খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
বিএনএন ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের দেওয়া প্রস্তাবে ইরান যে উত্তর পাঠিয়েছে, তাকে 'পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য' বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই কড়া প্রতিক্রিয়ার পর সোমবার সকালে এশিয়ার বাজারে তেলের দাম আরও বেড়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান তাদের জবাব ওয়াশিংটনের কাছে পাঠিয়েছে। ওই বার্তায় ইরান অবিলম্বে সব ধরণের সংঘাত বন্ধ করা এবং ভবিষ্যতে আমেরিকা বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো হামলা হবে না—এমন নিশ্চয়তা দাবি করেছে। খবর: বিবিসি।
ইরানের এই শর্ত ট্রাম্পের মনঃপূত না হওয়ায় আজ সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ১০৫.২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি ডব্লিউটিআই ক্রুডের মূল্য ৪ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৯৯.৩০ ডলার।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি লড়াই শুরুর পর থেকেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই জ্বালানির দামকে উসকে দিচ্ছে।
ইরানের পাঠানো বার্তার প্রেক্ষিতে ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, 'ইরানি প্রতিনিধিদের পাঠানো জবাব আমি এইমাত্র পড়লাম। বিষয়টি আমার মোটেও পছন্দ হয়নি, এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।'
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের মূল প্রস্তাবের মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালিতে অবাধে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত রাখা। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের মজুতকৃত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিষ্ক্রিয় না হওয়া পর্যন্ত লড়াই থামবে না।
এপ্রিলের শুরুতে শান্তি আলোচনার সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্ন গোলাগুলি হলেও সব পক্ষই এটি মোটামুটি বজায় রেখেছিল।
এর মধ্যে ইরানকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব তৈরির সময় দিতে গত ২১ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংঘাত শুরুর পর থেকেই জ্বালানি বাজারে বিশৃঙ্খলা চলছে এবং ৮ এপ্রিলের পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আবারও ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি সম্পদের প্রায় ২০ শতাংশ সাধারণত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান ওই পথে চলাচলকারী জাহাজে হামলার হুমকি দিলে প্রণালিটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বিশ্বের বড় বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলোর মুনাফা আকাশচুম্বী হয়েছে। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান আরামকো জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে তাদের আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরামকোর প্রধান আমিন নাসের জানান, তাদের বিস্তৃত পাইপলাইন নেটওয়ার্ক সংকটের সময় 'লাইফলাইন' হিসেবে কাজ করেছে। ফলে ইরান যুদ্ধের কারণে সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলে যে বাধা তৈরি হয়েছে, তারা তা অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে পেরেছে। এছাড়া ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম ও শেল-এর মতো কোম্পানিগুলোও তাদের মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় লাভবান হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আমেরিকা এখন তেলের নিট রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। এল পাইসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সালের আগে দেশটি তেল রপ্তানির তালিকায় প্রায় ছিলই না।
অপরিশোধিত ও পরিশোধিত জ্বালানি মিলিয়ে আমেরিকার মোট রপ্তানি এখন দৈনিক ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ইউরোপের বাজারে ডিজেলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি আয়ে এই উল্লম্ফন ঘটেছে।
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন








