের চিকিৎসা প্রদান করেন। স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের জন্য কিছু মৌলিক শর্ত পূরণ করা জরুরি, যা সকলেরই জানা উচিত।
নারীর ডিম্বাণু উৎপাদন ও নিঃসরণ স্বাভাবিক থাকতে হবে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে 'ওভুলেশন' নামে পরিচিত।
ন্যূনতম একটি ফেলোপিয়ান টিউব খোলা থাকতে হবে। এই টিউবগুলো ডিম্বাণু, শুক্রাণু এবং ভ্রূণ চলাচলের পথ হিসেবে কাজ করে এবং জরায়ুতে ভ্রূণ প্রতিস্থাপনে সহায়তা করে।
জরায়ুর ধারণ ক্ষমতা থাকতে হবে। জরায়ুর ভেতরের আস্তরণ (এন্ডোমেট্রিয়াম) ভ্রূণ প্রতিস্থাপনের জন্য উপযুক্ত হওয়া আবশ্যক।
পুরুষের শুক্রাণুর পরিমাণ স্বাভাবিক থাকতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কর্তৃক নির্দেশিত 'সিমেন অ্যানালাইসিস' (শুক্রাণু বিশ্লেষণ) এর মাধ্যমে এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়।
পুরুষের যৌন সহবাসে সক্ষমতা থাকতে হবে। অক্ষমতা থাকলে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলন সম্ভব হয় না।
এই শর্তগুলো পূরণ হওয়ার পরও যদি কোনো দম্পতি এক বছরের মধ্যে সন্তান ধারণে ব্যর্থ হন, তবে তাকে 'ব্যাখ্যাহীন বন্ধ্যাত্ব' বা 'আনএক্সপ্লেইন্ড ইনফার্টিলিটি' বলা হয়।
কী করা উচিত
গবেষণায় দেখা গেছে, ১০ থেকে ৩০ শতাংশ দম্পতি ব্যাখ্যাহীন বন্ধ্যাত্বে ভুগতে পারেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, দুই বছর পর্যন্ত নিজেরা চেষ্টা করলে অবশেষে সফল হওয়া যায়। এই ধরনের পরিস্থিতিতে, শুধুমাত্র ডিম্বাণু তৈরির ওষুধ সেবনের পরিবর্তে, IUI (Intrauterine Insemination) বা সরাসরি IVF/ICSI (In Vitro Fertilization/Intracytoplasmic Sperm Injection) চিকিৎসা গ্রহণ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। সাধ্যের মধ্যে থাকলে এই ধরনের চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
তবে, কিছু ক্ষেত্রে ল্যাপারোস্কপি ও হিস্টেরোস্কপি সার্জারি নতুন সমস্যা নির্ণয়ে সহায়ক হতে পারে। যদি ডায়াবেটিস বা থাইরয়েড হরমোন সম্পর্কিত কোনো সমস্যা থাকে, তবে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। এছাড়াও, জীবনযাত্রার মানে পরিবর্তন আনা, ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত শরীরচর্চা, ধূমপান ও মদ্যপান বর্জন, চা ও কফির সেবন সীমিত করা এবং মানসিক ও শারীরিক চাপ কমালে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
শাহীনা বেগম শান্তা, কনসালট্যান্ট, ইনফার্টিলিটি, বিআরবি হাসপাতাল
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন








