বিএনএন ডেস্ক
বাঙালির রান্নাঘরে বহুল ব্যবহৃত একটি সাধারণ উপজাত বর্তমানে নতুন করে জনপ্রিয়তা লাভ করছে। একেই এখন সবচেয়ে কার্যকর জলযোজক (হাইড্রেটিং) পানীয় হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এটি গরমকালে শরীরকে শীতলতা প্রদান করে এবং একই সাথে শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
একসময় যা ছিল কেবল বাঙালির হেঁশেলের একটি অতি পরিচিত 'উপজাত', আজ তা একটি প্রাকৃতিক গ্রীষ্মকালীন পানীয় হিসেবে সমাদৃত হচ্ছে। ভাত রান্না করার সময় যে স্টার্চযুক্ত জল নিঃসৃত হয়, সেটিই মূলত ভাতের মাড়। এতে স্বল্প পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা দ্রুত শরীরে শক্তি জোগায় এবং সহজেই হজম হয়। বাঙালির রান্নাঘরের এই সাধারণ উপাদানটি এখন নতুন করে চর্চায় আসছে। একেই বর্তমানে সবচেয়ে কার্যকর হাইড্রেটিং পানীয় বলা হচ্ছে। গ্রীষ্মকালে এটি শরীরকে আরাম দেয় এবং হাইড্রেটেড রাখে।
ভাতের মাড়ের স্বাদ অত্যন্ত মৃদু বা কোমল। এটি না টক, না মিষ্টি, যা গরমকালে মুখে একধরনের স্বস্তি এনে দেয়। অনেকে এটিকে লেবুর শরবত বা বাটারমিল্কের চেয়েও বেশি কোমল মনে করেন, কারণ এতে কোনো তীব্র অম্লতা বা ভারীর ভাব থাকে না।
এই পানীয়টির সবচেয়ে বড় গুণ হলো এর কোমলতা। সহজে হজমযোগ্য হওয়ায় এটি পেটের উপর কোনো চাপ সৃষ্টি করে না। বরং এটি ধীরে ধীরে শরীরকে জলযোজিত করে এবং ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে। সামান্য লবণ ও ভাজা জিরা যোগ করলে এতে ইলেকট্রোলাইট ও হজম সহায়ক গুণ যুক্ত হয়, যা গ্রীষ্মকালে বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়।
সাধারণ ভাতের মাড়েই আনুন ভিন্নতা
আধ কাপ চাল ভালো করে ধুয়ে তিন কাপ জলে রান্না করুন। ভাত সেদ্ধ হয়ে গেলে জল ছেঁকে আলাদা করে নিন। ওই স্টার্চযুক্ত জলে এক চিমটি লবণ, সামান্য ভাজা জিরা গুঁড়ো এবং বিট লবণ মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে এই গ্রীষ্মকালীন পানীয়। হালকা টক স্বাদের জন্য এক চা চামচ লেবুর রসও যোগ করতে পারেন। ঠান্ডা করে পান করলে এর সতেজতা আরও বৃদ্ধি পায়।
ভাতের মাড়ে প্রাকৃতিক কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা শরীরকে দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে। এতে অল্প পরিমাণে সোডিয়াম ও পটাশিয়াম থাকায় এটি জলযোজন বজায় রাখতে সাহায্য করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এটি অত্যন্ত সহজপাচ্য, তাই পেটের অস্বস্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
* বেশিক্ষণ সংরক্ষণ না করে তাজা অবস্থায় পান করা ভালো।
* বেশি ঘন হয়ে গেলে সামান্য জল মিশিয়ে নিন।
* মশলা খুব বেশি ব্যবহার না করে হালকা রাখাই শ্রেয়।
* অল্প সময়ের জন্য ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে নিলে এর স্বাদ আরও বাড়ে।
বর্তমান জীবনযাত্রায় যেখানে 'প্রাকৃতিক', 'বিশুদ্ধ' এবং 'ন্যূনতম' উপাদানে তৈরি খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে, সেখানে ভাতের মাড় যেন সেই ধারারই একটি প্রতিচ্ছবি। এতে কোনো কৃত্রিম উপাদান বা অতিরিক্ত চিনি নেই।
সব মিলিয়ে, ভাতের মাড় কেবল একটি পানীয় নয়। এটি গ্রীষ্মকালে শরীরকে আরাম দেওয়ার একটি সহজ, পরিচিত এবং নির্ভরযোগ্য উপায়। কখনো কখনো সবচেয়ে সাধারণ জিনিসগুলোই আমাদের সর্বাধিক স্বস্তি দেয়, এই পানীয়টি তারই প্রমাণ।
তথ্যসূত্র: হেলথলাইন, হেলথশটস
ছবি: পেকজেলস, ইনস্টাগ্রাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com