১৩ মে ২০২৬
preview
সুস্বাস্থ্যের সাথে হজ করার জন্য প্রয়োজনীয় উপদেশ

বিএনএন ডেস্ক

আমাদের দেশ থেকে অধিকাংশ ব্যক্তি সাধারণত ৫০ বা ৬০ বছর বয়সের পর হজে গমন করেন। এই বয়সে শারীরিক নানা জটিলতা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। হজ কিছুটা কষ্টসাধ্য ইবাদত হলেও মহান আল্লাহ তা সহজ করে দেন। কিন্তু মক্কা ও মদিনার তীব্র গরম (গড় তাপমাত্রা ২৮ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং দীর্ঘ পথ হেঁটে চলার কারণে অনেক হজযাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন।

হজের সময়ে সাধারণত সর্দি-কাশি, ঠান্ডা লাগা, পায়ের তলা ফেটে যাওয়া, ফোস্কা পড়া, পানিশূন্যতা এবং হিটস্ট্রোকের মতো সমস্যাগুলো বেশি পরিলক্ষিত হয়। এসব অসুবিধা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে কিছু বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করা অত্যাবশ্যক।

হজের সময়ে সাধারণত সর্দি-কাশি, ঠান্ডা লাগা, পায়ের তলা ফেটে যাওয়া, ফোস্কা পড়া, পানিশূন্যতা এবং হিটস্ট্রোকের মতো সমস্যাগুলো বেশি পরিলক্ষিত হয়।

ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধের উপায়

পিপাসা লাগার আগেই জল পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। দৈনিক কমপক্ষে ৩.৫ থেকে ৫ লিটার জল পান করা অত্যাবশ্যক। জমজমের জল পান করার সময় অতিরিক্ত শীতল জল এড়িয়ে চলুন; কক্ষ তাপমাত্রার জল পান করা শ্রেয়। প্রতি এক-দুই ঘণ্টা পর দুটি খেজুরের সাথে এক চুমুক জমজমের জল পান করলে দেহে ইলেকট্রোলাইটের সমতা বজায় থাকে এবং পানিশূন্যতা দ্রুত দূরীভূত হয়।

বিশেষত ইহরাম অবস্থায়, আরাফাতের মাঠে এবং জামারাতে পাথর নিক্ষেপের সময়ে শারীরিক শ্রম বেশি হয়। এই সময়ে প্রতি ৩০-৪৫ মিনিট পর অন্তত ১৫০-২০০ মিলিলিটার জল পান করুন।

যদি আপনার প্রস্রাব গাঢ় হলুদ দেখায়, মাথা ঘুরতে থাকে অথবা মুখ শুষ্ক মনে হয়, তবে বুঝবেন আপনি পানিশূন্যতায় আক্রান্ত। এমন অবস্থায় দ্রুত ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম নিন এবং ধীরে ধীরে ওরস্যালাইন বা লবণ-চিনির শরবত পান করুন।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য হজ পালনের পূর্বপ্রস্তুতি কেমন হবে

খাবার ও রোদের ব্যাপারে সাবধানতা

বাইরে বেরোলে সবসময় একটি ছাতা সাথে রাখুন এবং যথাসম্ভব ছায়াযুক্ত পথে চলার চেষ্টা করুন। প্রচণ্ড রোদে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। খাবারের বেলায় দেশীয় এবং টাটকা খাদ্যদ্রব্য নির্বাচন করুন। বাসি, অতিরিক্ত তেলমেশানো অথবা হজমে সমস্যা সৃষ্টিকারী খাবার পরিহার করুন।

মক্কা ও মদিনায় বহু বাংলাদেশি হোটেল বিদ্যমান। যাদের হজের প্যাকেজে খাবার অন্তর্ভুক্ত, তারা খাবারটি বাসি কি না তা পরীক্ষা করে নেবেন। এছাড়াও, পর্যাপ্ত পরিমাণে রসালো ফল, তাজা জুস, দুধ ও লাবাং পানের চেষ্টা করুন।

বাংলাদেশ ত্যাগের পূর্বে আপনার দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র পর্যাপ্ত পরিমাণে সঙ্গে রাখুন। এছাড়াও, সাধারণ জ্বর, ব্যথা অথবা সর্দি-কাশির ঔষধও সাথে রাখবেন।

জরুরি ঔষধ ও স্বাস্থ্যসেবা

বাংলাদেশ থেকে রওনা হওয়ার সময় আপনার নিয়মিত ব্যবহৃত ঔষধপত্র (যেমন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগের জন্য) পর্যাপ্ত পরিমাণে সাথে নিয়ে যান। পাশাপাশি, সাধারণ জ্বর, ব্যথা অথবা সর্দি-কাশির ঔষধও সঙ্গে রাখুন।

মক্কা ও মদিনায় বাংলাদেশ সরকারের হজ মিশনের তত্ত্বাবধানে গঠিত মেডিকেল দল ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা সেবা প্রদান করে। মক্কায় ইব্রাহিম খলিল রোডের শেষ প্রান্তের রিংরোড পেরিয়ে ‘জারহাম’ এলাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল সেন্টার অবস্থিত।

এখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধপত্র প্রাপ্তির সুযোগ রয়েছে। (যোগাযোগ: +৯৬৬৮০০১১৬০০২৯)। অনুরূপভাবে, মদিনার আল মাসানি এলাকায় বাংলাদেশ হজ মেডিকেল সেন্টারের পরিষেবা পাওয়া যাবে। (যোগাযোগ: +৯৬৬১৪৮৬৬৭২৩০)।

‘তোমরা দ্রুত হজের দায়িত্ব সম্পন্ন করো’

পদ ও ত্বকের পরিচর্যা

শুষ্ক আবহাওয়ায় পায়ের চামড়া ফেটে যাওয়া বা ফোস্কা ওঠা ঠেকাতে বাংলাদেশ থেকে ভ্যাসলিন সঙ্গে নিয়ে যান এবং নিয়মিতভাবে ব্যবহার করুন। খালি পায়ে হাঁটা পরিহার করুন। নামাজের সময়ে সরাসরি সূর্যের নিচে না দাঁড়িয়ে ছায়াযুক্ত স্থানে দাঁড়ানোর চেষ্টা করুন। জোহর ও আসরের নামাজ আদায়ের সময় জায়নামাজ ব্যবহার করুন এবং আরামদায়ক রাবার বা স্পঞ্জের তৈরি স্যান্ডেল পরিধান করুন।

আপনার প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো হজের অপরিহার্য কাজগুলো সম্পন্ন করা। প্রথমে অতিরিক্ত নফল ওমরাহ অথবা তাওয়াফ করে দেহকে অবসন্ন করবেন না। প্রধান হজের জন্য শক্তি সঞ্চয় করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

শক্তি সংরক্ষণ করুন

স্মরণ রাখবেন, আপনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো হজের অবশ্যপালনীয় কাজগুলো সম্পাদন করা। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত নফল ওমরাহ অথবা তাওয়াফ করে শরীরকে পরিশ্রান্ত করবেন না। মূল হজের জন্য কর্মশক্তি সঞ্চয় করা উত্তম।

হজের প্রধান কার্যাবলী শেষ করার পর নফল ইবাদত বা ওমরাহ করার জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া যাবে। সুস্থ থেকে হজের প্রতিটি পর্যায় নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করা আপনার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হোক।

আল্লাহ তাআলা সকলকে সুস্থ দেহে হজ পালনের তৌফিক দান করুন। আমিন।

  • মূসা মুহাম্মাদ হোজায়ফা: সহযোগী অধ্যাপক, ফিজিক্যাল মেডিসিন ও পুনর্বাসন শাখা, জাতীয় দগ্ধ ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট।

হজ ও ওমরাহ পালনের নিয়মকানুন


সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।

ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com