১২ মে ২০২৬
preview
আমির-পুত্র জুনাইদের মন্তব্যে সরগরম বলিউড

বিএনএন ডেস্ক

বলিউডে তারকা সন্তানদের পথচলা সবসময় মসৃণ হয় না। কেউ প্রথম ছবিতেই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পান, আবার কাউকে নিজের অবস্থান গড়তে বছরের পর বছর লড়তে হয়। আমির খানের ছেলে জুনাইদ খান এখন সেই সংগ্রামের মধ্য দিয়েই যাচ্ছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলিউডের ‘স্টার কিড’ হওয়ার কঠিন বাস্তবতা নিয়ে মুখ খুলেছেন, যা বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর কথায়, বাবার বিশাল পরিচিতি যেমন নতুন সুযোগ তৈরি করে, তেমনি অনেক সময় তা এক বিশাল ছায়া হয়ে ব্যক্তিগত সত্তাকে আড়াল করে ফেলে।

‘এক দিন’ ছবির ব্যর্থতা ও এক তরুণ অভিনেতার স্বীকারোক্তি
দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাই পল্লবীর বিপরীতে ‘এক দিন’ ছবিটির মাধ্যমে বলিউডে বড় কিছুর প্রত্যাশা করেছিলেন জুনাইদ। কিন্তু বক্স অফিসে ছবিটি দর্শকদের আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়। এ প্রসঙ্গে জুনাইদ জানান, ছবিটি তাঁর ব্যক্তিগতভাবে খুব প্রিয় ছিল এবং অনেকেই এটি পছন্দ করেছেন, কিন্তু সাধারণ দর্শকদের বড় একটি অংশ এটি গ্রহণ করেনি। তাঁর মতে, শোবিজে এমন ব্যর্থতা জীবনেরই অংশ।

এই স্বল্প কথার আড়ালে লুকিয়ে আছে বলিউডের এক রূঢ় সত্য—কঠোর পরিশ্রম আর দীর্ঘ সময়ের সাধনার পরও শেষ সিদ্ধান্তটি আসে দর্শকদের কাছ থেকেই। জুনাইদ আরও জানান, বাবা আমির খান মূলত আবেগের বশবর্তী হয়েই ছবিটি প্রযোজনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। প্রথমে অন্য এক পরিচালকের সঙ্গে কাজ শুরু করার কথা থাকলেও চিত্রনাট্য শোনার পর আমির খান নিজেই ছেলের জন্য ছবিটি তৈরি করতে আগ্রহী হন।

জুনাইদের বক্তব্যে উঠে এসেছে এক গুরুত্বপূর্ণ দিক। একজন বাবা হিসেবে আমিরের কাছে বিষয়টি আবেগের হলেও, একজন নবাগত অভিনেতার কাছে এটি ছিল ক্যারিয়ারের গতির প্রশ্ন। জুনাইদ অকপটে জানান, তাঁর বাবা অত্যন্ত দক্ষ প্রযোজক হওয়া সত্ত্বেও একটি প্রজেক্ট শেষ করতে দীর্ঘ সময় নেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে একজন নতুন অভিনেতার জন্য নিয়মিত পর্দায় থাকা অত্যন্ত জরুরি। তিনি মজা করে বলেন, বাবা তিন-চার বছর পর পর একটি ছবি করতে পারেন, কিন্তু তাঁর নিজের এখন ঘনঘন কাজের প্রয়োজন। এখানে আমির খানের ‘পারফেকশনিস্ট’ স্বভাবের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের গতির একটি পার্থক্য স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

বাড়িতে আমি সন্তানদের কাছে বাবার চেয়ে বন্ধুর মতোই বেশি: আমির খান

নেপোটিজম নিয়ে বলিউডে বিতর্ক থাকলেও জুনাইদ নিজেকে প্রচারের আড়ালে রাখতেই পছন্দ করেন। তাঁর অভিনীত ‘মহারাজ’ প্রশংসা কুড়ালেও বক্স অফিসে পরবর্তী ছবিগুলো খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। ফলে আমির-পুত্র হিসেবে নয়, বরং একজন স্বতন্ত্র অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করাই এখন তাঁর বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া সহ-অভিনেত্রী সাই পল্লবীর কাস্টিং নিয়ে ওঠা বিতর্কও নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। জুনাইদের মতে, সাই পল্লবী তাঁর কাজ নিয়ে অত্যন্ত খুঁতখুঁতে এবং তাঁর বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সহকর্মীর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি জানান, সাইয়ের অভিনয়ে পুরো টিমই মুগ্ধ ছিল।


সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।

ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com