খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
বিএনএন ডেস্ক

নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে দলীয় প্রতীক ছাড়াই।
প্রার্থী তালিকা ছোট করতে ও ডামি প্রার্থী নিয়ন্ত্রণ করতে জামানতের অংক বাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্থানীয় সরকার পর্যায়ের নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের টাকা পুনর্নির্ধারণের পরিকল্পনা করছে।
আইন পরিবর্তনের ফলে এখন থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না। এই বাস্তবতায় নির্বাচন পরিচালনার নিয়ম ও আচরণবিধিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে ইসি। যার অংশ হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ভোটারদের সই সংগ্রহ করার বিদ্যমান নিয়মটি তুলে দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের মতো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের নিয়ম বাতিল করা হয়েছে। এই পরিবর্তন অনুযায়ী নির্বাচনী বিধিমালার সংশোধনে কাজ শুরু করেছে কমিশন।
অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত প্রতিনিধি অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবারও প্রশাসক নিয়োগের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। তবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। ইসি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি হিসেবে আইনি কাঠামোর প্রয়োজনীয় সংস্কারে হাত দিয়েছে।
ইসির সূত্রমতে, আজ বুধবার আইন ও বিধি সংস্কার কমিটির একটি সভায় নির্বাচনী বিধিমালা সংশোধনের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। জামানত বৃদ্ধির বিষয়টি সেখানে গুরুত্ব পাবে। কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হলে তা কমিশনের বৈঠকে অনুমোদনের জন্য তোলা হবে।
এর আগেও গত কমিশন উপজেলা নির্বাচনে জামানতের টাকা কয়েক গুণ বাড়িয়েছিল। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে চেয়ারম্যান পদে জামানত দশ গুণ বাড়িয়ে ১ লাখ এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭৫ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছিল। সে সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ভোটারের সই জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও তুলে নেওয়া হয়েছিল।
বর্তমান কমিশন মনে করছে, সই সংগ্রহের কড়াকড়ি না থাকলে প্রার্থীর সংখ্যা অস্বাভাবিক বাড়তে পারে। অনেকে কেবল ডামি প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াতে পারেন, যা নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। এই ঝুঁকি এড়াতে জামানতের টাকা কিছুটা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মত দিচ্ছে কমিশন।
তবে বিগত কমিশনের মতো দশ গুণ জামানত বৃদ্ধির বিপক্ষে মত রয়েছে বর্তমান কমিশনের কারো কারো। তারা চাচ্ছেন, জামানতের পরিমাণ এমন পর্যায়ে নির্ধারণ করতে যাতে তা প্রার্থীদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক বোঝা না হয়, আবার অহেতুক প্রার্থিতাও নিরুৎসাহিত হয়।
বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের জামানত ৫ হাজার এবং সাধারণ সদস্যের ১ হাজার টাকা। পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে ভোটারের অনুপাতে জামানত ১৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত বিদ্যমান রয়েছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন বিধিমালায় আরও কিছু সংস্কার আনা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে পোস্টারের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমার ব্যবস্থা করা এবং ইভিএমের পরিবর্তে ব্যালটে ভোট গ্রহণ।
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সংস্কার কমিটির বৈঠকে সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর জামানত বৃদ্ধির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন








