খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
বিএনএন ডেস্ক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিপক্ষে রায় দিয়ে তাঁর পরিকল্পনায় বড় আঘাত হেনেছেন। আদালত পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, সত্তরের দশকের এক বাণিজ্য আইনের আশ্রয় নিয়ে ট্রাম্পের বসানো ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক আদতে অযৌক্তিক। তবে এই আদেশের সুফল আপাতত নির্দিষ্ট দুটি বেসরকারি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যই ভোগ করতে পারবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতের ২-১ বিচারকের সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে বলা হয়েছে, আপিল প্রক্রিয়া চলমান থাকা পর্যন্ত অন্যান্য আমদানিকারকদের জন্য এই শুল্ক কার্যকর থাকবে। উল্লেখ্য, এই ১০ শতাংশ শুল্কের মেয়াদ আগামী জুলাই মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
আদালতের মতে, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ নম্বর ধারা ব্যবহার করে ট্রাম্পের এই করারোপ পদ্ধতি সঠিক ছিল না। তবে জনৈক বিচারক মন্তব্য করেছেন যে, এখনই অভিযোগকারী পক্ষকে চূড়ান্ত জয়ী হিসেবে বিবেচনা করাটা সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা হবে।
শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র দুই মাস আগে আসা এই রায় ট্রাম্পের বৈশ্বিক বাণিজ্যিক কৌশলের জন্য বড় এক ধাক্কা। এমন এক সময়ে এই রায় এল যখন আগামী সপ্তাহেই বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সাথে বৈঠকে বসার কথা ডোনাল্ড ট্রাম্পের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আইনি আদেশের ফলে কয়েক বিলিয়ন ডলারের শুল্ক ফেরত পাওয়ার দাবি নিয়ে এক দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের সূচনা হলো। কয়েক মাস আগেই মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় জরুরি অবস্থার দোহাই দিয়ে আরোপ করা ট্রাম্পের একটি ব্যাপক শুল্ক নীতি বাতিল করে দিয়েছিল।
এদিকে ট্রাম্প এই রায়কে ‘দুজন কট্টর বামপন্থী বিচারকের’ সিদ্ধান্ত বলে আখ্যায়িত করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ওয়াশিংটনের একটি উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আদালতের কোনো সিদ্ধান্তেই আমি আর অবাক হই না। আমাদের পরিকল্পনা ভিন্নভাবে এগোবে।’
ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য দমে যাওয়ার পাত্র নয়। তারা বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর শুল্ক পুনর্বহালের জন্য ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা ব্যবহারের কথা ভাবছে। বর্তমানে এ সংক্রান্ত তিনটি তদন্ত চলছে যার ফলাফল জুলাইয়ে আসার কথা রয়েছে।
নিউইয়র্কের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত অবশ্য ঢালাওভাবে সব আমদানিকারকের জন্য শুল্ক প্রত্যাহারের আবেদন গ্রহণ করেনি। ২৪টি অঙ্গরাজ্যের একটি জোট এমন আবেদন করলেও আদালত জানান যে তাদের এই আরজির কোনো যথাযথ আইনি ভিত্তি নেই।
রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, বাদীপক্ষ সর্বজনীন নিষেধাজ্ঞার পক্ষে কোনো জোরালো যুক্তি দিতে পারেনি। একজন বাদীর ক্ষতির ভিত্তিতে গোটা ব্যবস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা সম্ভব নয়।
এই বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আইন বিশেষজ্ঞ ডেভ টাউনসেন্ড মনে করেন, মার্কিন প্রশাসন অবশ্যই এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। ফলে বিষয়টি আপিল বিভাগ হয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে। তিনি আরও যোগ করেন যে, এই রায়ের পর অন্যান্য আমদানিকারকরাও এখন আইনগত প্রতিকারের জন্য আদালতে যেতে উৎসাহিত হতে পারেন।
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন








