বিএনএন ডেস্ক
গাজীপুরের শ্রীপুরে দুটি খালের পুনঃখনন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়ে গেলেও ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি। গত ২ মে রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ইজ্জতপুর ও রাজেন্দ্রপুর এলাকায় এই প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। তবে, একটি নদীকে খাল হিসেবে চিহ্নিত করাসহ কারিগরি জটিলতার কারণে কর্তৃপক্ষ আপাতত প্রকল্পটি স্থগিত রেখেছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, পারুলি ও বিন্দাই নামে দুটি খালের প্রায় ৩ কিলোমিটার অংশ পুনঃখননের জন্য প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় এই বরাদ্দ দেওয়া হয়। শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মাধ্যমে কাজটি বাস্তবায়নের কথা ছিল। উদ্বোধনের পরপরই ভারী বৃষ্টিতে পারুলি ও বিন্দাই খালের পানি উপচে আশপাশের ফসলি জমি তলিয়ে যায় এবং ব্যাপক ফসলের ক্ষতি হয়। দুই দিনের মধ্যে পানি নেমে গেলেও এরপর আর কাজ শুরু হয়নি।
মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকল্পের একটি খাল ‘পারুলি’ আসলে স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘদিন ধরে নদী হিসেবে পরিচিত। কিন্তু প্রকল্পে এটিকে খাল হিসেবে দেখিয়ে পুনঃখননের আওতায় আনা হয়েছে। নদীটির প্রস্থ ও গভীরতা তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় খনন করা জটিল হয়ে পড়েছে। এছাড়া, ২০২১ সালের মার্চ মাসে নদীটির একটি অংশ পুনঃখনন করা হয়েছিল। অন্যদিকে, পারুলি নদীর প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে রান্দুনী নামে একটি খাল অবহেলায় প্রায় বিলুপ্তির পথে। দীর্ঘদিন খনন না করায় সেটির গভীরতা কমে গেছে এবং দখল হয়ে গেছে বেশিরভাগ অংশ।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পারুলি নদীর গভীরতা বেশি হওয়ায় তাঁদের সক্ষমতার মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এই কারণে পুরো প্রকল্পটি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে এবং বিকল্প হিসেবে অন্য কোনো খাল খোঁজা হচ্ছে।
গত সোমবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালে নদীকে খাল হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি করে। ইজ্জতপুর গ্রামের বাসিন্দা মাহবুব আলম বলেন, ‘পারুলি কোনো খাল নয়। এটি আমাদের এলাকার একটি পুরোনো নদী। এটি আগেও খনন করা হয়েছে। আবার এটিকে খাল দেখিয়ে পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া সঠিক হয়নি। বরং পাশের রান্দুনী খালটি খনন করা উচিত।’
অন্য এক বাসিন্দা দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, পারুলি নদী খননের চেয়ে রান্দুনী খালটি খনন করা জরুরি। খালটি দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকায় দখল ও ভরাটের কারণে এর অনেক অংশ বিলীন হয়ে গেছে। খালটি খনন করা হলে এলাকার জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমে যেত। তিনি বলেন, বর্তমানে সামান্য বৃষ্টিতেই রান্দুনী খালের পানি ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে যায়, যার ফলে ফসলি জমি তলিয়ে যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদ জানান, পারুলি নদীর গভীরতা অনেক বেশি হওয়ায় তাঁদের পক্ষে সেখানে কাজ করার সক্ষমতা নেই। এই কারণে আপাতত প্রকল্পটি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিকল্প খাল খুঁজছি। বিকল্প কোনো খাল পাওয়া গেলে সেখানে পুনঃখননের কাজ শুরু করা হবে।’
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com