বিএনএন ডেস্ক
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) উৎস থেকে বর্জ্য পৃথকীকরণ কর্মসূচি শুরু করেছে। মঙ্গলবার সকালে ঢাকার গুলশান এলাকায় সবুজ ও হলুদ রঙের দুটি ভিন্ন ময়লার পাত্র এবং পলিব্যাগ বিতরণের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন শহর গড়ার ক্ষেত্রে দায়বদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি জোর দেন যে আবর্জনা রাস্তায় না ফেলে নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলার অভ্যাস তৈরি করা অপরিহার্য। এই বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন সমিতি, মসজিদ কমিটি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক ভবন মালিক সমিতিগুলোকে যুক্ত করার কথা উল্লেখ করেন তিনি। একইসঙ্গে মশা নিধন, খাল ও নর্দমা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো নানা ক্ষেত্রে ডিএনসিসি সমন্বিতভাবে কাজ করে চলেছে বলেও জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর মন্তব্য করেন যে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অপরিহার্য দিক হলো উৎসস্থানেই বর্জ্য আলাদা করা। তিনি আরও জানান যে, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০২১-এ এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া আছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার জন্য একটি পুণ্যভূমি থেকে এই কর্মসূচির সূত্রপাত করা হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে যে সকল স্থানে জনসমাগম বেশি হয়, যেমন—মসজিদ, মন্দির, গির্জা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিপণি বিতান এবং টার্মিনাল, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সেখানে আলাদা বর্জ্য ফেলার পাত্র বিতরণ করা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে মোট ৫০০টি ফাইবার নির্মিত বিন সরবরাহ করা হবে; যার মধ্যে ২৫০টি সবুজ এবং বাকি ২৫০টি হলুদ রঙের। প্রতিটি বিনের সাথে ১০০টি করে পলিব্যাগও দেওয়া হচ্ছে। কোন ধরনের বর্জ্য কোন বিনের মধ্যে ফেলতে হবে, সে সম্পর্কিত নির্দেশনাগুলো বিনের গায়েই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সবুজ রঙের বিনগুলিতে জৈব ও পচনশীল আবর্জনা, যেমন—রান্নাঘরের অবশিষ্টাংশ, শাকসবজি ও ফলের ছাল, মাছ-মাংসের উচ্ছিষ্ট, গাছের পাতা-ঘাস ও বাগানের বর্জ্য, চা পাতা এবং ডিমের খোসা ফেলার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পক্ষান্তরে, হলুদ বিনগুলিতে অজৈব ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য আবর্জনা, যেমন—প্লাস্টিকের বোতল ও প্যাকেট, কাগজ, কার্টন, সংবাদপত্র, কাচের সামগ্রী, টিনজাত পণ্য, ধাতব ক্যান এবং শুকনো প্লাস্টিকজাতীয় জিনিসপত্র রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়াও, ভেজা ও শুকনো আবর্জনা একত্রে না মেশানো, ধারালো বা বিপদজনক বর্জ্য আলাদা করে রাখা, আবর্জনা ফেলার পাত্রের ঢাকনা সব সময় বন্ধ রাখা এবং রাস্তা, নর্দমা বা উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য না ফেলার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মোট দশটি অঞ্চলে এই কার্যক্রম ক্রমান্বয়ে পরিচালিত হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com