বিএনএন ডেস্ক
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বিএসএফ-কে প্রয়োজনীয় জমি আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ‘সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এই সিদ্ধান্তকে আমরা সেই আলোকেই দেখছি।’
মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা জানান। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় গতকাল সোমবার। বৈঠক শেষে তিনি জানান, বাংলাদেশ-ভারত আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফ-কে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে জমি বুঝিয়ে দেবে তাঁর সরকার।
গতকাল এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, এখন আর কাঁটাতার দিয়ে বাংলাদেশকে ভয় দেখানোর দিন নেই। বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার কাঁটাতারকে ভয় পায় না।
আজ নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক জানতে চান, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ অবৈধভাবে অন্য দেশে বাংলাদেশি নাগরিকদের যাওয়ার বিষয়ে সরকারের 'জিরো টলারেন্স' নীতির কথা বলেছেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর নাগরিকদের একাংশের ইউরোপে পাড়ি জমানো প্রসঙ্গে এই নীতি গ্রহণের কথা বলেছেন, যা ভারতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত কিনা?
রণধীর জয়সোয়াল এই প্রশ্নেরও সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়, তার মধ্যে এটি (অনুপ্রবেশ) একটি। ভারতে অবৈধভাবে বসবাস করছেন এমন ২,৮৬০ জনের বেশি নাগরিকের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশকে অনেক আগেই অনুরোধ করা হয়েছে। ভারতের ধারণা, তারা সবাই বাংলাদেশি। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে তিস্তা উন্নয়ন প্রকল্পের প্রসঙ্গও উঠে আসে। একজন সাংবাদিক জানতে চান, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সম্প্রতি চীন সফরকালে তিস্তা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পেতে তাদের অনুরোধ করেছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশের আগের সরকারের সিদ্ধান্ত (যেখানে এই প্রকল্পের দায়িত্ব ভারতকে নিতে বলা হয়েছিল) পরিবর্তন করে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ পারস্পরিক বিশ্বাসের জায়গাটিকে নষ্ট করে কিনা?
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এই প্রশ্নেরও সরাসরি জবাব দেননি। তিনি বলেন, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যেকোনো ঘটনার ওপর কড়া নজর রাখা হয়। এক্ষেত্রেও সেই নজর রয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থই প্রাধান্য পায়।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ফলাফল বাংলাদেশে কিছু মহলে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে বলে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জয়সোয়াল বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই জানিয়েছি যে ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ইতিবাচকভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে চায়। এই মনোভাবের কোনো পরিবর্তন হয়নি।’
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com