
নাবালিকা পাচারের অভিযোগে ইভো মোরালেসের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তিনি আদালতে হাজির হননি। এর ফলে বলিভিয়ার একজন বিচারক তাকে আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করে তার বিরুদ্ধে পুনরায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
এই সিদ্ধান্তের পর সোমবার দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মোরালেসের সমর্থকরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, প্রাক্তন এই নেতাকে গ্রেপ্তার করা হলে তারা 'দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবেন'।
বলিভিয়ার প্রথম আদিবাসী প্রেসিডেন্ট মোরালেস ক্ষমতায় থাকাকালীন এক ১৫ বছর বয়সী কিশোরীর সঙ্গে সন্তান জন্ম দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত। কিশোরীটির বাবা-মায়ের বিরুদ্ধেও মোরালেসের কাছ থেকে সুবিধা গ্রহণের বিনিময়ে এই সম্পর্কে সম্মতি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
২০০৬ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দেশের শাসনভার সামলানো এই প্রাক্তন সমাজতান্ত্রিক নেতা তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সোমবার দক্ষিণ তারিজা শহরে মোরালেসের বিচারের নির্ধারিত শুনানি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত হননি, যার কারণে বিচার কার্যক্রম স্থগিত করতে হয়।
পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে মোরালেসের 'অযৌক্তিক অনুপস্থিতি' তাকে পলাতক হিসেবে প্রমাণ করে এবং এর ফলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
প্রাক্তন এই রাষ্ট্রপতি ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে চাপারের কেন্দ্রীয় কোকা-চাষ এলাকায় আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে লুকিয়ে আছেন। সেখানে আদিবাসী সমর্থকরা তাকে ঘিরে রেখেছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের যেকোনো চেষ্টাকে প্রতিহত করার অঙ্গীকার করেছে।
‘যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত আমরা’
সমর্থক ডিয়েটার মেন্ডোজা সোমবার কাওয়াছুন কোকা রেডিওতে বলেছেন, “তারা মনে করে ইভো মোরালেসকে গ্রেপ্তার করে আন্দোলন দমন করা যাবে। এটা তাদের বিরাট ভুল ধারণা।” তিনি আরও যোগ করেন, “যদি তারা ইভো মোরালেসকে ছোঁয়, তবে এটি এক বিশাল বিদ্রোহের জন্ম দেবে... পুরো বলিভিয়াজুড়ে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়বে।”
মেন্ডোজা কোচাবাম্বা ট্রপিকসের বাসিন্দাদের 'উচ্চ সতর্কতায়' এবং 'যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত' থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ প্রথমবার ২০২৪ সালের অক্টোবরে মোরালেসের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। কিন্তু তার সমর্থকরা টানা ২৪ দিন রাস্তা অবরোধ করে রাখায় সে পরোয়ানা কার্যকর করা যায়নি। এর ফলে পুলিশ কর্মকর্তারা মোরালেসের আশ্রয়স্থলে পৌঁছাতে পারেননি।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একটি প্রাক-বিচার আটক শুনানিতে হাজির না হওয়ায় মোরালেসকে আগেই আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।
মোরালেসের অন্যতম আইনজীবী উইলফ্রেডো শ্যাভেজ শুক্রবার একটি সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন যে মোরালেস বা তার আইনজীবীরা কেউই আদালতে যাবেন না, কারণ তাদের 'সঠিকভাবে নোটিশ দেওয়া হয়নি'। আইনজীবী আরও বলেন, আদালত মোরালেসের ঠিকানায় সমন পাঠায়নি, বরং একটি সাধারণ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তা প্রকাশ করেছে।
চরম দারিদ্র্য থেকে উঠে এসে ল্যাটিন আমেরিকার দীর্ঘতম সময়ের নেতাদের একজন হওয়া মোরালেস তাদের সমালোচনা করেছেন “যারা আমাকে রেকর্ড সময়ে নিপীড়ন ও বিচার করছে”।
২০১৯ সালে তিন মেয়াদের পর ক্ষমতা ছাড়তে তার অস্বীকৃতি একটি অস্থির প্রস্থানের জন্ম দেয়, যা প্রায় ১৪ বছরের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও দারিদ্র্য হ্রাসের ওপর কালো ছায়া ফেলে।
ভোট কারচুপির অভিযোগে কলঙ্কিত নির্বাচনের পর পদত্যাগে বাধ্য হয়ে তিনি মেক্সিকো এবং পরে আর্জেন্টিনায় নির্বাসনে চলে যান, তবে এক বছর পর দেশে ফিরে আসেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদের জন্য দাঁড়ানোর অনুমতি না পাওয়ায় গত বছর তিনি রাজনীতিতে ফিরে আসার চেষ্টায় ব্যর্থ হন।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা