১২ মে ২০২৬
preview
আত্মবিশ্বাসের জয়: সুন্দরবনের গভীরে মৌয়ালদের কঠিন লড়াইয়ের গল্প নিয়ে তথ্যচিত্র

বিএনএন ডেস্ক

পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অঞ্চল সুন্দরবন, যা তার মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যের পাশাপাশি ভয়ঙ্কর রূপের জন্যও পরিচিত। ঘন গাছপালা, কর্দমাক্ত মাটি এবং এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা এখানে বিরাজ করে। কখনো বাঘের ভয়, কখনো কুমিরের। পায়ের নিচে চোরাবালির ফাঁদ, আবার মাথার উপর মৌমাছির দল। তবুও এখানে জীবন থেমে থাকে না। কারণ, এই বনেই লুকিয়ে আছে কিছু মানুষের জীবন ও জীবিকার গল্প। এই বনই তাঁদের বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন।

সুন্দরবনের মৌয়ালদের জীবন এভাবেই কঠিন বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরে। প্রতিবার মধু সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বের হলে তাঁদের টানা ১৪ দিন পর্যন্ত নৌকায় কাটাতে হয়। নদী-খাল পেরিয়ে দুর্গম বনে প্রবেশ করে তাঁদের মৌচাক খুঁজে বের করতে হয়। এরপর জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সংগ্রহ করতে হয় মধু। কিন্তু ভয়কে সঙ্গী করে এই মানুষগুলো পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর তাগিদে বারবার ফিরে যান সুন্দরবনের গভীরে।

এই সাহসী মানুষদের জীবনসংগ্রাম, তাদের ভয়, ভালোবাসা এবং টিকে থাকার লড়াইয়ের গল্পগুলো নিয়েই বিকাশের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে বিশেষ তথ্যচিত্র ‘সাহসেই বিকাশ’। এবারের সুন্দরবন দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত ৩ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের এই তথ্যচিত্রে এমন এক জীবনের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা দূর থেকে যতটা রোমাঞ্চকর মনে হয়, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি কষ্টকর।

তবে একসময় মৌয়ালদের জীবন ছিল আরও অনেক বেশি কঠিন। দীর্ঘদিন সুন্দরবনে থাকার কারণে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। কখনো এক সপ্তাহ, কখনো ১৫ দিন পর্যন্তও পরিবার থেকে দূরে থাকতে হতো তাঁদের। মনে সব সময় অজানা দুশ্চিন্তা কাজ করত – বাড়িতে কী ঘটছে, কোনো বিপদ হলো কিনা, সন্তানেরা কেমন আছে।

কিন্তু সময়ের সাথে সাথে পরিস্থিতি বদলেছে। এখন গভীর বনেরও কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। সেই সুযোগে মৌয়ালরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। মৌয়াল সুজায়েত হোসেন মালিক বলেন, ‘এখন আমি যখন সুন্দরবনে যাই, তখন আমার সাথে মুঠোফোন থাকে। আমি পরিবারের সঙ্গে প্রতিদিন যোগাযোগ করতে পারি। আগে তো এক সপ্তাহ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত পরিবারের কারো সঙ্গে কথা বলতে পারতাম না। প্রতি মুহূর্তে দুশ্চিন্তা লেগে থাকত – বাড়িতে সবকিছু ঠিক আছে কিনা, কোনো বিপদ-আপদ হলো কিনা।’

সুজায়েত হোসেন মালিক আরও জানান, ‘কিছু নির্দিষ্ট জায়গা আছে যেখানে মোবাইলে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়, তাই ভিডিও কলেও কথা বলা সম্ভব। আগে টাকাপয়সা সাথে নিয়ে চলাফেরা করতে ভয় লাগত। পথে হারিয়ে যাওয়ার ভয় ছিল, ছিনতাইয়ের আশঙ্কাও সব সময় থাকত। এখন সেই ঝুঁকি অনেক কমেছে। মধু বিক্রির টাকা নিরাপদে বিকাশে রাখা যায়, প্রয়োজন হলে দেশের যেকোনো প্রান্তে পাঠানোও খুব সহজ।’

এই ছোট্ট প্রযুক্তিগত সুবিধা মৌয়ালদের জীবনে এনে দিয়েছে এক বিরাট স্বস্তি। কারণ, সুন্দরবনের মতো দুর্গম এলাকায় জীবন শুধু প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই নয়, বরং প্রতিদিনের অনিশ্চয়তার সঙ্গেও এক যুদ্ধ। পরিবার থেকে দূরে থেকেও এখন তাঁরা যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকতে পারছেন। কষ্ট করে উপার্জিত অর্থও এখন নিরাপদে ও সহজে সংরক্ষণ করতে পারছেন।

তথ্যচিত্রটিতে কেবল মৌয়ালদের জীবনসংগ্রামই নয়, তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক, পরিবারকে ঘিরে তাদের স্বপ্ন এবং নিরাপদে ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষাও চিত্রিত হয়েছে। ভয় ও ঝুঁকির মধ্যেও এই মানুষগুলোর মধ্যে যে গভীর বন্ধন এবং বেঁচে থাকার তাগিদ কাজ করে, তা-ই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন নির্মাতা।

তথ্যচিত্রের নির্মাতা তানভীর আহসান বলেন, দূর থেকে মৌয়ালদের জীবন যতটা কঠিন মনে হয়, বাস্তবে তা তার চেয়েও অনেক বেশি কঠিন। তাই কোনো সাজানো দৃশ্য নয়, বরং তাদের বাস্তব জীবনকেই ক্যামেরায় বন্দী করার চেষ্টা করা হয়েছে। মৌচাক খোঁজা, নদীপথে যাত্রা, নৌকায় কাটানো দীর্ঘ সময় অথবা পরিবারের সঙ্গে কথা বলার ছোট ছোট মুহূর্ত – সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে এখানে।

তথ্যচিত্রটির পৃষ্ঠপোষক বিকাশের হেড অব ডিজিটাল অ্যাসেটস অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স ইশতিয়াক শাহরিয়ার বলেন, ‘এই চলচ্চিত্রে আমরা মূলত সুন্দরবনের মৌয়ালদের কঠিন জীবনসংগ্রামকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। প্রতিনিয়ত ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থেকেও তারা কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করেন, সেই বাস্তবতাই এই গল্পে প্রতিফলিত হয়েছে। প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে আজ এই মানুষগুলো বনাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকা থেকেও পরিবারের প্রয়োজনের মুহূর্তে পাশে থাকতে পারছেন। সহজ ও নিরাপদ লেনদেনের সুবিধা তাদের কঠিন জীবনে এনে দিয়েছে একধরনের স্বস্তি ও নির্ভরতা।’

ইশতিয়াক শাহরিয়ার আরও বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য ছিল দর্শকদের সামনে মৌয়ালদের জীবন কতটা চ্যালেঞ্জিং ও রোমাঞ্চকর, তা তুলে ধরা। একই সঙ্গে এটিও দেখানো যে প্রতিকূলতার মধ্যেও কীভাবে তারা নিরাপদে ও সহজভাবে আর্থিক লেনদেন করতে পারছেন। বিকাশ এই সুবিধা কেবল মৌয়ালদের জন্যই নয়, দেশের সকল মানুষের জন্য নিশ্চিত করছে।’

মৌয়ালদের জীবনের গল্প নিয়ে নির্মিত এই তথ্যচিত্রটি #আমার বিকাশ’ফেসবুক পেজ, ইনস্টাগ্রাম পেজ এবং ইউটিউব লিংকে দেখা যাবে।


সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।

ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com