বিএনএন ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের ধারণা ছিল যে বিজেপি এবার ২০২১ সালের তুলনায় কম আসন পাবে, কিন্তু ফলাফল ভিন্ন হয়েছে। সম্ভবত এ কারণেই তৃণমূল নেত্রী এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনো এই ফল মেনে নিতে পারেননি। তিনি এখনো বলছেন যে, নির্বাচনে কমপক্ষে ১০০ আসনে সূক্ষ্ম কারচুপি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবার দলের নেতাদের সঙ্গে একটি বৈঠকে বসবেন।
মমতার কালীঘাটের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে বিভিন্ন জেলার নেতা, বিধায়ক এবং সংসদ সদস্যরা অংশ নেবেন। মমতা দলের নেতাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে দলকে নতুন করে সাজানোর দিকনির্দেশনা দেবেন। তিনি বলেছেন যে, তৃণমূল এই রাজ্যে আছে এবং থাকবে। ভবিষ্যতে তারা আরও শক্তিশালী হয়ে শাসক দলের বিরুদ্ধে লড়বে।
পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের জনগণের কাছে বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নিয়ে এসেছেন। গতকাল তিনি দিনভর সচিবালয়ে কর্মকর্তা ও বিধায়কদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন।
শুভেন্দু বলেছেন, বিজেপি সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো এই বাংলার সার্বিক উন্নয়ন। 'সোনার বাংলা' গড়ে তোলা, বাংলাকে শিল্পসমৃদ্ধ করা এবং মানুষের অভাব-অভিযোগ নিরসন করে তাদের চাহিদা পূরণ করা। তিনি উল্লেখ করেন, রাজ্যের উন্নয়ন হবে দিল্লি ও কলকাতার 'ডাবল ইঞ্জিন' সরকারের হাত ধরে। এই সরকারই রাজ্যবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবে এবং তাদের উন্নয়নের আলো দেখাবে। সেই আলোকিত পথেই চলবে বাংলার সরকার।
শুভেন্দু আরও জানান, গতকাল থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের সকল প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই রাজ্যে বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান প্রকল্প চালু করতে দেননি, কিন্তু এখন সেই প্রকল্প চালু হয়েছে। এর ফলে নাগরিকেরা পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য হাসপাতালে বছরে পাঁচ লাখ রুপি পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেছেন যে, ১ জুন থেকে বাংলার মা-বোনেদের জন্য 'অন্নপূর্ণা ভান্ডার' প্রকল্প চালু হচ্ছে। এই প্রকল্পে 'লক্ষ্মীর ভান্ডার'-এর ১,৫০০ রুপি অনুদানের পরিবর্তে মাসিক ৩,০০০ রুপি অনুদান দেওয়া হবে। এছাড়াও, নারীরা পশ্চিমবঙ্গের সকল সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন।
শুভেন্দু বলেন, 'এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে তৈরি করে যে 'বিশ্ববাংলা' লোগো চালু করেছিলেন, সেটি বাতিল করে ভারতে প্রচলিত অশোক স্তম্ভের লোগো চালু করা হয়েছে। একই সাথে, এই বাংলায় ভারতের নতুনভাবে প্রণীত “ভারতের ন্যায় সংহিতা” কার্যকর করা হয়েছে, যা পূর্বে ভারতের দণ্ডবিধি ও ফৌজদারি কার্যবিধি নামে পরিচিত ছিল। মমতা এই ন্যায় সংহিতাকে রাজ্যে কার্যকর না করে পূর্বের দণ্ডবিধি ও ফৌজদারি কার্যবিধি বলবৎ রেখেছিলেন। বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার এই দণ্ডবিধি সংশোধন করে ভারতের ন্যায় সংহিতা প্রণয়ন করেছে, যা এতদিন মমতা এই রাজ্যে চালু করেননি।'
শুভেন্দু অধিকারী আরও ঘোষণা দিয়েছেন, 'এই রাজ্যের কোনো চালু প্রকল্প বন্ধ করা হবে না, তা ৩০ বছরের পুরোনো হলেও। লক্ষ্মীর ভান্ডারের পরিবর্তে ১ জুন থেকে অন্নপূর্ণা ভান্ডার চালু হবে। এই তহবিল থেকে মা-বোনেদের মাসিক ৩,০০০ রুপি করে দেওয়া হবে, যা পূর্বে মমতার আমলে লক্ষ্মীর ভান্ডারে ১,৫০০ রুপি ছিল।'
শুভেন্দু অবশ্য চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে আরও পাঁচ বছর সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এও জানানো হয় যে, ৬০ বছরের বেশি বয়সী যে কর্মকর্তাদের পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তাদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com