খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
বিএনএন ডেস্ক

পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জোর দিয়ে বলেছেন যে বাংলাদেশ সীমান্তে কোনো ধরনের নমনীয়তা দেখাবে না এবং বর্তমান বাংলাদেশ আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। তিনি উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার কাঁটাতারের বেড়াকে ভয় পায় না এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য তাদের নিজস্ব কৌশল রয়েছে। তার এই মন্তব্য এসেছে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের ঘোষণার পর, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-কে ৪৫ দিনের মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তটি হাওড়ায় অনুষ্ঠিত নতুন রাজ্য সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর জানানো হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ পরিকল্পনার প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির মন্তব্য করেছেন যে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য উভয় দেশের নেতৃত্বের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য। তিনি স্বীকার করেন যে দুই দেশের মধ্যে কিছু জটিল এবং কঠিন সমস্যা বিদ্যমান, তবে আলোচনার পথ খোলা থাকায় সমাধানের সুযোগও রয়েছে। কিছু সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব হলেও অন্যদের জন্য সময় লাগতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত 'উগ্র ও অশোভন ভাষা' উল্লেখ করে তিনি বলেছেন যে নির্বাচনী বাগাড়ম্বর এবং প্রকৃত সরকার পরিচালনা দুটি ভিন্ন বিষয়। তাই তাদের কাজ দেখার জন্য কিছুটা সময় দেওয়া উচিত। হুমায়ুন কবির আরও স্পষ্ট করেন যে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে এবং ঢাকা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না।
* কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে বাংলাদেশের কোনো ভীতি নেই
* তিস্তা প্রকল্পে চীনের এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়ন নিশ্চিত
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন যে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বাংলাদেশকে ভয় দেখানো সম্ভব নয়, কারণ বাংলাদেশের জনগণ এবং সরকার উভয়ই এ ধরনের কোনো হুমকিকে গ্রাহ্য করে না। তিনি আরও বলেন যে, প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশ তার অবস্থান স্পষ্ট করবে। হুমায়ুন কবির পরামর্শ দেন যে দুই দেশের মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হলে ভারতকে সীমান্ত সুরক্ষায় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে কাজ করতে হবে। তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে সীমান্তে অতীতের কোনো খারাপ দৃষ্টান্ত আর পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি কেউ সীমান্তে আগের মতো কিছু করার চেষ্টা করে, তবে বর্তমান বাংলাদেশ নিষ্ক্রিয় থাকবে না, বরং এর মোকাবিলায় বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ভারত এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না যা পরিস্থিতিকে জটিল করবে।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন যে প্রতিবেশী দেশগুলোর আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখা জরুরি। তিনি বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে সহাবস্থানের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন, তবে স্বীকার করেন যে সম্পর্কে চ্যালেঞ্জ থাকবেই। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রায় দেড় হাজার মানুষকে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়া একজন সন্ত্রাসী বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছে। এই বিষয়টি তুলে ধরে তিনি সতর্ক করেন যে ভারত থেকে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয় এবং আশা করেন যে ভারতের সরকার ওই ব্যক্তিকে (সন্ত্রাসীকে) এমন কোনো সুযোগ দেবে না, যে বিষয়ে ভারত সরকার আশ্বস্তও করেছে।
তিস্তা প্রকল্পে ভারত ও চীনের সম্পৃক্ততা নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে হুমায়ুন কবির জানান যে, যেহেতু পশ্চিমবঙ্গের সরকার এখন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) হাতে এবং কেন্দ্রেও বিজেপি সরকার রয়েছে, তাই তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে পূর্বের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের অজুহাত আর প্রযোজ্য হবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এখন তিস্তা নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে কম বাধা আসবে।
তিস্তা প্রকল্পে চীনের এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়ন নিশ্চিত
বাংলাদেশ ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির উল্লেখ করেন যে, চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক এবং এর ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে এটি বেইজিং-এ প্রথম সফর ছিল এবং চীন বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক অংশীদার। এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি যোগ করেন যে, চীন বাংলাদেশের নেতৃত্বাধীন সরকারের সাথে কাজ করতে আগ্রহী।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কী ধরনের সহায়তা চাওয়া হয়েছিল জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘আমরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছি। বিস্তারিত না হলেও তিস্তা ইস্যুতে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং চীনের এক্সিম ব্যাংক এই প্রকল্পে অর্থায়ন করবে বলে নিশ্চিত করেছে।’
তিস্তা প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরুর সময়সীমা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জানান যে, প্রাথমিক সমীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও সুপারিশ গ্রহণ করা বাকি আছে। আরও বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন হবে এবং এর জন্য সময় লাগবে।
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য চীন সফর এবং সেই সফরে তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে হুমায়ুন কবির বলেন যে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের তারিখ ও গন্তব্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত হলে তা জানানো হবে। চীন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই বেইজিং সফর করবেন, তবে সুবিধাজনক একটি সময়ে আলোচনার মাধ্যমে এই সফর চূড়ান্ত করা হবে।
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন




