খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
বিএনএন ডেস্ক

পুলিশ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁদের বাজেট ব্যবস্থার পুনর্গঠন, ৯৯৯ জরুরি সেবায় জনবলের অভাব দূরীকরণ, ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশের আর্থিক ক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ভাতার পুনর্বিন্যাস এবং পুলিশ হাসপাতালের কর্মী সংখ্যা বাড়ানোর মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেছেন। পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে আয়োজিত এক বৈঠকে এই দাবিগুলো দুই মন্ত্রী ও অর্থসচিবের সামনে পেশ করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অতিরিক্ত ডিআইজি আতিয়া হুসনা আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে তিনটি প্রস্তাব পেশ করেন। তিনি প্রথমে সিআইডি ও নৌ পুলিশের মতো বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটের জন্য পৃথক 'অফিস আইডি' তৈরির দাবি জানান। তার যুক্তি ছিল যে, আইডি না থাকার কারণে বাজেট বরাদ্দ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার কাজে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, ২ লাখ ১৮ হাজার সদস্যের বৃহৎ এই বাহিনীর প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে তিনি আইজিপির আর্থিক ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেন। এছাড়াও, পুলিশ সুপার (এসপি) ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের পুরস্কার প্রদানের আর্থিক ক্ষমতা বাড়ানোরও সুপারিশ করেন আতিয়া হুসনা।
পুলিশ সদর দপ্তর অর্থ মন্ত্রণালয়ে দুটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যার লক্ষ্য জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর কার্যকারিতা বাড়ানো এবং পুলিশ হাসপাতালের কর্মী সংকট সমাধান করা। অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মাহবুবুল করিম বলেছেন যে, ৯৯৯ সেবায় প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার ফোন কল আসে, কিন্তু মাত্র ১৯৮ জন কর্মী দিয়ে এই বিশাল কাজ সামলানো বেশ চ্যালেঞ্জিং।
মাহবুবুল করিম আরও জানান যে, ৯৯৯ এর জন্য নতুন করে ৩৫১ জন কর্মী নিয়োগের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যা দ্রুত অনুমোদনের প্রয়োজন। পাশাপাশি, পুলিশ হাসপাতালের জনবল সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন যে, কেন্দ্রীয় হাসপাতালের জন্য ৯২৪ জন এবং আঞ্চলিক পর্যায়ের জন্য আরও ৬২৯ জন কর্মীর প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন। এই কর্মকর্তা পুলিশ সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত এসব প্রস্তাব অনুমোদনের অনুরোধ জানিয়েছেন।
সারদা পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল এবং অতিরিক্ত আইজিপি আজিজুর রহমান প্রশিক্ষণরত পুলিশ সদস্যদের খাদ্য ও প্রশিক্ষণ ভাতা বাড়ানোর একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর এবং প্রশিক্ষণার্থী কনস্টেবলরা দৈনিক প্রায় ১৫-১৬ ঘণ্টা কঠোর শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম করেন। বর্তমান বাজারদর বিবেচনায় তাঁদের জন্য বরাদ্দকৃত মাসিক পাঁচ হাজার টাকা খাদ্য ভাতা দিয়ে পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা কঠিন। আজিজুর রহমান এই খাদ্য ভাতা বৃদ্ধি করে ৭ হাজার ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এছাড়াও, ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টরদের প্রশিক্ষণ ভাতা ২ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকা এবং কনস্টেবলদের ১ হাজার ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা করার দাবি জানান তিনি। অতিরিক্ত আইজিপি বলেছেন যে, সঠিক পুষ্টি ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে প্রশিক্ষণের মান এবং পুলিশের ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা আরও উন্নত হবে।
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ ইউনিটগুলোর প্রধানদের জন্য সরকারি আবাসনের দাবি জানিয়েছেন। গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের কাছে এই দাবি পেশ করে তিনি বলেন যে, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপারের জন্য বাসভবন থাকলেও ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজির কোনো স্থায়ী বাংলো নেই।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ডিআইজিকে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হয় উল্লেখ করে রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, অনেক সময় বাসভবন থেকেই জরুরি প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কাজ সামলাতে হয়। তাই একটি স্থায়ী বাসভবন থাকা অপরিহার্য। এছাড়াও, অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন), এসবি, সিআইডি, পিবিআই, এটিইউসহ ঢাকার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের প্রধানদের জন্যও পৃথক সরকারি আবাসনের প্রস্তাব দেন তিনি।
অন্যদিকে, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান সাধারণ মানুষ ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের জন্য 'সাক্ষী ভাতা' চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে, এই ভাতা চালু হলে আদালতে সাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিত হবে এবং বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত হবে। এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের জন্য তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
জনপ্রশাসনমন্ত্রী আবদুল বারী মন্তব্য করেছেন যে, গত চার দশকে পুলিশের কাজের পরিধি ও চাপ বহুলাংশে বাড়লেও সেই তুলনায় লজিস্টিক সহায়তা ও আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে অপরাধের ধরন বহুমুখী হওয়ায় এবং ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের উপর মানসিক ও শারীরিক চাপ বাড়ছে।
জনপ্রশাসনমন্ত্রী আরও বলেন, পুলিশের অনেক ইউনিট এখনও পুরনো অবকাঠামো এবং সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে কাজ করছে। অতীতে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও ধারাবাহিকতার অভাবে অনেক কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পর্যায়ক্রমে সমাধানের প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
অর্থমন্ত্রী ও অর্থসচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আবদুল বারী বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। তাই পুলিশের জরুরি ও দীর্ঘদিনের চাহিদাগুলোর প্রতি সংবেদনশীল হয়ে বাস্তবসম্মত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাঁদের কর্মপরিবেশ ও আবাসন ব্যবস্থা এখনো সন্তোষজনক নয়। তিনি বলেছেন, অনেক থানা ভবন ও কর্মকর্তাদের বাসস্থান জরাজীর্ণ এবং বসবাসের অনুপযোগী।
মন্ত্রী তাঁর নিজের এলাকার একটি থানার জরাজীর্ণ অবস্থা এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বাসস্থানের উদাহরণ দিয়ে বলেন যে, যারা দিনরাত সেবা দিচ্ছেন, তাঁদের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক বাসস্থান নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এই সংকট নিরসনে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট সহায়তা চেয়েছেন।
গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে তাঁর মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। সরকারি বাসস্থানের সংকট মেটাতে নতুন আধুনিক ও টেকসই প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন








