বিএনএন ডেস্ক
প্রথম জাতীয় সংসদ থেকে বর্তমান ত্রয়োদশ সংসদ পর্যন্ত বেসরকারি সদস্যদের আনীত মোট ২৮৬টি বিল পাওয়া গেছে।
এগুলির মধ্যে ৭৩টি বিল সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছিল এবং এর মধ্যে ৯টি বিল চূড়ান্তভাবে আইন হিসেবে পাশ হয়েছে।
জাতীয় সংসদের কার্যক্রমে এ পর্যন্ত মোট ৯টি বেসরকারি বিল আইন হিসেবে পাশ হয়েছে। ১৯৭৩ সালে শুরু হওয়া প্রথম সংসদ থেকে বর্তমান ত্রয়োদশ সংসদ পর্যন্ত মোট ১৩টি সংসদে বেসরকারি সদস্যদের আনা ২৮৬টি বিলের খোঁজ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৭৩টি বিল সংসদে উত্থাপন করা হয়, যার মধ্যে ৯টি পাশ হতে সক্ষম হয়।
গতকাল মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বেসরকারি সদস্যদের বিল ও সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব সংক্রান্ত কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। উক্ত সভায় প্রথম জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের গত ১১ মে পর্যন্ত বেসরকারি বিলগুলির বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এই তথ্যটি পাওয়া গেছে।
জাতীয় সংসদে মন্ত্রী ব্যতীত অন্য সকল সদস্যকে বেসরকারি সদস্য বলা হয়। সাধারণত, সরকার কর্তৃক প্রস্তাবিত আইনগুলির বিল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা আনেন। তবে, মন্ত্রী ছাড়াও একজন সংসদ সদস্য যে কোনো বিষয়ে আইন তৈরির উদ্দেশ্যে বিল পেশ করতে পারেন।
সংসদের একজন সাধারণ সদস্য, যিনি মন্ত্রী নন, যদি কোনো বিল পেশ করেন, তাহলে তাকে বেসরকারি বিল হিসাবে অভিহিত করা হয়। এই ধরনের কোনো বিল পেশ করা হলে, সেটি প্রথমে ‘বেসরকারি সদস্যদের বিল এবং সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব সংক্রান্ত কমিটি’তে পাঠানো হয়। কমিটি বিলটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা ও পর্যালোচনা করে এটি সংসদে পেশ করা হবে কিনা, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, প্রথম, ষষ্ঠ এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদে কোনো বেসরকারি বিল উপস্থাপন করা হয়নি। দ্বিতীয় সংসদে মোট ৪৭টি বেসরকারি বিলের সন্ধান পাওয়া যায়, যার মধ্যে ২০টি উত্থাপন করা হয় এবং দুটি বিল পাশ হয়। পাশ হওয়া বিল দুটি ছিল—‘দ্য ডাওরি প্রোহিবিশন অ্যাক্ট, ১৯৮০’। এটি পেশ করেছিলেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ দৌলতননেছা খাতুন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে এই আইন বাতিল করে নতুন যৌতুক নিরোধ আইন প্রণয়ন করা হয়। দ্বিতীয় সংসদে পাশ হওয়া অপর বেসরকারি বিলটি ছিল মুসলিম লীগের সাংসদ আওছাফুর রহমান কর্তৃক আনীত ‘দ্য খুলনা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (সংশোধন) আইন’।
তৃতীয় সংসদে ৫টি বেসরকারি বিলের মধ্যে মাত্র একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছিল, যা সংসদে পাশও হয়েছিল। এই বিলটি (বাংলা ভাষা প্রচলন আইন–১৯৮৭) জাতীয় পার্টির টি আই এম ফজলে রাব্বী চৌধুরী পেশ করেন।
চতুর্থ জাতীয় সংসদে ৬টি বিলের মধ্যে দুটি উত্থাপিত হলেও দুর্ভাগ্যবশত কোনোটিই পাশ হয়নি।
পঞ্চম সংসদে সর্বাধিক ৭৪টি বেসরকারি বিলের খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল। এগুলোর মধ্যে ১২টি বিল উত্থাপন করা হয়, এবং একটি মাত্র বিল পাশ হয়। পাশ হওয়া বিলটির মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের ভাতার সাথে সম্পর্কিত আইনের একটি সংশোধনী আনা হয়েছিল। এই বিলটি পেশ করেছিলেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য বেগম ফরিদা রহমান।
সপ্তম জাতীয় সংসদে মোট ৫১টি বেসরকারি বিলের সন্ধান পাওয়া যায়। যার মধ্যে ৯টি বিল উত্থাপিত হলেও, শুধুমাত্র ১টি বিল পাশ হয়। এই বিলটি আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য দেওয়ান ফরিদ গাজী কর্তৃক আনীত ছিল। এর পাসের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শন আইন–২০০১ প্রণীত হয়।
পরবর্তী অষ্টম সংসদে ২১টি বেসরকারি বিলের মধ্যে ৯টি বিল উত্থাপন করা হয়, এবং একটি বিল পাশ হয়। এই বিলের মাধ্যমে জাতির পিতার প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শন আইনটি বাতিল করা হয়েছিল। এই সংক্রান্ত বিলটি পেশ করেছিলেন বিএনপির সাংসদ সামসুল আলম প্রামাণিক।
নবম জাতীয় সংসদে সর্বাধিক সংখ্যক বেসরকারি বিল পাশ হয়েছিল। সেই সংসদে ২১টি বেসরকারি বিলের মধ্যে ১৪টি বিল উত্থাপন করা হয় এবং ৩টি বিল পাশ হতে সক্ষম হয়। এই ৩টি বিলের মধ্যে দুটি ছিল আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীর পেশ করা। এর একটি ছিল ‘দ্য লেপারস (বাতিল) অ্যাক্ট–২০১১’। এই বিলটি পাশের মাধ্যমে কুষ্ঠরোগীদের সমাজ ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার জন্য ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের আইনটি রদ করা হয়েছিল। অপর বিলটি ছিল নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (প্রতিরোধ) বিল–২০১৩। নবম সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্য মুজিবুল হক কর্তৃক একটি বিল পাশ হয়, যা ছিল পিতা–মাতার ভরণ–পোষণ বিল–২০১৩।
দশম জাতীয় সংসদে ১৬টি বেসরকারি বিলের মধ্যে ৫টি উত্থাপিত হলেও কোনোটিই আইন হিসেবে পাশ হয়নি। একাদশ সংসদে ১০টি বেসরকারি বিলের মধ্যে একটি উত্থাপন করা হলেও সেটি পাশ হয়নি। বর্তমান ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে দুটি বেসরকারি বিল পাওয়া গেছে, তবে সেগুলোর উত্থাপন এখনো হয়নি।
গতকাল সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বেসরকারি সদস্যদের বিল ও সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব সংক্রান্ত কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংসদ সচিবালয় থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, এই সভায় বেসরকারি সদস্যদের বিল ও সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে উপস্থিত সদস্যদের অবহিত করা হয়। এছাড়াও, কমিটির কার্যপরিধি, বেসরকারি বিল, এবং সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব সম্পর্কিত সংবিধান ও কার্যপ্রণালি বিধিমালার বিভিন্ন দিক নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করা হয়। সভায় কমিটির কাজকে আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে বেসরকারি বিল উত্থাপনে সকল সংসদ সদস্যকে উৎসাহিত করতে কমিটির সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কমিটির সভাপতি মো. শাহজাহান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় কমিটির সদস্য আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, আমানউল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, তাহসিনা রুশদীর, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, শাহজাহান চৌধুরী এবং মো নূরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com