খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
বিএনএন ডেস্ক

পাল্টা শুল্কের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের তৈরি পোশাক রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এই সুযোগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় শীর্ষস্থান দখল করে নেয় বাংলাদেশ। মার্চ মাস শেষেও সেই অবস্থান কিছুটা সুসংহত রয়েছে। অন্যদিকে, ভিয়েতনাম তাদের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।
চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রধান পাঁচটি তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে শুধুমাত্র ভিয়েতনামের রপ্তানিতে পৌনে ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চীন, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও ভারতের রপ্তানি কমেছে। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।
অটেক্সার প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ১ হাজার ৭৭৩ কোটি মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছেন। এই আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১.৬০ শতাংশ কম।
অটেক্সার তথ্যানুসারে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি–মার্চ) বাংলাদেশ ২০৪ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। এই রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮.৩৮ শতাংশ কম। গত বছর এই বাজারে বাংলাদেশ ৮২০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছিল।
অন্যদিকে, চীনের রপ্তানি প্রায় ৫৩ শতাংশ কমে গেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশটি ১৭০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। গত বছরের একই সময়ে দেশটি দ্বিগুণেরও বেশি, অর্থাৎ ৩৬১ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছিল।
এদিকে, মার্কিন বাজারে শীর্ষ রপ্তানিকারক ভিয়েতনাম চলতি বছরের জানুয়ারি–মার্চ সময়ে ৩৯৮ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। এই রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২.৭৩ শতাংশ বেশি। বর্তমানে বাজার হিস্যার ২২ শতাংশ ভিয়েতনামের দখলে রয়েছে, আর বাংলাদেশের কাছে আছে প্রায় সাড়ে ১১ শতাংশ।
অটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ইন্দোনেশিয়া ১২২ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। গত বছরের একই সময়ে তাদের রপ্তানি ছিল ১২৩ কোটি ডলার। সেই হিসাবে তাদের রপ্তানি কমেছে ০.১৩ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতের রপ্তানি বাংলাদেশের চেয়ে বেশি কমেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চে ১১০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে ভারত। গত বছরের একই সময়ে তাদের রপ্তানি ছিল ১৫১ কোটি ডলার। তার মানে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশটির রপ্তানি কমেছে ২৭ শতাংশ।
গত বছরের ২ এপ্রিল ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের ১৫৭টি দেশের পণ্যে বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন। এটি ৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও পরে তিন মাসের জন্য স্থগিত হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু করে। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশি পণ্যে ৩৭ শতাংশ শুল্ক থাকলেও ৮ জুলাই সেটি কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছায় বাংলাদেশ। তাতে পাল্টা শুল্ক কমে ২০ শতাংশে দাঁড়ায়। গত ৭ আগস্ট পাল্টা শুল্ক কার্যকর হয়।
পাল্টা শুল্ক আরোপের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি করে। সেই চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের ওপর দেশটির পাল্টা শুল্কের হার কমে হয় ১৯ শতাংশ। তবে ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেছেন। এরপর সব দেশের পণ্যের ওপর ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন শুল্ক ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। তবে গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতের দুটি বেসরকারি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ক্ষেত্রে এই শুল্ক স্থগিত করেছেন।
পাল্টা শুল্কের প্রস্তাবনায় শুরুতে বেকায়দায় থাকলেও, পরে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছায়। এর কারণ হলো, বাংলাদেশের মতো ভিয়েতনামের শুল্কও ছিল ২০ শতাংশ। এর বিপরীতে ভারতের পণ্যে মোট শুল্কহার ছিল ৫০ শতাংশ এবং চীনের শুল্ক আরও বেশি। ফলে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক, জুতা সহ বিভিন্ন পণ্যের ক্রয়াদেশ বাড়তে শুরু করে। তবে, পরবর্তীতে সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকেনি। এর কারণ হিসেবে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকেরা জানিয়েছেন, শুল্কের কারণে পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং ইরান যুদ্ধের পর জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ায় ক্রয়াদেশ কমে গেছে।
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন








