১২ মে ২০২৬
preview
জর্ডানে প্রতারকদের জন্য ‘স্বর্ণখনি’ হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া

বিএনএন ডেস্ক

জর্ডানে ভুয়া অনলাইন বিজ্ঞাপন এবং সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপের মাধ্যমে মানুষকে ‘দ্রুত মুনাফা’ এবং সস্তায় সোনা দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। অর্থ হস্তান্তরের পরপরই বিক্রেতারা উধাও হয়ে যাচ্ছে অথবা গ্রাহকদের নিম্নমানের ও নকল সোনা দিয়ে প্রতারণা করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
মোহাম্মদ নাসার নামে এক ব্যক্তি জানান, একটি ‘অনলাইন স্টোর’ তাকে বাজারদরের চেয়ে কম দামে সোনা দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তারা দাবি করেছিল, তাদের কোনো মজুরি খরচ, সরকারি লাইসেন্স ফি বা দোকান ভাড়া নেই বলে তারা সস্তায় পণ্য দিতে পারছে।
ভালো সুযোগ ভেবে জর্ডানের ওই ক্রেতা টাকা পাঠিয়ে দেন। এর পরপরই ওয়েবসাইটটি বন্ধ হয়ে যায় এবং নাসার বুঝতে পারেন তিনি বড় ধরণের প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
অন্য একটি ঘটনায়, টালা আল-হাবাশনেহ নামে এক নারী জানান যে তিনিও একটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে সোনা কেনেন এবং বিক্রেতার সাথে কথা বলে নির্ধারিত অর্থ পাঠিয়ে দেন।
পণ্যটি হাতে পাওয়ার পর তিনি দেখতে পান যে তার কেনা সোনাটি ছিল নকল এবং অন্যান্য সস্তা ধাতুর মিশ্রণ। এতে কোনো সরকারি সিল বা বৈধ রশিদও ছিল না।
টালা তৎক্ষণাৎ জর্ডানের জননিরাপত্তা অধিদপ্তরের সাইবার ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
সরকারি নজরদারি
জর্ডান স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড মেট্রোলজি অর্গানাইজেশনের (জেএসএমও) অলঙ্কার শাখার পরিচালক ওয়াফা আল-মোমানি জানান, জর্ডানে সোনা, রূপা ও প্ল্যাটিনামের মতো মূল্যবান ধাতুর অলঙ্কার এবং এর ব্যবসা পর্যবেক্ষণের একমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা হলো তাদের এই প্রতিষ্ঠান।
তিনি জানান, আমদানিকৃত সকল অলঙ্কার বাজারে ছাড়ার আগে জেএসএমও দ্বারা পরীক্ষা এবং সিল করা হয়। একইভাবে স্থানীয় কারখানাসমূহকেও বিক্রির আগে তাদের তৈরি অলঙ্কার যাচাইয়ের জন্য জমা দিতে হয়।
আল-মোমানি বলেন, তার সংস্থা বেশ কিছু ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ পেয়েছে যারা লাইসেন্সবিহীন ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিশেষ করে পুরনো বা ভাঙা সোনা কেনাবেচার প্রচারণা চালাচ্ছে।
লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকানের বাইরে যেন কোনো অলঙ্কার বিক্রি না হয়, তা নিশ্চিত করতে জেএসএমও নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে প্রতারক বিক্রেতাদের ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে।
আল-মোমানি জানান, জেএসএমও স্বর্ণের দোকানগুলোর ওপর নজরদারি জোরদার করেছে। কোনো দোকানে সিলবিহীন বা মানহীন সোনা পাওয়া গেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও সতর্ক করেন যে, অনানুষ্ঠানিক উৎস থেকে সোনা কিনলে তার সঠিক গুণগত মানের কোনো নিশ্চয়তা থাকে না।
অলঙ্কার ও সম্পদ
জর্ডান অ্যাসোসিয়েশন অফ জুয়েলারি অ্যান্ড গোল্ডস্মিথসের প্রধান রাভি অ্যালান ব্যাখ্যা করেন যে, জর্ডানের মানুষের কাছে সোনা সঞ্চয় ও বিনিয়োগের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় মাধ্যম। এখানে একটি প্রচলিত কথা রয়েছে— ‘স্বর্ণ হলো সৌন্দর্য ও সম্পদ।’
তবে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে স্বর্ণ বিক্রিকে জর্ডানের সমাজের জন্য একটি অস্বাভাবিক বিষয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই মূল্যবান পণ্যের লেনদেন কেবল বৈধ দোকান থেকে রশিদের মাধ্যমে হওয়া উচিত যেখানে পণ্যের ওজন ও ক্যারেট স্পষ্ট লেখা থাকবে।
তিনি জানান, তাদের সমিতি বেনামী সাইটগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। এসব পেজ হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যায়, ফলে ভুক্তভোগীরা তাদের অধিকার আদায়ে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না।
সমিতি এ পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বর্ণ বিক্রির অসংখ্য ভুয়া অফার ও প্রতারণার অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে, যেখানে প্রায়ই সম্পাদিত বা কৃত্রিম ছবি ব্যবহার করে ক্রেতাদের প্রলুব্ধ করা হয়।
অনেকে বাজারদরের চেয়ে অবিশ্বাস্য কম দামে সোনা দেওয়ার লোভ দেখায়, কিন্তু বাস্তবে সেই পণ্যগুলো হয় নকল থাকে অথবা তাতে সোনার পরিমাণ বিজ্ঞাপনের চেয়ে অনেক কম থাকে।
তিনি নাগরিকদের কেবল স্বীকৃত দোকান থেকে সোনা কেনার আহ্বান জানান, যারা সঠিক মূল্যে পণ্য বিক্রি করে এবং যথাযথ রশিদ প্রদান করে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বর্ণ বিক্রির সাথে কোনো অবৈধ অর্থ লেনদেনের সম্পর্ক আছে কি না জানতে চাইলে অ্যালান বলেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং এর সাথে মানি লন্ডারিংয়ের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
নিরাপত্তা সতর্কতা
জননিরাপত্তা অধিদপ্তরের সাইবার ক্রাইম ইউনিটও সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বর্ণ কেনা নিয়ে নাগরিকদের সতর্ক করেছে এবং এ সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
জননিরাপত্তা অধিদপ্তরের মুখপাত্র কর্নেল আমের আল-সারতাবি জানান, অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—টাকা পাঠিয়ে দেওয়ার পর বিক্রেতা উধাও হয়ে যাওয়া অথবা আসল সোনার পরিবর্তে তামা বা লোহার তৈরি নকল অলঙ্কার সরবরাহ করা।
আল-সারতাবি সাধারণ মানুষকে এ ধরনের পেজ থেকে দূরে থাকার এবং কেবল লাইসেন্সধারী দোকান থেকে সোনা কেনার পরামর্শ দিয়েছেন।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা


সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।

ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com