১২ মে ২০২৬
preview
পনেরো দিন আগে শেষবার পাতে মাছ জুটেছিল মুচি কাঙ্গাল দাসের

বিএনএন ডেস্ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নাটগড় থেকে জীবিকার সন্ধানে দশ বছর আগে চট্টগ্রামে পাড়ি জমান কাঙ্গাল দাস। ছয় সদস্যের বড় পরিবার তার। চার মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন সম্প্রতি। কিন্তু চরম দারিদ্র্যের কারণে মেজো মেয়েকে ষষ্ঠ শ্রেণির বেশি পড়াতে পারেননি। তার তৃতীয় মেয়েটি এখন দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ছে।

বেলা তখন তিনটা, তীব্র গরমে রাস্তার পিচ গলে যাওয়ার মতো অবস্থা। এমন বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই জুতা সেলাইয়ের সরঞ্জাম নিয়ে ফুটপাতে বসেছেন ৪৫ বছর বয়সী কাঙ্গাল দাস। স্ত্রী কর্মস্থলে যাওয়ায় তিন বছর বয়সী ছোট মেয়ে মিতু রানিকেও সঙ্গে আনতে হয়েছে। ভ্যাপসা গরমে ঘেমে একাকার হয়ে বাবার কোলেই ঘুমিয়ে পড়েছে শিশুটি। ঘুমন্ত মেয়েকে আগলে রেখে কাঙ্গাল দাস পথ চেয়ে থাকেন, যদি কোনো খদ্দের জুতা সারাতে আসেন।

গত সোমবার চট্টগ্রামের সিটি গেট সংলগ্ন একটি কলেজের সামনে কাঙ্গাল দাসের সাথে আলাপকালে উঠে আসে তার জীবনযুদ্ধের গল্প। তিনি জানান, বর্তমানে মানুষের জুতা পালিশ বা সেলাই করার চাহিদা কমে গেছে। ফলে আয়ও তলানিতে। সংসার চালাতে তিনি এখন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতার কাজও করেন, যেখান থেকে মাসে সাড়ে তিন হাজার টাকা পান। আর রাস্তায় বসে কোনো দিন ৫০ টাকা, আবার কখনো ২০০ টাকা রোজগার হয়।

‘যা রোজগার করি তা দিয়ে সংসার চালানো দায়। নিজের আয়ে ঘর ভাড়ার টাকাই ওঠে না। বাধ্য হয়ে স্ত্রীকে গার্মেন্টসে কাজে পাঠিয়েছি। তার পাওয়া সাত হাজার টাকা দিয়ে বাসা ভাড়া মেটাই আর আমার আয়ে কোনোমতে বাজার করি।’
কাঙ্গাল দাস, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম

দশ বছর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা কাঙ্গাল দাস এখন চট্টগ্রামের হাজি ক্যাম্প এলাকার একটি ভাড়া বাসায় সপরিবারে থাকেন। প্রতি মাসে ঘর ভাড়া দিতে হয় ছয় হাজার টাকা। বড় মেয়ের বিয়ের জন্য নেওয়া ঋণের বোঝা এখনো তার কাঁধে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘সংসারের খরচ মেলাতে গিয়ে আমি হাঁপিয়ে উঠছি। নিজের আয়ে কুলিয়ে উঠতে পারি না বলেই স্ত্রীকে কাজে পাঠাতে হয়েছে।’

স্ত্রী কাজে চলে যাওয়ায় ছোট মেয়েকে নিজের কাছেই রাখেন কাঙ্গাল। প্রতিদিন বাসা থেকে আলুভাজি বা সবজি দিয়ে দুপুরের ভাত নিয়ে বের হন তিনি। তিনি বলেন, ‘মাছ-মাংসের যে দাম, তা আমাদের সাধ্যের বাইরে। দুই সপ্তাহ আগে একবার মাছ দিয়ে ভাত খেয়েছিলাম। এখন ডাল আর সবজি দিয়েই কোনোভাবে দিন পার করছি, যদিও সবজির দামও এখন অনেক চড়া।’


সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।

ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com