খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
বিএনএন ডেস্ক

হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়া বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি বড় ধরনের ওলটপালট ঘটিয়ে দিয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব যেমন আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর পড়ছে, তেমনি পারস্য উপসাগরীয় তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোও সংকটে পড়েছে। তবে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিশ্বের প্রধান জ্বালানি উৎপাদক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র নিজের অবস্থান আরও পোক্ত করে নিয়েছে। এল পাইসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা মার্কিন তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।
জিব্রাল্টার প্রণালিতে সৃষ্ট সমস্যার কারণেও মার্কিন জ্বালানি বাণিজ্যের পালে হাওয়া লেগেছে। বর্তমানে আমেরিকা পৃথিবীর অন্যতম প্রধান জীবাশ্ম জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। সৌদি আরব বা ইরাকের মতো দেশগুলো যখন তাদের রপ্তানি সক্ষমতা বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারগুলো বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকছে। এর ফলে মার্কিন জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলো চড়া মূল্যে তেল ও ডিজেল বিক্রি করে বড় অংকের মুনাফা করছে, যদিও সাধারণ আমেরিকানদের জ্বালানির জন্য এখন আগের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক তেল রপ্তানি ৬০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত হয়েছে, যা একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড। তেহরান ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের উত্তেজনার ফলে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফ্র্যাকিং প্রযুক্তির বিপ্লবের কারণে ২০১৪ সালের পর থেকে আমেরিকা রপ্তানিতে যে অগ্রগতি দেখিয়েছে, তা বর্তমান ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আরও গতিশীল হয়েছে। বিশ্লেষক আইরা জোসেফের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর ওপর অবরোধ এবং উচ্চমূল্য মার্কিন উৎপাদকদের জন্য একটি বিশাল বাণিজ্যিক আশীর্বাদ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
কাতার ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজার
প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিতেও গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের জেরে কাতারের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলার ঘটনা ঘটায় দেশটি এলএনজি রপ্তানিতে পিছিয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাস লাফান কমপ্লেক্সে ড্রোন হামলার কারণে কাতারের ভবিষ্যৎ উৎপাদন সক্ষমতা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কাতার এনার্জির প্রতিদ্বন্দ্বী মার্কিন কোম্পানিগুলো এখন বিশ্ববাজারে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করছে।
আইইইএফএ-এর তথ্যমতে, ২০৩০ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ হতে পারে। এটি কেবল একটি অর্থনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং একটি বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক কৌশলও বটে। ফ্র্যাকিং প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার করে আমেরিকা এখন বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী মূল্যে গ্যাস উৎপাদন করছে। মেক্সিকোর সঙ্গে পাইপলাইন সংযোগ এবং নতুন সব প্রকল্পের মাধ্যমে এই রপ্তানি বৃদ্ধির ধারা আগামী বছরগুলোতেও অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নির্বাচনী প্রচারে বারবার 'ড্রিল, বেবি, ড্রিল' স্লোগান দিয়ে জীবাশ্ম জ্বালানি উত্তোলনের ওপর জোর দিয়েছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপট তাঁর সেই নীতিরই প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। তবে ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোর জন্য মার্কিন তেলের ওপর এই ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা কিছুটা অনিশ্চয়তাও তৈরি করতে পারে। কারণ রাজনৈতিক পালাবদলের সাথে সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের ধরনেও পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা থাকে।
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন








