বিএনএন ডেস্ক
রাজশাহীতে চুরির অপবাদ দিয়ে এক যুবককে গাছে বেঁধে পেটানোর ঘটনায় অভিযুক্ত একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তবে এই মামলায় আটক অন্য এক কিশোরকে পুলিশ হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার নথিতে ওই আসামির বয়স ২২ বছর উল্লেখ করা হলেও সে আসলে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক এসএসসি পরীক্ষার্থী। ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মুহিন (১৮) নগরীর কাজলা এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে, থানা থেকে মুক্তি পাওয়া তরুণের নাম মামলার ৫ নম্বর আসামির তালিকায় ছিল এবং সেখানে তাঁর বয়স ২২ বছর দেখানো হয়েছিল। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ তাঁদের দুজনকে পৃথক স্থান থেকে আটক করেছিল।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, ওই কিশোর এজাহারভুক্ত হলেও নির্যাতনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল না। বর্তমানে তার এসএসসি পরীক্ষা চলছে—এমন মানবিক বিবেচনায় ওসি তাকে ছেড়ে দিয়েছেন। তবে অন্য আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, ওই তরুণকে মামলার দায় থেকে রেহাই দিতে আদালতে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এজাহারে ভুল বয়স উল্লেখ করা হয়েছিল। বর্তমানে মামলার বাকি পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।
এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আরএমপির মুখপাত্রের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
উল্লেখ্য, গত রোববার রাজশাহী মহানগরীর কাজলা বিলপাড়া এলাকায় তুষার নামের এক যুবককে চোর সাজিয়ে গাছের সাথে বেঁধে মারধর করা হয়। নির্যাতনের সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল হলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। মারধরের একপর্যায়ে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিবারের সদস্যরা তুষারকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এই ঘটনায় গতকাল রাতে তুষারের বাবা নাজির আলী বাদী হয়ে মতিহার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। মুহিন ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন—শামীম, হৃদয় ও আশিক, যারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ৯ মে রাতে হৃদয়সহ কয়েকজন তুষারকে খুঁজতে তাঁর বাড়িতে যায়। তুষারকে না পেয়ে তাঁরা তাঁর বাবার কাছে হুমকি দিয়ে আসেন যেন এ বিষয়ে কোনো সুপারিশ না করা হয়।
পরদিন ১০ মে সকালে তুষার বিষয়টি জানতে হৃদয়ের বাড়িতে গেলে তাঁকে ধরে নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com