১২ মে ২০২৬
preview
ভোট-পরবর্তী সহিংসতা: তৃণমূলের ২ হাজার সমর্থকের ওপর আক্রমণের অভিযোগ, হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা

বিএনএন ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার তৃণমূলের আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় দলের পক্ষ থেকে এই আবেদনটি জমা দেন। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথী সেনের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি গ্রহণ করেছে এবং বৃহস্পতিবার শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছে।

শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, এই ঘটনাগুলোর উপযুক্ত তদন্ত কোনো উপযুক্ত সংস্থা দ্বারা পরিচালিত হোক এবং রাজ্যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আদালত যেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

উল্লেখ্য, মামলার আবেদনকারী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এবারের বিধানসভা নির্বাচনে হুগলির উত্তরপাড়া আসন থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তবে তিনি পরাজিত হন।

শীর্ষণ্য তার অভিযোগে আরও উল্লেখ করেছেন যে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, ভোট-পরবর্তী হিংসার সময় রাজ্য পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল। অভিষেক বলেন, 'মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। আমাদের সপ্তগ্রামের কর্মী সোমনাথ আচার্য এবং চাকদহের কর্মী তপন সিকদার বিজেপি-আশ্রিত দুষ্কৃতকারীদের হামলায় নিহত হয়েছেন।'

অভিষেক অভিযোগ করেন, এই ধরনের ঘটনা ঘটার সময় পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল, আদালত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে, অন্যদিকে বিজেপি নেতারা আনন্দ উৎসবে মত্ত। তার মতে, প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরের পরিকল্পনায় ব্যস্ত এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 'নিখোঁজ'। আর এই নীরবতার সুযোগে সাধারণ মানুষ বিজেপির হিংসা, প্রতিহিংসা ও চরম অরাজকতার শিকার হচ্ছেন।

তবে, বিজেপির মুখপাত্র বিমল শঙ্কর নন্দ অভিষেকের এই বক্তব্যের তীব্র জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, '৪ মে ফল ঘোষণার পর কিছু লোক হঠাৎ করে বিজেপি বনে গেছেন এবং তারাই এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছেন। আমরা দৃঢ়ভাবে বলছি, এসব ঘটনার সঙ্গে বিজেপি জড়িত নয়। যারা এমন কাজ করছে, তাদের বিরুদ্ধে বিজেপি কঠোর ব্যবস্থা নেবে। বিজেপি কখনো এমন আচরণ বরদাশত করবে না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কি ভুলে গেছেন ২০১১ সালে তৃণমূলের জয়ের পর তারা কী করেছিল?'

২০১১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় আসেন। সেই বিপুল বিজয়ের পর রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে তৃণমূলের সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল; সিপিএমের বহু কার্যালয় ভাঙচুর ও দখল করা হয়েছিল।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। নির্বাচনের পর বিজয়ী বিজেপি নেতারা ঘোষণা করেছিলেন যে, তাদের এই বিজয়ের পর যেন কোনো হামলা বা কার্যালয় দখলের ঘটনা না ঘটে। বিজেপি এই ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডে সমর্থন দেবে না বলে তারা জানিয়েছিলেন।

বিজেপি আরও ঘোষণা দিয়েছে যে, এখন থেকে অনেক তৃণমূল সমর্থক বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে দলে ভিড়তে চাইবে। এদের যেন বিজেপিতে ঢুকতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তবে, নির্বাচনের পর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিজেপির বিজয় মিছিলে তৃণমূলের সমর্থকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।


সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।

ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com