বিএনএন ডেস্ক
দলীয় প্রতীকবিহীনভাবে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
অপ্রয়োজনীয় বা ‘ডামি’ প্রার্থীর অংশগ্রহণ রোধে জামানতের অর্থ বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্থানীয় সরকার নির্বাচনসমূহে প্রার্থীদের জামানত বৃদ্ধির কথা ভাবছে।
আইনের সংশোধনের ফলস্বরূপ, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোয় কোনো দলীয় প্রতীক ব্যবহৃত হবে না। এজন্য ইসি নির্বাচন পরিচালনা এবং আচরণবিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। এই সংস্কারের অংশ হিসেবে, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ভোটারদের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বিধানটি বাদ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইতিমধ্যে, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি), পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের মেয়র/চেয়ারম্যান পদ থেকে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান আইন সংশোধন করে বাতিল করা হয়েছে। এই কারণে, সংশ্লিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা ও আচরণবিধিমালা সংশোধন করা আবশ্যক। সূত্রমতে, এ বিষয়ে প্রাথমিক কিছু কাজ এগিয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রায় সকল নির্বাচিত স্থানীয় সরকার পরিষদ ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। পরবর্তীতে বিএনপি সরকার গঠনের পর নতুন করে বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিযুক্ত করে। স্থানীয় নির্বাচনের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে সম্প্রতি, বিএনপি এবং এর তিনটি সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সাথে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, খুব শীঘ্রই স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে, নির্বাচন কমিশনও (ইসি) নির্বাচন আয়োজনের পূর্বে প্রয়োজনীয় বিধিমালা সংস্কারের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, আজ (বুধবার) ইসির আইন ও বিধি সংস্কার বিষয়ক কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। উক্ত সভায় নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আচরণবিধিমালায় কী ধরনের সংশোধন প্রয়োজন, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। জামানতের বিষয়টিও আলোচনার বিষয়বস্তু হতে পারে। কমিটি এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে, তা পরবর্তী কমিশন সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। কমিশনের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
এর পূর্বে, কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বে গঠিত নির্বাচন কমিশনও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের জামানত ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদের জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫ হাজার টাকা করা হয়। একই সাথে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার জন্য ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরসহ তালিকা জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও বাতিল করা হয়েছিল।
ইসি সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান কমিশন মনে করে যে, দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বিধান বাতিল করা হলে প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে অহেতুক বা ‘ডামি’ প্রার্থীর সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে, যা নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনাধীন আছে।
তবে, উপজেলা নির্বাচনে পূর্ববর্তী কমিশন যেভাবে জামানতের পরিমাণ দশগুণ বৃদ্ধি করেছিল, বর্তমান কমিশনের কিছু সদস্য এটিকে পুরোপুরি যৌক্তিক মনে করছেন না। তাঁদের প্রত্যাশা, জামানতের পরিমাণ এমনভাবে বাড়ানো হোক যাতে এটি প্রার্থীদের উপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি না করে, আবার এত কমও না থাকে যে অনর্থক প্রার্থিতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।
বর্তমানে, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের জন্য জামানত ৫ হাজার টাকা এবং সদস্য পদের জন্য ১ হাজার টাকা। পৌরসভার মেয়র পদে ভোটারের সংখ্যার ভিত্তিতে জামানত ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত, এবং কাউন্সিলর পদের জন্য ৫ হাজার টাকা। সিটি করপোরেশনে মেয়র পদের জামানত ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা এবং কাউন্সিলর পদের জন্য ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত আছে।
ইসি সূত্র থেকে জানা গেছে যে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা, ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ব্যবহার বাতিল করা সহ আরও বেশ কিছু সংশোধনী আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
ইসির আইন ও বিধি সংস্কার কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আজ তাঁদের কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বৈঠক শেষে জামানত বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে। সংশোধিত আইন অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা ও নির্বাচন আচরণ বিধিমালায় কী কী পরিবর্তনের প্রয়োজন, তা নিয়েও এই বৈঠকে আলোচনা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com