
যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের ওপর নিম্ন আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
গত মঙ্গলবার একটি মার্কিন ফেডারেল আপিল আদালত মামলা চলাকালীন একটি স্বল্পমেয়াদী প্রশাসনিক স্থগিতাদেশ জারি করার সিদ্ধান্ত জানায়।
এই আইনি লড়াইয়ের মূল বিষয় হলো, ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারার অধীনে ট্রাম্পের এই শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত তার রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাংবিধানিক ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত কি না।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প এই ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রবর্তন করেন। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের (IEEPA) দোহাই দিয়ে তার আগের শুল্ক নীতি বাতিল করে দিয়েছিল।
সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল যে, আইইইপিএ আইন ট্রাম্পের দাবিকৃত ব্যাপক শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দেয় না।
ট্রাম্পের বর্তমান শুল্ক নীতি নিয়েও একই ধরনের বিতর্ক দেখা দিয়েছে। গত শুক্রবার ইউএস কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড-এর একটি প্যানেল ২-১ ব্যবধানে জানায় যে, ট্রাম্প ১২২ ধারার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পারেননি।
নিম্ন আদালতের ওই রায়ে উল্লেখ করা হয়, প্রেসিডেন্টের ঘোষণাপত্রে প্রয়োজনীয় শর্তাবলি পালনের বিষয়ে কোনো প্রমাণ বা দাবি পাওয়া যায়নি।
আদালত আরও যোগ করেছে যে, এই ঘোষণাটি আইনিভাবে অকার্যকর এবং বাদীদের ওপর এই শুল্ক চাপানো আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
মঙ্গলবার আপিল আদালতের দেওয়া এই আদেশের ফলে নিম্ন আদালতের রায়টি সাময়িকভাবে ঝুলে গেল, যা হোয়াইট হাউসকে আইনি জবাব দেওয়ার সুযোগ দেবে।
তবে ২৪টি অঙ্গরাজ্যের একটি জোট দাবি করেছে যে, ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতি নির্বাহী ক্ষমতার অপব্যবহার। তারা সতর্ক করে বলেছে যে, এই বাড়তি করের বোঝা সাধারণ ক্রেতাদের পকেট থেকেই যাচ্ছে।
ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল নিক ব্রাউন এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্টের এই অবৈধ শুল্ক নীতির কারণে শেষ পর্যন্ত মার্কিন ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
মঙ্গলবার প্রকাশিত ভোক্তা মূল্য সূচকের এক প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের ফলে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
পোশাক এবং ইলেকট্রনিক্স পণ্যের মূল্য ০.৬ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে আসবাবপত্র ও খেলনা জাতীয় পণ্যের দাম ০.৮ শতাংশ পর্যন্ত লাফিয়ে বেড়েছে।
১২২ ধারার আওতায় এই শুল্কের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইটি ট্রাম্পের কর নীতির ক্ষেত্রে একমাত্র প্রতিবন্ধকতা নয়।
এই আইনের নিয়ম অনুযায়ী, ১০ শতাংশ শুল্ক আগামী জুলাই মাসে শেষ হওয়ার কথা, যদি না কংগ্রেস এর মেয়াদ বাড়ায়। অন্যথায় এর কার্যকারিতা কেবল ১৫০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
সমালোচকরা দাবি করছেন যে, এ ধরনের শুল্ক বারবার পরিবর্তন বা বাতিল করার ফলে ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা ও প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দেয়।
আদালতের এই স্থগিতাদেশ এমন সময় এল যখন আইইইপিএ-এর অধীনে নেওয়া শুল্ক ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মার্কিন কাস্টমস ও বর্ডার প্রোটেকশন ৮.৩ মিলিয়ন চালানের বিপরীতে ৩৫.৪৬ বিলিয়ন ডলার রিফান্ড করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা