খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
বিএনএন ডেস্ক

ইসলামি জ্ঞানের ভিত্তি হলো পবিত্র কোরআন ও প্রমাণিত হাদিস। এ নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। কিন্তু তাফসির, ইতিহাস বা নবীদের কাহিনিতে এমন কিছু বিবরণ পাওয়া যায় যা কোরআন বা হাদিসে সরাসরি উল্লেখ নেই। এর একটি বড় অংশকে ‘ইসরায়েলি রেওয়ায়েত’ বা ‘ইসরায়েলি বর্ণনা’ বলা হয়।
এই বিবরণগুলোর কিছুতে ঐতিহাসিক সত্যতার অংশ থাকতে পারে, তবে সবগুলিই নির্ভরযোগ্য নয়। অনেক ক্ষেত্রে এগুলি ভুল ধারণা বা বিভ্রান্তির কারণ হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন জাগে—ইসরায়েলি রেওয়ায়েত কী এবং এগুলিকে গ্রহণ বা বর্জনের সঠিক নিয়ম কী হওয়া উচিত?
এইসব কাহিনী শুধু তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং কিছু সাহাবা ও তাবেয়ীনদের মাধ্যমে এগুলি তাফসির ও ইতিহাসের বইয়েও স্থান করে নিয়েছে। তবে এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল নৈতিক শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ।
নবীদের জীবন কাহিনি, অতীতের জাতিগোষ্ঠীর ইতিহাস কিংবা সৃষ্টিজগতের অলৌকিক বিষয়াবলী সম্পর্কিত যেসব বর্ণনা, সেগুলোকে ইসরায়েলি রেওয়ায়েত বলা হয়। এই তথ্যগুলি মূলত বনী ইসরায়েলের ধর্মগ্রন্থ (তাওরাত ও ইঞ্জিল) বা তাদের ধর্মীয় জ্ঞানীদের সূত্র ধরে প্রচলিত হয়েছে। একারণেই এগুলি ইসরায়েলি রেওয়ায়েত নামে পরিচিত।
পরে এই বর্ণনাগুলি শুধু তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; কিছু সাহাবি ও তাবেয়ীদের মাধ্যমে এগুলো তাফসির এবং ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থাবলীতেও জায়গা করে নিয়েছে। তবে এগুলি ব্যবহারের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল নীতিবাক্য ও শিক্ষা লাভ করা।
ইসলামের প্রথম দিকে যারা মুসলমান হয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই পূর্বে আহলে কিতাব (কিতাবধারী) ছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পর তাঁদের কেউ কেউ পূর্ববর্তী ধর্মীয় জ্ঞান ও গল্প মুসলিম সমাজে বলতে শুরু করেন।
এর ফলে ইসলামি জ্ঞানের ভান্ডারে কিছু নতুন ব্যাখ্যা ও কাহিনি যোগ হয়। তবে সেই সময়ে সব বর্ণনা সমানভাবে পরীক্ষা করা হয়নি। তাই পরবর্তীকালের জ্ঞানী ব্যক্তিরা এগুলির বিস্তারিত বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।
কিছু বিবরণের ক্ষেত্রে ইসলামি মূল উৎসে এর পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। এমন পরিস্থিতিতে উলামায়ে কেরাম সাধারণত নীরব থাকতে উপদেশ দেন।
সাধারণত উলামায়ে কেরাম এই ধরনের বিবরণকে তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন:
১. শরীয়তের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বর্ণনা: যে সমস্ত বিবরণ কোরআন ও নির্ভরযোগ্য হাদিসের তথ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেগুলি গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে এগুলি মূল প্রমাণ হিসেবে নয়, বরং অতিরিক্ত তথ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
২. শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক বর্ণনা: যে সমস্ত বিবরণ কোরআন বা নির্ভরযোগ্য হাদিসের সাথে সাংঘর্ষিক, সেগুলিকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। বিশেষত, যেগুলি নবীদের সম্মানহানি করে, সেগুলি কোনোমতেই গ্রহণ করা যাবে না।
৩. অপ্রমাণিত বর্ণনা: কিছু বিবরণের ক্ষেত্রে ইসলামি মূল উৎসে এর পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। এমন পরিস্থিতিতে উলামায়ে কেরাম সাধারণত নীরব থাকতে উপদেশ দেন। অর্থাৎ, এগুলিকে সত্য বলেও গ্রহণ করা যাবে না, আবার মিথ্যা বলেও উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।
ইসরায়েলি বিবরণগুলোর একটি প্রধান সমস্যা হলো, এর অনেকগুলিরই নির্ভরযোগ্য কোনো উৎস (সনদ) নেই। এর ফলে এতে কল্পনা, অতিশয়োক্তি বা ভুল তথ্য অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এর কারণে যে সকল বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে:
নবী-রাসূলদের সম্পর্কে ভুল ধারণা সৃষ্টি হওয়া।
অদ্ভুত বা ভিত্তিহীন গল্পে মনোযোগ আকৃষ্ট হওয়া।
ইসলামের মৌলিক ও বিশুদ্ধ শিক্ষার স্বচ্ছতা বিঘ্নিত হওয়া।
ইসরায়েলি বিবরণ ইসলামি জ্ঞানচর্চার কেবল একটি সহায়ক অংশ; এটি কখনোই মৌলিক উৎস হিসেবে বিবেচিত নয়।
শনাক্তকরণ পদ্ধতি
উৎসের সত্যতা পরীক্ষা: যদি কোনো গল্প কোরআন বা নির্ভরযোগ্য হাদিসে না থাকে এবং পূর্ববর্তী ধর্মীয় গল্পের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়, তবে সেটি ইসরায়েলি রেওয়ায়েত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতামত: হাদিস বিশেষজ্ঞ এবং গবেষক আলেমগণ সাধারণত এই ধরনের বিবরণের পাশে মন্তব্য করেন কোনটি গ্রহণযোগ্য আর কোনটি নয়।
অবাস্তবতা: যে সমস্ত গল্পে অবাস্তব ঘটনা বা অত্যধিক কল্পনার উপাদান থাকে, সেগুলিকে যাচাই না করে গ্রহণ করা উচিত নয়।
ইসরায়েলি বিবরণ ইসলামি জ্ঞানচর্চার কেবল একটি সহায়ক অংশ; এটি কখনোই মৌলিক উৎস হিসেবে বিবেচিত নয়। ইসলামের প্রধান উৎস হলো পবিত্র কোরআন ও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস। তাই এই ধরনের বিবরণ পাঠের সময় গ্রহণ ও বর্জনের নিয়মাবলী সম্পর্কে সতর্ক থাকা আবশ্যক।
(তথ্যসূত্র: আল-ওয়াজউ ফিল হাদিস, পৃষ্ঠা: ৩৩০-৩৩২, বৈরুত, ১৯৮১)
রায়হান আল ইমরান: লেখক ও গবেষক
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন








