১২ মে ২০২৬


গুরুত্বপূর্ণ এক বিচারে স্যাম অল্টম্যান দাবি করেছেন যে ইলন মাস্ক ওপেনএআই-এর ৯০ শতাংশ মালিকানা চেয়েছিলেন
বিএনএন ডেস্ক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান অন্য এক প্রযুক্তি ব্যক্তিত্ব ইলন মাস্কের এই দাবি অস্বীকার করেছেন যে, তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য থেকে সরে গিয়েছেন বা বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন।
মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে প্রযুক্তি জগতের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে চলমান এক আলোচিত আইনি লড়াইয়ে অল্টম্যানের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে।
বিশ্বের শীর্ষ ধনী মাস্ক স্যাম অল্টম্যান এবং ওপেনএআই-এর প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তার অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য পরিবর্তনের মাধ্যমে তারা মূলত একটি 'দাতব্য সংস্থা চুরি' করেছেন।
তার দাবি, ওপেনএআই প্রধান তাকে মানবতার কল্যাণের কথা বলে ৩৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করেছিলেন, কিন্তু ২০১৯ সালে সংস্থাটিকে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হয়।
মঙ্গলবার কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অল্টম্যান মাস্ককে একজন প্রতিযোগী হিসেবে তুলে ধরেন, যার লক্ষ্য ছিল ওপেনএআই-এর ওপর পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করা।
আদালতে অল্টম্যান বলেন, 'এখানে আসলে যা ঘটেছে তার সাথে ‘দাতব্য সংস্থা চুরি’ শব্দগুলো কোনোভাবেই সংগতিপূর্ণ নয়।'
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শের কারণে এই দুই বিখ্যাত ব্যক্তির মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে তিক্ত সম্পর্ক বিরাজ করছে।
বাক-স্বাধীনতার কট্টর সমর্থক মাস্ক বর্তমানে তার নিজস্ব এআই চ্যাটবট 'গ্রোক' পরিচালনা করছেন, যার বিরুদ্ধে নানা বিতর্কিত ও আপত্তিকর বিষয় প্রচারের অভিযোগ রয়েছে।
মাস্ক ওপেনএআই এবং এর অন্যতম প্রধান বিনিয়োগকারী মাইক্রোসফটের কাছ থেকে ১৫০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
এই মামলার বিচারকাজ শুরু হওয়ার দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় পর অল্টম্যানের সাক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে, যেখানে তিনি ও মাস্ক একে অপরের মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন।
সাক্ষ্যে অল্টম্যান দাবি করেন যে, ওপেনএআই-কে একটি বাণিজ্যিক উদ্যোগে পরিণত করার পরিকল্পনা সম্পর্কে বিনিয়োগের সময় মাস্ক অবগত ছিলেন এবং তিনি নিজেই কোম্পানির বড় অংশের শেয়ারের দাবি জানিয়েছিলেন।
অল্টম্যান জুরিকে জানান, 'শুরুতে মিস্টার মাস্ক বলেছিলেন যে শুরুতে তার কাছে ৯০ শতাংশ ইক্যুইটি থাকা উচিত। পরে সেই দাবি কিছুটা কমলেও তিনি সব সময় সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাই চেয়েছিলেন।'
এই বিচারের রায় ওপেনএআই-এর নেতৃত্ব এবং চ্যাটজিপিটির মতো পণ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। মামলার অংশ হিসেবে মাস্ক অল্টম্যান এবং ব্রকম্যানকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছেন।
এমন এক সময়ে এই বিচার চলছে যখন ওপেনএআই শেয়ার বাজারে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে যা একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।
এর আগের সাক্ষ্যে মাস্ক অল্টম্যানকে একজন মিথ্যাবাদী হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে প্রযুক্তির বিকাশের ক্ষেত্রে তাকে বিশ্বাস করা যায় না।
মাস্ক মন্তব্য করেছিলেন, 'অবিশ্বস্ত কোনো ব্যক্তির হাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিয়ন্ত্রণ থাকা পুরো বিশ্বের জন্য চরম বিপদের কারণ হতে পারে।'
মঙ্গলবার জেরার সময় মাস্কের আইনজীবী স্টিভেন মোলো অল্টম্যানের নির্ভরযোগ্যতা ও সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
মোলো অল্টম্যানকে জিজ্ঞাসা করেন, 'আপনি কি আপনার ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কখনও মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন?'
উত্তরে অল্টম্যান বলেন, 'আমি তা মনে করি না।'
অন্যদিকে অল্টম্যান মাস্কের নেতৃত্বদানের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন; মাস্ক ২০১৮ সালে ওপেনএআই-এর বোর্ড ত্যাগ করে নিজের আলাদা এআই গবেষণায় মন দিয়েছিলেন।
অল্টম্যান বলেন, 'আমার মনে হয় না মিস্টার মাস্ক জানতেন কীভাবে একটি মানসম্মত গবেষণা ল্যাব পরিচালনা করতে হয়। তিনি আমাদের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ গবেষকের মনোবল নষ্ট করেছিলেন।'
যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈপ্লবিক পরিবর্তনের বড় বড় কথাগুলোতে খুব একটা আশ্বস্ত হতে পারছে না।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৬ সালের মার্চের একটি জরিপ অনুযায়ী, বেশিরভাগ মার্কিনি মনে করেন এআই মানুষের সৃজনশীল চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা উন্নয়নের বদলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাবে।
মাত্র ১০ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন যে তারা দৈনন্দিন জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার চেয়ে বেশি আগ্রহী।
তবে নীতিনির্ধারকরা যখন এই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন, তখন এআই শিল্প তাদের বিশাল অর্থনৈতিক শক্তিকে রাজনৈতিক প্রভাবে রূপান্তর করতে দ্রুত তৎপর হয়েছে।
নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এআই ব্যবহারের বিষয়টি রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই প্রযুক্তির জন্য একটি জাতীয় নীতিমালা তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এআই শিল্পে ব্যাপক বিনিয়োগ হচ্ছে; জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০৩৩ সাল নাগাদ এই প্রযুক্তির বৈশ্বিক বাজার ৪.৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com