খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
বিএনএন ডেস্ক

দেশে হামের প্রকোপ পুনরায় বেড়ে যাওয়ায় এর পেছনে শিশুদের টিকার অপর্যাপ্ততা একটি বড় কারণ। এই রোগে এখন পর্যন্ত সাড়ে তিনশ'র বেশি শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশব্যাপী জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। তবুও কিছু অভিভাবক শিশুদের টিকা দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না, যা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সন্তানের জীবন রক্ষার জন্য টিকা দেওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
শিশুদের টিকা দিতে অনিচ্ছুক অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা মূলত মোবাইলে দেখা বিভিন্ন ভিডিও, পারিপার্শ্বিক আলোচনা এবং টিকা সংক্রান্ত গুজব বা ভুল তথ্যে প্রভাবিত হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
গতকাল রবিবার ঢাকার শাহজাহানপুরের গাজী বস্তির ৫১৬ নম্বর குடியிருப்பায় এমন কিছু অভিভাবকের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। সানোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি জানান, তিনি মোবাইলে বিভিন্ন ভিডিও দেখেছেন যেখানে অনেক শিশুর মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম, খুলনার মতো বিভিন্ন অঞ্চলের শিশুদের মৃত্যুর খবর দেখে তিনি তার সাত মাস বয়সী মেয়ে আয়েশা মনিকে টিকা দিতে আগ্রহী নন।
সানোয়ারের স্ত্রী পলি আক্তারও একই কারণ জানান। তিনি বলেন, টিকা দিলে শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে এমন কথা শুনে তারা মেয়েকে টিকা দেননি।
গাজী বস্তিতে প্রায় একশ পরিবার বাস করে। বস্তিটি ঘুরে ১ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ১০ জন শিশুর অভিভাবকদের সাথে কথা বলা হয়েছে। সুমাইয়া বেগম নামে এক মা জানান, টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয়ে তিনি তার দেড় বছর বয়সী মেয়ে ইসরাত জাহান ও ৪ বছর বয়সী ছেলে ইব্রাহিমকে হামের টিকা দেননি।
সুমাইয়া আক্তার আরও জানান, মেয়ে ইসরাত প্রায়ই অসুস্থ থাকে বলে তার স্বামী তাকে টিকা দিতে নিষেধ করেছেন। টিকা না পাওয়া অনেক শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে, এই তথ্য তিনি অবগত নন। তিনি বলেন, 'ভয় তো কিছুটা আছে। যেহেতু বাচ্চার বাবা নিষেধ করছেন, তাই এখন টিকা দিতে পারছি না।'
শিশু আদিল হাসানের (৫) মা হালিমা বেগম জানান, তার ছেলের ত্বকে চর্মরোগ থাকায় তিনি হামের টিকা দেননি। তার আশঙ্কা ছিল, টিকা দিলে চুলকানি বেড়ে যেতে পারে। হামে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা তাকে ভীত করছে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, 'না, তেমন ভয় নেই।'
টিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের এমন ভুল ধারণা নিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, যারা পত্রিকা পড়েন না বা টেলিভিশন দেখেন না, তাদের মধ্যে টিকার ব্যাপারে ভুল ধারণা থাকাটা স্বাভাবিক। সরকারের উচিত জনগণকে এ বিষয়ে অবহিত করা। এই সচেতনতা তৈরিতে শিক্ষক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী এবং ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করে প্রচারণা চালানোর পরামর্শ দেন তিনি।
তবে, গাজী বস্তিতে টিকা সম্পর্কে সচেতন অভিভাবকেরও সন্ধান মিলেছে। সুমাইয়া আক্তার (২২) জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে হামের প্রকোপ বাড়তে দেখে এবং শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার খবর শুনে তিনি সম্প্রতি তার চার বছর বয়সী ছেলে আনাসকে হামের টিকা দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'আগে এতটা খেয়াল করিনি। কিছু টিকা দিয়েছি, হামের টিকা দিয়েছি কিনা মনে নেই। এখন কিছুদিন আগে দিলাম। মনে যে ভয় ছিল সেটা কিছুটা কমেছে।'
শেফালি বেগম জানান, তিনি তার সাড়ে চার বছর বয়সী মেয়ে সামিয়া আক্তারকেও কিছুদিন আগে টিকা দিয়েছেন। শুরুতে কিছু টিকা দিলেও হামের টিকা দিয়েছিলেন কিনা তা মনে নেই। তাই সম্প্রতি স্থানীয় বাগিচা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে তিনি মেয়েকে টিকা দেন।
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন




